RSS

প্রবাসীর খাওয়াদাওয়া – ডেলফ

শুরু করি একটু গরম কফি দিয়ে। সে কী, কোনও গৌরচন্দ্রিকা নেই, কোথায় বেড়াতে গেছি, সেখানে খাওয়া ছাড়াও আর কী অভিজ্ঞতা হয়েছে – কিছু বিস্তার না করেই সোজা কফিতে? কী আর বলি, দু কাপ কফি যে কত মায়াময় হতে পারে, তার একটা ছোট্ট উদাহরণ দিই আগে।

কল্পনা করুন একটি ক্যানালের ধারে মাঝারি ক্যাফে, ভেতরে দু-পাঁচটা টেবিল দিয়ে বসার জায়গা, জানালায় গ্রীষ্মের ফুল সাজানো আর দেওয়ালে শহরের কিছু পুরনো মানচিত্র। বাইরের টেবিলগুলি সোজা জলের ধারে, ছাতার নীচে কটা চেয়ার টেবিল পাতা, বসলেই একটু ঠান্ডা জোলো হাওয়া বয় আর সরু খালের সবুজ জলের ওপর নৌকা বেয়ে চলা দেখা যায়। সারাদিনের ক্লান্তি সারাতে দু দন্ড বসাই যথেষ্ট, চোখের ও মনের আরাম হয়। আমরা গিয়েছিলাম কোরোনা-কালে, অতএব আগে দেখা কটা টেবিল খালি, ভেতরে লোক কম কিনা এবং তারপর সাহস করে ঢুকে পড়া। স্যানিটাইজারের বাধা পেরিয়ে টেবিলে বসে অর্ডার দিয়েছিলাম দুকাপ ক্যাপুচিনো আর একটা গাবদা স্লাইস spiced ginger cake। এসব ঢঙের কেক আমাদের কম বয়সে দেশে ছিল না, মানে আদা আর মশলা দিয়ে আবার কেক হয় কীভাবে! আমেরিকাতে যেমন কুমড়োর কেকের রমরমা, এই পশ্চিম ইউরোপে spiced কেক ও পাঁউরুটি অপর্যাপ্ত। আমার দিব্যি লাগে আদা, জয়িত্রী আর দারচিনির গন্ধওয়ালা একটু ভারী কেক, বিশেষত এই শরত আর শীতকালে।

ডেলফ শহরটি দক্ষিণ হল্যান্ডে, ব্রাসেলস থেকে ট্রেনে ঘণ্টা দুয়েক। শহরটির পত্তন হয় আনুমানিক ১০৭৫ খ্রিষ্টাব্দে।

Read the rest of this entry »

 

Tags: , , , , , , , , ,

প্রবাসীর খাওয়াদাওয়া – অস্টেন্ড

বহুদিন কোথাও বেড়াতে যাওয়া হয়নি, স্বাভাবিকভাবেই অতিমারীর প্রকোপে। বেলজিয়ামের ভেতরে ট্রেন চলছে আগের মতই, তবে নিয়মের কড়াকড়ি ভালই। গোটা যাত্রাপথে মাস্ক পরে থাকতে হবে। পুলিশে ছুঁলে ছত্রিশেরও অনেকগুণ বেশি ঘা অবধারিত। গত শনি-রবি এখানে গ্রীষ্মের শেষ রৌদ্রোজ্জ্বল দুটি দিন ছিল। আগামীকাল থেকে শরতকাল শুরু হচ্ছে, তার সঙ্গী হবে মেঘ আর বৃষ্টি, স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া। তাই জয় মা বলে বেরিয়ে পড়েছিলাম সমুদ্র দেখতে অস্টেন্ড শহরে। চব্বিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ঝলমলে রোদ, ঠান্ডা হাওয়া, চিংড়ি মাছ ভাজা, আর নাতিশীতোষ্ণ সমুদ্রের জল মিলিয়ে দিনটা দিব্যি কাটল। শহরের রাস্তায় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক হলেও সমুদ্রতটে না পরলেও চলে। এমনিতে খুব বেশি লোক সমাগম হয়নি, তা ছাড়া বীচটি যথেষ্ট বড়।

