RSS

গো গোয়া গোঁয়ার

চারশো ছেষট্টি কিলোমিটার (~ দশ ঘন্টা) গাড়ি চালিয়ে পুণে থেকে গোয়া যাওয়ার কথা শুনে অনেকেই আমাদের গোঁয়ার ভেবেছিল, বিশেষত বাড়ির লোক। অতক্ষণ কী করে চালাবি? (যেভাবে চালায়, স্টিয়ারিং ধরে), গা হাত পা ব্যাথা হবে (ব্রেক নিয়ে চালালে হবে না), শরীর খারাপ হয়ে যাবে (কেন, গাড়ির ভেতর রোদ বৃষ্টি কিছুই নেই, দিব্যি এসি চলে), গিয়ে ঘোরার এনার্জি থাকবে না (একবেলা রেস্ট নেওয়ার প্ল্যান আছে), ইত্যাদি যুক্তিমালা সাজাবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে অগত্যা তাঁরা হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন। গোঁয়ার্তুমির কাছে হেরে গিয়ে বোধহয় ঠাকুরঘরে ইষ্টনাম জপ করছিলেন। গোঁয়াররা এদিকে ষষ্ঠীর দিন ঠাকুরের বোধন, বরণ, অস্ত্রদান সব দর্শন করে ভাল করে চপ-এগরোল খেয়ে এনার্জি সঞ্চয় করে বেরোনোর জন্যে তৈরি হচ্ছিল।

img_3201

ভোর চারটেয় বেরোতে হবে, তবেই ব্রেক-ট্রেক মিলিয়ে দুপুর দুটো নাগার গোয়ার হোটেলে পৌঁছনো যাবে। রোজকার মত অ্যালার্মকে স্নুজে না দিয়ে দুজনেই তড়াক করে উঠে পড়লাম। প্রাত্যঃকৃত্য সেরে খাবার-জল-ওষুধ গুছিয়ে জয় মা বলে চারটে কুড়ি নাগাদ রওনা দিলাম। পুণেতে ভোরের আলো ফোটে সাড়ে ছটা নাগাদ, অতএব প্রায় দু ঘন্টা অন্ধকারে চালাতে হবে। কত্তামশাই চোখ-টোখ কচলে মুখে চিউয়িং গাম দিয়ে চালানো শুরু করলেন। পুণে-সাতারা হাইওয়েতে প্রথম একশো কিলোমিটার রাস্তা বেশ বাজে, এদিক ওদিক খোঁড়াখুঁড়ি আর ডাইভার্শানে ভর্তি। তার ওপর গাঁক গাঁক করে প্রচুর ট্রাক চলছে। দু একবার মনে সন্দেহ এসেছিল, যে পুরো রাস্তাটা এরকম খারাপ থাকলে তো সত্যিই শরীর খারাপ হয়ে যাবে পৌঁছনো অব্দি। অন্ধকারে বুক দুরুদুরু করে বেশ কিছুটা পশ্চিম ঘাটের পাহাড়ি প্যাঁচানো রাস্তা পেরোনো গেল ট্রাকের পেছন পেছন। পাহাড় থেকে সুরুর বলে জায়গাটায় নামতেই মেঘলাচ্ছন্ন এক অপূর্ব সূর্যোদয় দেখলাম।

Read the rest of this entry »

 
3 Comments

Posted by on October 21, 2016 in ঘোরা ফেরা, রচনা

 

Tags: , , , , , , , , , , , , , ,

পুজো মানে…

আসলে পুজোর মানে নিয়ে অনেক লেখাজোখা হয়েছে এবং চলছে। যে যার আপন মনের মাধুরী মিশায়ে লিখে গেছে কীভাবে পুজো মানে কাশফুল, শরতের আকাশ, মহালয়া, ঠাকুর দেখা, প্রেম, এগরোল ফুচকা, ইত্যাদি প্রভৃতি। কারওর কাছে দূর্গা পুজো মানে দেবীর আরাধনা, কারওর কাছে শুধুই মজা আর ‘মস্তি।’ বাঙালীর বারো মাসে তেরো পার্বণ হলেও ‘পুজো’ কথাটা মাথায় আসলেই আপামর বাঙালী দূর্গা পুজো বলে হামলে পড়ে।

বছর দশেক আগে জীবনে প্রথমবার পুজোয় বাড়ির বাইরে ছিলাম, তায় আবার বিদেশে। মন মেজাজ সবই প্রকান্ড রকম খারাপ ছিল। কিন্তু সেবারে শুধু বন্ধুদের জন্য পুজোটা অন্যরকম হয়ে উঠেছিল। জনা তিরিশেক তরুণ-তরুণী মিলে যদি কিছু ঠিক করে তাহলে পঙ্গুও গিরি লঙ্ঘন করতে পারবে, একটা পুজোর আয়োজন করা তো জলভাত। ছ ইঞ্চিখানেকের ঠাকুরকে পুজো করেও যে আনন্দটা দেশপ্রিয় পার্ক লেভেলের হতে পারে সেটা এক দশক আগেই প্রমাণ হয়ে গেছে।

dsc08413

দেশ হোক বা বিদেশ, বাঙালী যেখানেই থাকুক, পুজো মানে অনেকের কাছেই অনেক কিছু। কলকাতার পুজো যে তুলনাহীন, সেটা আমি মানলেও অনেকে মানেন না। এরকম অনেক প্রবাসী বন্ধু আছে যারা জীবনে কলকাতার পুজো দেখেনি কিন্তু তাদের নিজের নিজের শহর/এলাকা/হাউজিং ঘিরে পুজোর উন্মাদনা দেখলে অবাক হতে হয়।

Read the rest of this entry »

 
Leave a comment

Posted by on October 7, 2016 in রচনা

 

Tags: , , , , , , , , , , , ,

চার, ছিপ ও জালের গল্প

ঘুম থেকে উঠে আড়মোড়া ভেঙে ঐশী দেখল বিকেল পাঁচটা বাজে। এক্ষুণি গৌরবের আসার সময় হয়ে যাবে। আজ বুধবার। গত কয়েক মাস ধরেই এই সময়ে আসছে গৌরব। ঘন্টাখানেকের মধ্যেই কাজ সেরে চলে যায় সে। ঐশী খুব বেশি সেজে থাকে না অবশ্য, শিফনের শাড়িই তার পছন্দ, ফস করে একটানে খুলে ফেলা যায়। সঙ্গে সরু একচিলতে ফিতের মত ব্রা-কাট ব্লাউজ, যা একটা হুকের ওপর বিপজ্জনকভাবে টিঁকে থাকে কোনোমতে।

ঐশীর স্বামী বিনায়ক এলাকার সাংসদ, সর্বদাই কাজে ব্যস্ত। গুণে হয়ত কয়েক ঘন্টা বাড়িতে থাকে। কাজেই গৌরবের আসা নিয়ে ঐশীর কোনো চাপ হয়না। ব্যায়াম শিক্ষক হিসেবে সে প্রতি বুধবার বিকেলে আসে, সেই এক ঘন্টা বাড়ির চাকরদের দোতলায় ওঠা বারণ। গৌরবের খোঁজ ঐশী পেয়েছিল মিসেস বক্সীর কাছে, তাঁর বাড়িতে একটা পার্টিতে। মিস্টার বক্সী বিনায়কের পার্টির রাজ্য সম্পাদক, মানীগুণী মানুষ। তাঁর স্ত্রী পার্টি থ্রো করলে ঐশীকে যেতেই হয়। মধ্যবয়স্কা মিসেস বক্সীকে চারটে ককটেলের পর একা পেয়ে সে জিজ্ঞ্যেস করেছিল, ‘এত বড় বাড়িতে আপনি একা থাকেন, মানে আপনাদের তো কোনো ইস্যুও নেই, কী করে সময় কাটান?’

মিসেস বক্সী কিঞ্চিৎ চটুল মহিলা। হালকা চোখ টিপে তাকে বলেছিলেন, ‘সময় কাটানোর উপায় তোমাকেও দিতে পারি।’ বলে তাকে গৌরবের ফোন নম্বর দিয়েছিলেন। ঐশী প্রথমে বুঝতে পারেনি ব্যায়াম শিক্ষক দিয়ে সে কী করবে। তার ছিপছিপে তিরিশোর্ধ্ব শরীরে ব্যায়ামের খুব একটা প্রয়োজন নেই। একাকীত্ব কাটাতে গৌরবকে একদিন ডেকেই নিয়েছিল। যে ব্যায়াম সে শিখিয়েছিল, বর্তমানে সেটার বেশ অভাব ঐশীর জীবনে। তাদের সন্তান হওয়ার পর থেকে বিনায়কের কাজের চাপ আরো বেড়ে গেছে, আরো নিরাসক্ত হয়ে গেছে সে। ছেলে হওয়াতে ঐশীর প্রয়োজন বোধহয় ফুরিয়ে এসেছে তার কাছে। যদিও ছেলে ছ’বছরের হতেই তাকে বোর্ডিং স্কুলে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিনায়ক নাকি চায় না তার রাজনৈতিক কীর্তিকলাপের প্রভাব ছেলের ওপর পড়ুক।