চিংড়ি ভাজা

সমুদ্রে অল্প স্নান ও জলে দাপাদাপি করে বেশ ক্ষিদে পেয়ে গেছিল। দুপুর দেড়টা বাজে। প্রথমবার যখন অস্টেন্ড এসেছিলাম, স্টেশন থেকে বীচে যাবার রাস্তায় পরপর সারি দেওয়া স্টল থেকে চিংড়ি ভাজা খেয়েছিলাম। চিংড়ি হল আমার ইয়ে, যাকে আজকাল বলে BAE, কাঁচা বাদে যে কোনোভাবে যে কোনও সময়ে খাইতে পারি। সেই স্টল খুঁজে গেলাম, তবে সেখানে পাওয়া গেল হুমদো সাইজের স্ক্যাম্পি ভাজা। স্বাদে অতটা ভাল না হলেও জাস্ট চলে যায়। এক প্লেট খাওয়ার পরও যখন পেট চুঁইচুঁই, তখন আবার খাদ্যের সন্ধানে বেরোলাম। বেশ কয়েকটি রেস্তোঁরা বলল রিজার্ভেশন ছাড়া লোক ঢুকতে দিচ্ছে না, কয়েকটি বলল শনিবার দুপুরে কোনও টেবিল খালি নেই। হতাশ হয়ে ভাবছি কোনও বেকারিতে ঢুকে শুকনো স্যান্ডউইচ চিবোতে হবে, তখন চোখে পড়ল সামনের চাতালে একটি ফুড ট্রাকের গায়ে লেখা Poulet/Ribs.

 

দৌড়ে গিয়ে দেখি তারা ঝাঁপ ফেলার আগে মোছামুছি করছে। বড়দা ও তাঁর ছেলে ইংরিজি বলেন না যা বুঝলাম, বৌদি বরঞ্চ বলেন। আমাদের করুণ মুখ দেখে বললেন একটু রোস্ট চিকেন আছে আর একটু পোর্ক রিবস।

ইয়ান ও ক্যাট্রিয়েনের ফুড ট্রাক ছবি – গুগল

দ্বিতীয়টি শুনে আমাদের পক্ষে কোনও বিলম্ব করা সম্ভব হয়না কখনই। ওজন করে প্যাক করে ফেলছিলেন বৌদি, বললাম, একটু কেটে দেওয়া সম্ভব কী? শুয়ারের পাঁজর যতই ভালবাসি, রাস্তার বেঞ্চে বসে যখন খেতে হবে তখন জনসমক্ষে গোটা ধরে খাব কী করে? উনি মিষ্টি করেই বললেন যে দোকান বন্ধের সময় পেরিয়ে গেছে পনেরো মিনিট, এরপর পুলিশ এসে যাবে। আমরা গাঁইগুঁই করে ভাবছিলাম তাহলে চিকেন নিয়ে নি, ম্যানেজ করতে সুবিধে হবে, তখন বড়দা সমরে নামলেন। গোটা পাঁজর কেটে পিস করে, গরম করে প্যাক করে দিলেন, সঙ্গে আরো আধ কিলো জুড়ে দিলেন বিনামূল্যে।

যে দেশই হোক, যে ভাষাই হোক, ক্ষুধার ভাষা ও তার ইশারা বাচন একই। বিপাকে সাহায্য যাঁরা করেন তাদের কথা মনে গেঁথে যায় কীভাবে যেন। একটু হেসে মিষ্টি করে আবেদন করেছিলাম বলে এমন খাবার দিলেন যে তাতে আমাদের ডিনারও হয়ে গেছিল বাড়ি ফিরে।

 

ওহ হ্যাঁ, পাশের চাতালে গিয়ে বেঞ্চে বসে দিব্যি খেলাম রিবস। তার সামনের রেস্তোঁরার উঠোনের টেবিলে বসে একজন ভদ্রলোক কোকা-কোলা খেতে খেতে ঈর্ষার দৃষ্টিও দিলেন আমাদের খাবারের দিকে।