আজ বুধবার, গৌরবের আসার দিন। লম্বা দোহারা চেহারার কমবয়েসী ছেলেটিকে ঐশী একদিন জিজ্ঞ্যেস করেছিল, ‘আচ্ছা, আপনার আসল নাম কি গৌরব? এই পেশায় কেন এলেন?’ স্বভাবে শান্ত এবং প্রচন্ড মিতভাষী গৌরব বলেছিল, ‘আমার নাম নরেন নস্কর হলে কি আপনার ভাল লাগত, ম্যাডাম? তাছাড়া আমাদের লাইনে আসল নাম বলা বারণ। কাজে কোনো ভুল হলে আপনি বলতে পারেন।’ কাজটা, বলাই বাহুল্য, গৌরব বেশ ভালই শিখে এসেছে। প্রেমের চৌষট্টি কলা জানা পুরুষ যে কত লোভনীয় হতে পারে সেটা ঐশী এই প্রথম জানল। তার প্রতিটি রন্ধ্র জাগিয়ে দিয়ে যায় গৌরব, যাতে সে প্রতি বুধবারের অপেক্ষায় থাকে।

আজ গৌরব যেন আরো বেশি ধৈর্য্যশীল, আরো বেশি চায় সে – দিতে এবং নিতে। ঐশীকে একটু একটু করে জাগিয়ে তুলে, খেলিয়ে খেলিয়ে সে কামনার চূড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। যে মুহুর্তে ঐশী আর নিজেকে ধরে রাখতে পারছে না, আবেশে তার চোখ বন্ধ, তার ভেতরে গৌরব – ঠিক সেই মুহুর্তে একটা ছোট্ট ধারালো ছুরি নির্ভুলভাবে তার হৃদপিন্ড ভেদ করে গেল। নিপুণ দক্ষতায় নিজেকে হারিয়ে ফেলার আগেই গৌরব বেরিয়ে এল ঐশীর ভেতর থেকে। ছুরির বাঁট থেকে আঙুলের ছাপ মুছে ফেলল, তার কাজ শেষ।

ম্যাডামের সঙ্গে অভিনয় করতে শেষের দিকে গৌরবের একটু খারাপই লাগছিল। মহিলা জেনেও গেলেন না যে বিনায়ক বসু, সাংসদ, তাঁর স্বামীই গৌরবকে এই অ্যাসাইনমেন্টটা দিয়েছিলেন। কেন, সেটা সে জানে না অবশ্য।

knife

 
1 Comment

Posted by on September 15, 2016 in অণু গল্প, গল্প

 

Tags: , , , , , , , ,

ঈগলের চোখ

এই আলোচনা লেখার জন্যে কেউ আমাকে একটাও টাকা/ডলার/পাউন্ড/বিটকয়েন দেয়নি। সিনেমা বোদ্ধা/আঁতেল নই, শুধুমাত্র দর্শক হিসেবে বক্তব্য পেশ করছি।

eagle

ডিটেলঃ

ভাষা – বাংলা, রিলিজ তারিখ – ১২ই অগাস্ট ২০১৬, দৈর্ঘ্য – ১ ঘন্টা ৫৭ মিনিট, ছবি – রঙীন, সঙ্গীত – বিক্রম ঘোষ, চিত্রনাট্য/পরিচালনা – অরিন্দম শীল, সম্পাদনা – সুজয় দত্ত রায়, মূল গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, অভিনয়ে – শাশ্বত, অনির্বাণ ভট্টাচার্য্য, শুভ্রজিত, গৌরব, পায়েল সরকার, রিয়া বণিক, জয়া আহসান, উষসী সেনগুপ্ত, অরুণিমা ঘোষ।

আলোচনাঃ

download-1এবার শবর বানানোর জন্যে অরিন্দম শীলের কাছে আমি কৃতজ্ঞ ছিলাম কারণ উনি শবরকে বড় পর্দায় আনলেন। বাংলা সাহিত্যে প্রচুর গোয়েন্দা থাকলেও, সিনেমাতে ফেলুদা-ব্যোমকেশ ছাড়া কেউই কল্কে পাননি। তিনরকমের ফেলুদা আর চার-পাঁচরকমের ব্যোমকেশকে দেখে গত বছর থেকেই মনে হচ্ছিল আর কি কোনো ক্যারিশম্যাটিক গোয়েন্দার কথা বাংলা সাহিত্যিকরা লিখে যাননি যাদের বড় পর্দায় দেখেও ভাল লাগবে? শবর সে খামতি খুব ভালভাবে পূরণ করেছেন। এবার শবর আর ঈগলের চোখ – দুটি ছবিরই মূল গল্প পড়েছি – ঋণঈগলের চোখ। সমস্য হচ্ছে, ঋণ একটি চমৎকার উপন্যাস হওয়াতে পরিচালকের কাজটা বোধহয় একটু সহজ হয়ে দিয়েছিল। সে তুলনায় ঈগলের চোখ উপন্যাস নয়, বড়গল্প। এবং তার গুণগত মান একটু কমা। মূল গল্পটা কিছুটা পড়লে পাঠক চট করে ধরে ফেলবেন অপরাধী কে। ছবিটা দেখেও সেটা আন্দাজ করতে কারুর খুব একটা অসুবিধে হবে না। এখানেই কিস্তিমাত করেছেন অরিন্দম শীল। একটা সাধারণ গল্পের মান বেশ খানিকটা বাড়িয়ে তাকে একটা ভাল ছবিতে পরিণত করেছেন। মূল গল্পটা পুরোটাই প্রায় সংলাপে এগোয়। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের অসামান্য লেখনীতে তরতরিয়ে এগোলেও বাঁধুনিতে একটু আলগা। যখন শুনলাম এই গল্পটা নিয়ে ছবি হচ্ছে, বেশ অবাকই হয়েছিলাম। শবরের যে গুটিকয় গল্প আছে, তার মধ্যে ঈগলের চোখের চেয়ে ভাল গল্পও আছে।

Read the rest of this entry »

 
3 Comments

Posted by on September 9, 2016 in সিনেমালোচনা

 

Tags: , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

গোয়েন দা

এই আলোচনা লেখার জন্যে কেউ আমাকে একটাও টাকা/ডলার/পাউন্ড/বিটকয়েন দেয়নি। সিনেমা বোদ্ধা/আঁতেল নই, শুধুমাত্র দর্শক হিসেবে বক্তব্য পেশ করছি।

goenda

ডিটেলঃ
ভাষা – বাংলা, রিলিজ তারিখ – ৭ই অগাস্ট ২০১৬, দৈর্ঘ্য – ২ ঘন্টা ৩০ মিনিট, ছবি – রঙীন, সঙ্গীত –রাজা নারায়ণ দেব, চিত্রনাট্য/পরিচালনা ও সম্পাদনা – প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য্য, অভিনয়ে – রাহুল, সোহিনী সরকার, ঋত্বিক চক্রবর্তী, সায়ন, ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, শাওন।

আলোচনাঃ
প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য্যের একটি টেলি ও একটি ফিচার ফিল্ম দেখে আমি যথেষ্ট ফ্যান হয়ে গেছি ওঁর পরিচালনার। প্রথমে ‘বাকিটা ব্যক্তিগত’ ও তারপর ‘পিঙ্কি আই লাভ ইউ’ বেশ গভীর ছাপ ফেলেছিল আমার মনে। ম্যাজিক রিয়ালিটি বা সুররিয়ালিজম নিয়ে একটা সুন্দর খেলা করার অভ্যেস ওঁর আছে যেটা বাংলা সিনেমায় আপাতত বিরল। ‘বাকিটা ব্যক্তিগত’-এর মোহিনী গ্রামের কথা নিশ্চয়ই সবার মনে আছে, যেখানে গেলে প্রত্যেকের প্রেম হয়। যেখানে প্রেম কাউকে ফেরায় না। অত সুন্দর একটা কনসেপ্টের পর প্রদীপ্ত ফিরলেন ‘গোয়েন দা’ নিয়ে। হ্যাঁ, ফিরলেনই বটে কারণ বহুদিন ওঁর পরিচালনায় কোনো ছবি বেরোয়নি। জি বাংলা ওরিজিনালসে ‘গোয়েন দা’র প্রোমো দেখে অবশ্য জানতাম না যে এটি প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য্যের ছবি। রাহুল একাই কারণ হয়ে উঠেছেন কোনো ছবিকে দেখা বা না দেখার লিস্টে রাখার জন্যে।

Read the rest of this entry »

 
Leave a comment

Posted by on August 8, 2016 in সিনেমালোচনা

 

Tags: , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

বর্ষা ও ইলিশ

বর্ষার সঙ্গে ইলিশের সম্পর্কটা ঠিক স্বামী-স্ত্রীর মত না প্রেমিক-প্রেমিকার মত সেটা অনেক বছর ধরেই ভাবাচ্ছে। বহুকাল আগে আমার শৈশবে গঙ্গার ইলিশ বলে লুপ্তপ্রায় জিনিসটা তাও পাওয়া যেত। ভোর চারটের সময় ঝাঁকায় করে ইলিশ তুলে যখন ঝপ করে গঙ্গার পাড়ে ফেলা হত, মনে হয়না সেই রুপোলি শস্য বেশিক্ষণ পড়ে থাকত। আমার বাবাও ঘোর বর্ষায় ভোরে উঠে ইলিশ আনতে গেছে কয়েকবার। অন্যান্য সময় বাজারের চেনা, একটু সখ্যতা হয়ে যাওয়া মাছওয়ালাকে আগে থেকে বলে রাখা, ‘শোন গৌরাঙ্গ, অমুক রোববার বাড়িতে অতিথি আসছে, আমার কিন্তু দু কিলো গঙ্গার ইলিশ লাগবে।‘ – এটা আট-নয় বছরে প্রায় নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে গেছিল। সেই ট্র্যাডিশন এখনও চলিতেছে, তবে গঙ্গাটা বদলে কোলাঘাট/ডায়মন্ড হারবার হয়ে গেছে। বাবার মত এখন শ্বশুরমশাইও বাজারে বলে রাখেন, ‘শোন হরি, আমি ছেলের কাছে পুণেতে যাচ্ছি, ভাল দেখে ইলিশ একটু রেডি রাখিস, নিয়ে যাব।’