 

Tags: , , , , , , , , , , , , , ,

কোরোনার দিনগুলিতে – ৪

ব্যাধিত

করোনার সংক্রমণ বাড়ছে, সঙ্গে অসহিষ্ণুতাও। শরীরে ভাইরাসের থেকেও বেশী ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে মনের অসুখ। করোনার রঙ কীরকম জানিনা, কিন্তু এখন চারিদিকে তাকালেই টের পাই কেমন একটা ছায়া ছায়া ধোঁয়া ধোঁয়া আবহাওয়া, যেন গোটা পৃথিবীতে কেউ একটা কয়লার উনুন জ্বালিয়ে রেখে দিয়েছে এক কোণে। তার ধোঁয়াতে দম আটকে আসে আর তার কালিমা বেশ কিছু জনের অন্তর অব্দি সূক্ষ্ণ ছুরিকাঘাত করছে আস্তে আস্তে। পাঁচ মাসে ভাইরাস কতটা বদলাল বা মিউটেট করতে পারল জানিনা, তবে মানুষ কিন্তু আস্তে আস্তে মিউটেট করছে, শরীরে নয় অবশ্য, মনে।

কয়েক মাসে বেশ কিছু জনের কয়েকটি আচরণ লক্ষ্য করেছি, এখানে তালিকাভুক্ত করলাম, পড়ে দেখতে পারেনঃ

১। কিছু মানুষের যে কোনও কথা শুনলে কী আপনার মনে হচ্ছে, “ওই এল জ্ঞানদাচরণ আবার জ্ঞান দিতে” ?

২। কোনও বন্ধু/পরিচিত বার বার ফোন/পিং করে কুশল জিজ্ঞ্যেস করলে কী আপনি বিরক্ত হচ্ছেন? মনে হচ্ছে যে এই ব্যক্তি বড্ড গায়ে পড়া? সে কিন্তু এই দুর্বিষহ সময়ে ভাবছে একটু খোঁজ নিয়ে দেখি সব বন্ধুরা ভাল আছে কিনা।

৩। কেউ আপনার মতবিরুদ্ধ কোনও কথা বললে কী আপনি তাকে এড়িয়ে চলছেন? কিন্তু পৃথিবীর সব মানুষ তো আপনার সঙ্গে একমত নাই হতে পারেন।

৪। আপনি কি কোনও মানুষকে তার লাইফস্টাইল দিয়ে বিচার করছেন? যেমন কেউ খেতে ও খাওয়াতে ভালবাসলে, আপনার কী তাকে হ্যাংলা, বেহায়া মনে হচ্ছে? কেউ ধূমপান/মদ্যপান করলে কী আপনি তাকে খারাপ মানুষ মনে করছেন, বিশেষত তিনি যদি মহিলা হন?

৫। আপনি কি কাউকে কোনও কথা বলে পরমুহূর্তে তা ভুলে যাচ্ছেন বা অস্বীকার করছেন? দেওয়ালেরও কিন্তু কান থাকে।

৬। পরিচিত বৃত্তে কেউ অল্প জনপ্রিয় হলে কী আপনার কিঞ্চিত ঈর্ষা হচ্ছে? সোশ্যাল মিডিয়াতে শুধু অতিরিক্ত নয়, একটু উচ্চমানের উপস্থিতি কিন্তু আপনাকেও জনপ্রিয় করে তুলতে পারে।

৭। আপনি কি করোনা পরিস্থিতি নিয়ে অতিরিক্ত অবসেসড? একেবারে হতাশ হয়ে পড়েছেন যে পৃথিবী আর কোনোদিনও স্বাভাবিক হবে না?