গড়িয়াহাটে রাজুর দোকানে ইলিশের সম্ভার

গড়িয়াহাটে রাজুর দোকানে ইলিশের সম্ভার

গত বর্ষায় কলকাতায় থাকার সুবাদে গড়িয়াহাট বাজারে ইলিশের বাহার দেখার সুযোগ হয়েছিল। সেখানে রাজুর দোকানে আইস বক্সে রাখা থাকে বাংলাদেশের চাঁদপুরের ইলিশ। তার চেহারা আর দাম দুটোই দারুণ ভাল, তাই স্বাদ চাখার সাহস হয়নি। রাজুর ভাঁড়ারে কোলাঘাট বা ডায়মন্ড হারবার-এর অ্যাসর্টেড কালেকশন থেকে ৫০০/৭০০/১০০০ দিয়ে ইলিশ কিনে প্রাণভরিয়ে তৃষাহরিয়ে খেয়েছি। রাজুর অ্যাসিস্ট্যান্ট বিজু একবার বলেছিল, ‘দাদা, ভাল মাছটা দিচ্ছি নিয়ে যান। আজকেই একটু কাঁচা খাবেন, দু পিস আপনি, দু পিস বৌদি।’ ব্যাপারটা ইলিশ হলেও কাঁচা খাবার প্রস্তাবে বেশ ঘাবড়ে গেছিলাম।

Read the rest of this entry »

 
Leave a comment

Posted by on July 15, 2016 in খাই খাই, রচনা

 

খাই খাইঃ ক্যালকাটা প্লাস

শোনা যায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কলকাতায় মেসে থাকতেন, পাইস হোটেলে খেতেন রোজ দুপুরে। পেটচুক্তিতে পেট ভরে ভাত, ডাল, ভাজা, তরকারি, মাছ, চাটনি। সেইসব হোটেলের রান্না হত অতুলনীয়, একেবারে বাড়ির মত বা তার চেয়েও ভাল। বিভিন্ন জেলা থেকে যাঁরা চাকরিসূত্রে কলকাতায় আসতেন, কারুর খাওয়ার অসুবিধে হত না হপ্তায় পাঁচটা দিন, তারপর শনিবারে তাঁরা বাড়ি যেতেন পরিবারের কাছে। ধীরে ধীরে রেস্তোঁরার উদ্ভাবন হওয়াতে পাইস হোটেলের গুরুত্ব কমে আসে শহরে। মধ্যবিত্ত বাবুদের মনে হতে থাকে হোটেলগুলো অপরিষ্কার, বসার জায়গা অপরিসর, সেখানে খেতে যাওয়া তাদের স্টেটাসে ডাউনমার্কেট। স্বাধীনতার পর ডালহৌসির অফিস পাড়ায় আস্তে আস্তে বসতে থাকে পাঁউরুটি-চিকেন স্টু এর স্টল, কাটা ফলের বিস্তৃত ঠেলাগাড়ি, লুচি-ঘুগনির ছোট্ট দোকান। পাইস হোটেলের গুরুত্ব কমতে কমতে এসে ঠেকে শুধু ট্রাক ড্রাইভার, বাসের কন্ডাক্টর, জয়নগর বা পিয়ালী থেকে কলকাতায় কাজের খোঁজে আসা সেইসব তরুণদের জন্যে।

cplus

নিরামিষ থালিঃ ভাত, ডাল, আলু পোস্ত, আলু ফুলকপির তরকারি, আমের চাটনি (ছবিতে নেই)

তা বলে পাইস হোটেল কি একেবারে উঠে গেছে? না। খাস কলকাতায় এখনও পাবেন পাইস হোটেল – রুবি হসপিটালের থেকে নারকেলবাগান বাস স্টপের মাঝের ফুটপাথে ত্রিপল টাঙানো উনুন বসানো দোকান, যাদবপুর থানা থেকে আনওয়ার শাহ রোড কানেক্টরের মোড়ে, বা শিয়ালদার আশেপাশে। যখন আপনি রুবির মোড়ের দিকে ফুটপাথ ধরে হেঁটে যাবেন, গনগনে গ্রীষ্মের বিকেলে বা কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে অফিসের বাস ধরার জন্যে, পাতলা মুসুর ডালে সম্বার দেওয়ার গন্ধ বা রুই মাছ ভাজার সুবাসে ম ম করবে বাস স্টপটা আর আপনার ক্ষিদে পেয়ে যাবেই। যেসব তুচ্ছ দৈনন্দিন ঘ্রাণ আপনি বাড়িতে থাকলে খেয়ালই করেন না, সেগুলো হঠাৎ করে পাইস হোটেল আপনাকে মনে করিয়ে দেবে। স্টিলের থালায় কমদামী মোটা চালের ভাত, পেঁয়াজ পাঁচফোড়ন আর কাঁচালঙ্কা ঘষে দেওয়া মুসুর ডাল, ঝুরিঝুরি আলু ভাজা আর পটল দিয়ে টাটকা মাছের ঝোলের যে কী মহিমা সেটা আপনি নতুন করে জানবেন। আজকালকার হাল ফ্যাশানের ক্যাফে কাম বেকারিতে ঢুকলেই ফ্রেশলি বেকড ব্রেড বা কাপকেকের যে গন্ধ ভেসে আসে, তার থেকে বৌদির দোকানের ডাল ভাত কোনো অংশে কম মনে হবে না।