উপরোক্ত তালিকার একাধিক লক্ষণ যদি আপনার মধ্যে বিদ্যমান (“হয়,” এটা নিয়ে এখন বিজ্ঞদের মধ্যে বিতর্ক চলছে) – তাহলে কিন্তু কিছু মনোরোগের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে এবং সত্ত্বর আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

 

Tags: , , , , ,

কোরোনার দিনগুলিতে – ৩

লকডাউন এখনও অব্যাহত, আপাতত দুমাসের ওপর হয়ে গেল। আশেপাশের সবকটা গাছ ঝাঁকড়া উজ্জ্বল সবুজ হয়ে গেছে। প্রায় রোজই রোদ উঠছে, নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া, চেরী গাছের ফুলগুলো ঝরে গেছে, তার জায়গায় অসম্ভব রঙীন টিউলিপে ছেয়ে গেছে পার্কগুলো। অথচ এখন বারান্দায় বেরোতেও ভয় লাগছে মাঝে মাঝে, ভাবছি ভাইরাস কি হাওয়ায় উড়ছে? আমাদের দেখেই কি তার ইচ্ছে হবে ঘাড়ে চাপতে? কয়েকদিন ধরে হাঁটতে যাচ্ছি দুজনে, মুখে মাস্ক পরে, চোরের মত জুলজুল করে এদিক ওদিক তাকিয়ে, পার্কের লম্বা জগিং ট্রেলে দৌড়বীরদের ছোঁয়া বাঁচিয়ে।

দিন কেটে যাচ্ছে নিয়মমাফিক। করোনার ভয়কে সঙ্গী করে ঘর করার অভ্যেস হয়ে যাচ্ছে। প্রায় প্রত্যেকদিন সকালে উঠে করোনাতে মৃত্যু এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের দূরবস্থার খবর শুনে বড্ড অসহায় লাগে। কারোর কী কিছু করার নেই অবস্থা শুধরোনোর জন্যে? সরকারের কথা আর না বলাই ভাল। প্রধানমন্ত্রীকে এমনিতেও রোমের সম্রাট নিরোর সমতুল্য মনে হচ্ছে আজকাল।

বেলজিয়ামের অবস্থাও তথৈবচ। মাসদুয়েক এত দোকান-ব্যবসা বন্ধ থাকার ফলে পরিস্থিতি বেশ শোচনীয়। সরকারী ভাতা আছে বটে তবে তার নিয়মকানুনও কঠিন মনে হয়। কাল সুপারস্টোরে দেখা হল বাড়ির কাছের এক ক্যাফের বয়স্কা কর্মীর সঙ্গে। এঁরা সবাই অস্থায়ী কর্মী, তাই নিয়মিত মাইনের কোনো ব্যাপার নেই। দুঃখ করে বললেন যে লকডাউনের আগে পর্যন্ত কাজ করেছেন, কিন্তু এরপর কী হবে জানা নেই। ক্যাফে আদৌ চলবে কিনা কে জানে, ফলে ওঁকে বেরিয়ে নতুন করে কাজ করতে হবে। ভদ্রমহিলা পোল্যান্ডের, অতএব এখানে তিনি পরিযায়ী শ্রমিক। প্রৌঢ়ত্বে এসে নতুন করে কোনো কাজ শিখে বা পড়াশোনা করা ওঁর পক্ষে সম্ভব নয়। পরিবেশিকার কাজেই তিনি অভ্যস্ত, কিন্তু কোনোদিন এরকম লকডাউন পরিস্থিতি আসবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি।

এভাবেই দিনগত পাপক্ষয় হয়ে চলেছে। তবু তারমধ্যেও কিছু মানুষ হাসছে, অপরকে হাসাচ্ছে, শিশুরা খেলছে। আমাদের ছোট্ট পাড়াতে এখনো সন্ধ্যা আটটায় রোজ হাততালি দেন অল্প কিছু মানুষ। যেসব ডাক্তার-নার্স-সাফাইকর্মী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তাঁদের জন্যে; যাঁরা খাবার ডেলিভারী দিচ্ছেন রোজ, তাঁদের জন্যে; যাঁরা সুপারস্টোর/খাবারের দোকানগুলি চালাচ্ছেন, তাঁদের জন্যে, বাস-ট্রাম-মেট্রোর চালকদের জন্যে এবং সর্বোপরি তাঁদের জন্যে – যাঁরা হার মানতে রাজি নন। বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে যাঁরা খাবার পৌঁছে দেন সাইকেল/স্কুটারে করে, হাততালিতে তাঁদের চোখমুখ উদ্ভাসিত হয়ে থাকে আমাদের পাড়া দিয়ে পেরোনোর সময়ে। কেউ আমাদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন, কেউ সাইকেলের বেল বাজান তালে তালে, কেউবা হেলমেটের মধ্যে দিয়ে মাথাটুকু নাড়েন শুধু। বেশ কিছুদিন আগে হাততালি চলাকালীন ফাঁকা রাস্তায় একটি গাড়ি দাঁড় করিয়ে একজন প্রৌঢ়া নেমে এলেন। গলায় ঝোলানো পরিচয়পত্র সবাইকে দেখিয়ে বললেন যে তিনি স্বাস্থ্যকর্মী এবং আমাদের হাততালিতে আপ্লুত। বলতে গিয়ে হয়ত ওঁর চোখ চিকচিক করছিল, যেমন আমার করছিল ওঁকে দেখে। মাঝেমধ্যেই দেখি পুলিশের গাড়ি যায় আটটা নাগাদ, সুরে সুরে হর্ন বাজিয়ে যেন হাততালির সঙ্গত করতে করতে। আর আছেন কিছু বাসচালক, যাঁরা প্রায়ই বাসের জানলাটুকু দিয়ে ঘাড় বেঁকিয়ে এদিক ওদিক তাকান আর চোখাচোখি হলে মিষ্টি হাসেন।

দিনের শেষে এইটুকুই তো প্রাপ্তি। যাঁরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন, মানুষকে খাবার-ওষুধ পৌঁছে দিচ্ছেন, তাঁদের কুর্ণিশ। আমি অতি সাধারণ, রান্নাবাটি খেলা আর দুশ্চিন্তার ওপারে এই কয়েকটি অমূল্য হাসি-ধন্যবাদ কুড়োচ্ছি ভবিষ্যতের জন্যে। মানুষের জীবন পদ্মপাতায় জল, “জীন্দগী বড়ী হোনি চাহিয়ে বাবুমশাই, লম্বী নহী।”

 

Tags: , , , , ,

কোরোনার দিনগুলিতে – ২

আজ একমাস হতে চলল লকডাউনের। বাড়ির সামনের ফুটপাথ দিয়ে টুকটুক করে একেকজন দৌড়তে যাচ্ছে। কখনও সকালে, কখনও বিকালে। বসন্তের সকাল দশটার মিঠে রোদে যে বাচ্চাটি হাতে স্কেটবোর্ড নিয়ে পার্কে যাচ্ছে মা/বাবার সঙ্গে, সন্ধ্যা আটটায় পড়ন্ত রোদে হয়ত সে ফিরছে চারিদিকের বারান্দা থেকে সমবেত হাততালির মধ্যে দিয়ে। মানুষের মনে সন্দেহ, ভয়, আশঙ্কা – অসুখের, মৃত্যুর, প্রিয়জনকে হারানোর, পৃথিবীটা হঠাৎ করে ভারশুন্য হয়ে যাওয়ার। আমার মত ক্ষুদ্র মানুষেরা কীই বা করতে পারে বিদেশ থেকে, কিঞ্চিৎ অর্থসাহায্য আর এই দু চার কলম প্রলাপের প্রলেপ মাখানো বাদে। গম্ভীর তথ্য, গরম গরম ফেসবুক পোস্ট, হোয়াটসঅ্যাপে লেখা বিভিন্ন টোটকা যা কোরোনা থেকে মুক্তি দেবে – এসব আমি লিখতে পারিনা। ছোট্ট পাড়াটায় যেটুকু দেখতে পাই – কেউ ঘরের পর্দা সরিয়ে গায়ে রোদ মেখে কম্পিউটারে কাজ করছেন, কেউ অলস দুপুরে কাজ শেষে বারান্দায় বসে রোদ পোহাচ্ছেন, কারুর বাগান নতুন ফুলগাছে উপচে পড়ছে, কেউ মাসখানেকের জামাকাপড় একসঙ্গে কেচে স্ট্যান্ডে শুকোতে দিয়েছেন, কিছু শিশু বাগানে হুটোপাটি করছে পড়াশোনার পরে, কেউ বা কয়েক গেলাস ওয়াইন নিয়ে আরামকেদারায় সারা বিকেল কাটিয়ে দিচ্ছেন।