cal plus1

ছবি নিজস্ব

এত লম্বা গৌরচন্দ্রিকার পর এবার আসল কথায় আসি। প্রবাসে থেকে যে কটা বাঙালি ‘রেস্ট্যুরেন্ট’-এ গেছি, তার মধ্যে দু-একটিকে সত্যিই পাইস হোটেল মনে হয়েছে। অবশ্যই সেগুলো ফুটপাথে ছাউনি ঘেরা কাঠের বেঞ্চ এর উপর স্টিলের বা কলাই করা থালায় খাবার পরিবেশন করে না। তার চেয়ে অনেক ক্ষেত্রেই মানে এবং দামে উন্নত। পাইস হোটেল বলে তাদের কিন্তু কোনো অসম্মান করতে চাইছি না, বরঞ্চ পাইস হোটেলের মতই ভাল ঘরোয়া খাবার এবং পরিবেশনে যে আন্তরিকতা তাদের আছে, তার কথা বলছি। পুণের পিম্পলে সৌদাগরের ক্যালকাটা প্লাস সেই বিভাগে পড়ে। কাউন্টারে বসেন বয়স্ক কাকু, হোম ডেলিভারি করতে যান জামাইদা এবং পুজোর সময় কাকুর স্টল সামলান তাঁর ছেলে।

ক্যালকাটা প্লাস, পিম্পলে সৌদাগর

ঠিকানা – গীতাই মার্কেট, শিভার চৌক, পিম্পলে সৌদাগর, পুণে

ফোন – +৯১-৮৭৯৬২০৭২১৯

বসে খান | আমিষ | সুরারসে বঞ্চিত | ঘরে আনানো যাবে | পাখা আছে এসি নেই

সময় – দুপুর সাড়ে বারোটা থেকে তিনটে, সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত এগারোটা

Read the rest of this entry »

 
3 Comments

Posted by on April 18, 2016 in খাই খাই

 

Tags: , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

প্রেম, তবু

প্রেম, তবু

দৃশ্য একঃ

রাত নটা। ক্লোজ আপে একটি মেয়ে, লম্বা দোহারা শ্যামলা চেহারা। পরণে হালকা টপ আর জিনস, গলায় একটা পাতলা স্কার্ফ জড়ানো, কাঁধে মোটামুটি ঢাউস একটা ব্যাগ। কর্পোরেট অফিসের হিমঘর থেকে বেরিয়ে করিডরের লকার রুমের দিকে হাঁটা দিল। ব্যাগ খুলে চাবি খোঁজার মত সময় নেই তার, নিজের কিউবিক্ল থেকে চাবিটা বের করে হাতে নিয়ে রেডি হয়ে বেরিয়েছে সে। জেলের কয়েদির মত সংখ্যাযুক্ত নিজের লকার খুলে সে অমূল্য জিনিসটি বের করল – স্মার্টফোন। তার কাজের ধরণটাই এমন যে সারাদিন ফোনের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়। এদিকে…গত দশ ঘন্টায় কে কে পিং করেছে কে জানে।

ফোনের স্ক্রিনের ক্লোজ আপ। Whatsapp নোটিফিকেশন ১০৯ , মিসড কল ৩, Twitter আইকনে ২১টা নোটিফিকেশন।

মেয়েটিঃ উফফ, এই স্কুলের গ্রুপের জনতা আবার পাগল হয়ে গেছে মনে হয় আজকে। কী করে যে এত সময় পায় কে জানে! আমি শালা এদিকে অফিস মারাচ্ছি সারাদিন।

একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফোনটা মুঠোয় নিয়ে সে অফিসের বাইরে এল। রিস্টওয়াচে সময়টা দেখল নটা পনেরো। নির্দিষ্ট ক্যাবটি এলে আরো কয়েকজনের সঙ্গে সে খাঁচায় ঢুকে পড়ল। মিনিট পঁচিশের যাত্রার পুরোটাই লাগল তার সব মেসেজ পড়ে ফেলতে। সবগুলোর উত্তর দেওয়া হল না অবশ্য অত কম সময়ে। বাড়ি ঢুকেই সে কাঁধের ঢাউস ব্যাগটা ছুঁড়ে সোফার ওপর ফেলল। ক্যামেরা একটু ঘুরবে সুদৃশ্য ফার্নিশড ফ্ল্যাটের ভেতর। লং এবং ক্লোজ শটে দেখা যাবে মেয়েটির সঙ্গে আরো দুটি মেয়ে থাকে। একজন তার নিজের ঘরে বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে, সামনে ল্যাপটপ। আরেকজন লিভিং রুমে সোফায় বসে হাঁ করে টিভি দেখছে, হিন্দি সিরিয়াল।

মেয়েটি নিজের কোটরে ঢুকে পড়ল। এরপরে কয়েকটি ফ্রেম আলাদা আলাদা দেখা যাবে – তিনটি মেয়ে যে যার ঘরে খাবার বেড়ে নিয়ে খাচ্ছে, রান্নাঘরটা মোটামুটি গোছানো, তৃতীয় মেয়েটি খেয়ে উঠে আবার সিরিয়াল দেখছে, দ্বিতীয় মেয়েটি খাবার পর বাকিদের গুডনাইট বলে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিল, সে এখন তার বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে ভিডিও চ্যাট করবে। বয়ফ্রেন্ডের চেহারাটা আমরা এক ঝলক দেখব মেয়েটির ল্যাপটপের স্ক্রিনে, হালকা মোটকা মাঝারি দেখতে একটি দক্ষিণী ছেলে। সে স্ক্রিন থেকে হাতমুখ নেড়ে এদের হাই হেলো করবে।

Read the rest of this entry »

 
 

Tags: , , , , , , , , ,

ব্যোমকেশ বক্সী

এই আলোচনা লেখার জন্যে কেউ আমাকে একটাও টাকা/ডলার/পাউন্ড/বিটকয়েন দেয়নি। সিনেমা বোদ্ধা/আঁতেল নই, শুধুমাত্র দর্শক হিসেবে বক্তব্য পেশ করছি।

ছবি সৌজন্যেঃ গুগল

ছবি সৌজন্যেঃ গুগল

ডিটেলঃ
ভাষা – বাংলা, রিলিজ তারিখ – ১৬ই অক্টোবর ২০১৫, দৈর্ঘ্য – ১ ঘন্টা ৫০ মিনিট, ছবি – রঙীন, মূল গল্প – শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায়, চিত্রনাট্য – অঞ্জন দত্ত, সঙ্গীত – নীল দত্ত, পরিচালনা – অঞ্জন দত্ত, অভিনয়ে – যীশু সেনগুপ্ত, শাশ্বত চ্যাটার্জী, কৌশিক সেন, শান্তিলাল মুখার্জী, দেবদূত ঘোষ, অঙ্কিতা চক্রবর্তী, চন্দন সেন, সাগ্নিক, প্রান্তিক ব্যানার্জী, জয়জিত ব্যানার্জী, উষসী চক্রবর্তী, প্রিয়াঙ্কা সরকার।

আলোচনাঃ বহুদিন হল সিনেমা নিয়ে কিছু লিখিনি এখানে। কারণ জিজ্ঞ্যেস করিয়া লজ্জা দিবেন না। ল্যাদ এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিকের জন্য গুচ্ছ সিনেমা দেখলেও সব লিখে ফেলা হয় না। তবে ব্যোমকেশ দিয়েই এই ইনিংস শুরু করি। টেলিভিশনে দেখে ফেললাম অঞ্জন দত্ত ও যীশুর ‘ব্যোমকেশ বক্সী।‘ এর আগে অঞ্জন দত্তর তিনটি ছবি আবীরকে ব্যোমকেশ হিসেবে নিয়ে এবং অরিন্দম শীলের ‘হর হর ব্যোমকেশ’ (আবার আবীর) দেখেছি। এত এত বক্সী দেখে নিজেকে পরমহংস মনে হচ্ছে, জলটুকু ছেঁকে ছবি থেকে দুধটুকু তুলে নিতে হবে। কী চাপ!