এ কদিন কাজ করতে করতে খেয়াল করিনি, রোদ উঠেছে বলে মন খারাপের মধ্যেও একটু ভাল লাগছিল। সেদিন টাইপ করতে করতে হঠাৎ তাকিয়ে দেখি সামনের রাস্তায় পাঁচতলা উঁচু গাছগুলোতে পাতা এসে গেছে। নরম রোদে তারা উজ্জ্বল সবুজ হয়ে আছে। ঋতু পরিবর্তনের সময়ানুবর্তীতায় কোনো বদল হয়নি। এদিকে গৃহবন্দী অবস্থায় মাঝে মাঝে দিন/বার গুলিয়ে যাচ্ছে মানুষের। চেরী গাছে খয়েরি পাতার পাশাপাশি সাদা/গোলাপী ফুলের গুচ্ছ দেখা দিয়েছে এর মধ্যে। অন্যান্য বছর পর্যটকরা ঝাঁপিয়ে পড়েন ব্রাসেলসের বিভিন্ন রাস্তায়, হ্যাসেল্টের জাপানিজ গার্ডেনে – মুঠোফোন হাতে, ক্যামেরা কাঁধে, জল-কেক-বিয়ার ব্যাগে ভরে পিকনিকের আশায়। এবারে বাজার করতে গিয়ে কোনোমতে চেরী ব্লসমের ছবি তোলা হয়েছে, সংক্রমণের ভয়ে, আশঙ্কায়। অত্যুৎসাহী জনতা অবশ্য এখানেও চায়ের দোকানের মত ভীড় জমাচ্ছে পার্কে। পুলিশ তাড়া দিলে তাদেরও মনোভাব যেন, ‘পার্কে আসব না আমরা, আসব না আমরা পার্কে?’ সন্ধ্যা নামলে পূর্ণিমার চাঁদ যেন ব্যঙ্গ করে কিছুটা উপরি জ্যোৎস্না ছড়াচ্ছে, এই বিবমিষাময় সময়ের সান্ত্বনা পুরষ্কার হিসাবে।

লকডাউনের আগে ভাগ্যিস দুটো রঙীন প্যানজি ফুলের গাছ কিনেছিলাম। এইটুকু বিলাসিতা করতে পেরেছি বলে এই ধূসর দিনগুলোতেও জানলা আলো করে রয়েছে এক গুচ্ছ ফুল। বারান্দার ছোট্ট বাগানে কল বের করা ছোলা পুঁতেছিলাম, তাতে একটা পুঁচকে গাছ বেরোচ্ছে। কী জানি, সে আরো বেড়ে উঠতে পারবে কিনা। একেবারে ছোলা পেড়ে খাব, সে আশা রাখিনা। শুধু বারান্দাটা আরেকটু সবুজ হয়ে উঠবে, গরমকালের ভোরের মৃদু ফুরফুরে হাওয়ায় কচি গাছগুলো মাথা নেড়ে নেড়ে নাচবে, এটুকু আশা করতে ক্ষতি কী?

 

Tags: , , , , ,

কোরোনার দিনগুলিতে – ১

পয়লা মার্চ। এক সপ্তাহের বসন্তের ছুটির শেষে বেলজিয়ামে ফিরলেন প্রচুর মানুষ। আর পরের দিন থেকে শুরু হয়ে গেল করোনার প্রকোপ। আজ এক মাস পরে এ দেশে করোনা আক্রান্ত ১৫ হাজারেরও বেশি, মৃত এক হাজারেরও বেশি। তেরোই মার্চ থেকে দেশে লকডাউন শুরু হয়েছে। আর কী আশ্চর্য্য, সেদিন থেকে এক একটা দিন শুরু হচ্ছে ঝলমলে রোদ নিয়ে, ম্যাগনোলিয়া গাছগুলো ফুলের ভারে ঝুঁকে পড়ছে, কিছু আগোছালো টিউলিপ ফুটেছে রাস্তার প্রান্তের ছোট্ট বাগান গুলোতে। প্রকৃতির এত আয়োজন, কিন্তু এ বছর তার কদর করার লোকেরা সবাই গৃহবন্দী।

বেলজিয়ামের লোকজন এমনিতে বেশ হাসিখুশি, সকাল বিকেল রাস্তায় পার্কে বাসে ট্রেনে দোকানে অচেনা লোককেও ডেকে প্রীতি সম্ভাষণ করেন। কিন্তু এই করোনাপক্ষে সেসব ফিকে হয়ে আসছে। সুপারমার্কেটে বাইরে লাইনে সবাই দু মিটার দুরত্বে দাঁড়াচ্ছে নিয়ম মেনে, কিন্তু সবাই একটু ম্রিয়মান। একে অপরের দিকে সন্দেহের চোখে তাকাচ্ছে, কে কাশছে, কে হাঁচল তার হিসেব রাখছে। সেসব বাঁচিয়ে কুড়ি মিনিট যখন লাইনে দাঁড়িয়েছি সপ্তাহান্তের বাজার করতে, চকচকে রোদে চোখ তুলে হঠাত লক্ষ্য করলাম পাশের লম্বা ঝাউ গাছটায় গুঁড়ি গুঁড়ি পাতা এসেছে। সিকিউরিটি গার্ডের ডাকে সেসব ফেলে এগিয়ে গেলাম দোকানের ভেতর। ফেরার পথে উল্টোদিক থেকে কেউ আসছে দেখে নিজের অজান্তেই সরে গেলাম দু মিটার দুরত্ব তৈরি করতে। যে ভদ্রলোক আসছিলেন, পাড়ারই কেউ হবেন, আহত চোখে তাকালেন আমার দিকে। আকস্মিক লাফটা একটু বেশিই জোরে হয়ে গেছিল বোধহয়। ক্ষমাপ্রার্থীর দৃষ্টিতে তাকালাম ওঁর দিকে। সামারে এখানে অনেক পাড়াতেই স্ট্রীট পার্টি হয় কোনো একটা রবিবার বিকেলে, যখন রাত দশটা অব্দি রোদ থাকে। ভদ্রলোক কি আমার এই সরে যাওয়াটা মনে রাখবেন ততদিন?

লকডাউন একটু গাঢ় হয়ে কনফাইনমেন্ট শুরু হওয়ার দিন থেকে কিছু উতসাহী ব্যক্তির উদ্যোগে রোজ সন্ধ্যে আটটায় বারান্দায়/জানালায় দাঁড়িয়ে সবাই হাততালি দিচ্ছি। ডাক্তার/নার্স/হাসপাতাল কর্মী/বাস ড্রাইভার/পুলিশ/ডেলিভারি পার্সন/ওষুধের দোকান জাতীয় এমার্জেন্সি কর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন কোভিড-১৯ এর সঙ্গে লড়তে। আর আমরা সাধারণ মানুষেরা বাড়ি বসে, খেয়ে পরে, সিনেমা দেখে দৈনিক পাঁচ মিনিট ওঁদের উতসাহ, সম্মান, ধন্যবাদ দেওয়ার চেষ্টা করছি।

ব্রাসেলসে আমাদের পাড়াটা এমনিতে শান্ত। সবচেয়ে পুরনো বাড়িটা আমাদের উল্টোদিকে, ১৮৯৫ সালে তৈরি। পাড়ার বাসিন্দারাও মোটামুটি বয়স্ক ও বেশিরভাগই নিঃসঙ্গ। এই কদিনে অগুণতি অচেনা মুখ দেখলাম বিভিন্ন বারান্দা