যেহেতু এর আগে সব মিলিয়ে গোটা পাঁচ-ছয় ব্যোমকেশ হয়েছে গত কয়েক বছরে, এবারে কোনোরকম আশা-প্রত্যাশা-হতাশা-নিরাশা ছাড়াই জাস্ট ছবিটা দেখতে বসেছিলাম। যীশুকে মানাবে কিনা, আদৌ অভিনয় করবেন কিনা, অঞ্জন দত্ত আবার ছড়াবেন কিনা, সব ভাবনা সরিয়ে রেখে সরস্বতী পুজোর পরের দিন দুপুরে গোটাসেদ্ধ খেতে খেতে টিভির সামনে বসলাম। ট্রেলারে সবচেয়ে ভাল লেগেছিল সূত্রধার হিসেবে অজিতকে। ছবির একেবারে শুরুতে আরও ভাল লাগল। অজিতের ভূমিকায় শাশ্বত থাকলে সেই ছবি এমনিই বসে পুরোটা দেখা যায় (‘ব্যোমকেশ ফিরে এল’ বাদে, সেখানে আবীর একা হাতে একেবারে টানতে পারেননি)। এই ছবির মূল গল্পটি ‘কহেন কবি কালিদাস’ সেটা এতদিনে সবাই জেনে গেছেন। ব্যোমকেশের অন্যান্য গল্প তূলনায় এটা হয়ত একটু ম্যাড়ম্যাড়ে – গ্ল্যামারাস লোকেশন নেই, বরঞ্চ কয়লাখনি, সময়টা টালমাটাল, চরিত্রগুলি সবাই প্রায় ধূসর, কয়লার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই। তবে মোহিনীর চরিত্রটি থাকায় এটা সে অর্থে ‘অ্যাডাল্ট’ গল্প ছিল এক সময়ে।

Read the rest of this entry »

 
1 Comment

Posted by on February 26, 2016 in সিনেমালোচনা

 

Tags: , , , , , , , , , , , , , , ,

পুণে পাঁচালী ৬ – শারদীয় শুভেচ্ছা

পুণে পাঁচালী ৬ – শারদীয় শুভেচ্ছা

পুণে পাঁচালীর কয়েকটি কিস্তির পর ভেবেছিলাম কলকাতা কচকচিটা অনেকদিন চালাতে পারব। কিন্তু বিধি বাম (পুণে তো কলকাতার বামেই), তাই পুণে পাঁচালীর কিস্তিই বাড়বে যা দেখছি। কলকাতা কচকচির আরো কয়েক কিস্তি পড়তে পারত, কিন্তু তাতে আমার খিস্তি খাওয়ারই সম্ভাবনা বেশী। কাজেই, তিষ্ঠ পাঠকবর/বউ।

বছরখানেক আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৯৯ শতাংশতে থাকার পর কলকাতা মোটামুটি আমাদের মনের সব আর্দ্রতাই শুষে নিয়েছে, সেই বিষতর বিষয়ে বিশদে আর নাই বা বললাম। ভোজরাজের রোল, আড্ডা আর জমজমাট একটা রোডট্রিপ ছাড়া কলকাতায় খুব ভাল কিছু হয়নি। কিন্তু থাক, সেগুলো নাহয় কলকাতা কচকচিতেই আসবে। পুণেতে একই ঘরে দ্বিতীয়বার ঘর করতে এসে দিব্যি লাগছে। সেই চেনা পটিবেশী – আমাদের হাঁটার আওয়াজে যার ঘুম হয় না, সামনের ফ্ল্যাটের বড় বউ বিদেশ থেকে একটা গুটগুটে বাচ্চা নিয়ে ফিরেছে, সেই ব্লগবিশ্বে বিখ্যাত কাজের মাসি আমার, এবং সেই চেনা দোকানপাট আর দোকানি।

Read the rest of this entry »

 
1 Comment

Posted by on October 24, 2015 in পুণে পাঁচালী

 

Tags: , , , , , ,

 
feeble Lines

- By Adarsh

Natasha Ahmed

Author at Indireads

জীবনের আয়না

কিছু এলোমেলো ভাবনাচিন্তা

ব্লগম ব্লগম পায়রা

এটা-সেটা লেখা-দেখা...কখনো আনমনে কখনো সযতনে, টুকিটাকি আঁকিবুঁকি...সাদা-কালো সোজা বাঁকা

translations

translations of contemporary, modern and classic bengali fiction and poetry by arunava sinha

Cutting the Chai

India's original potpourri blog. Since 2005. By Soumyadip Choudhury

104.193.143.58/~manjul7/

MANJULIKA PRAMOD - I TRAVEL NEAR AND FAR FOR INTERESTING PERSPECTIVES!

সাড়ে বত্রিশ ভাজা

একটি বাংলা ব্লগ

MySay.in | Political Cartoons and Social Views

Funny Cartoon Jokes on Latest News and Current Affairs.

Of Paneer, Pulao and Pune

Observations | Stories | Opinions

A Bookworm's Musing

Reading the world one book at a time!

SpiceArt

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

Abhishek's blog অভিষেকের ব্লগ

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

Calcutta Chromosome

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

Bookish Indulgenges with b00k r3vi3ws

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

monalisadesign

Monalisa's creations

of spices and pisces

food and the history behind it.

A Little Blog of Books

Book reviews and other literary-related musings

Scratching Canvas

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

Sapna's Blog

A civilization is only as great as its dreams

Words. More or Less.

Grey cells in Grayscale.

The Tales Pensieve

World of Indian Reads

%d bloggers like this: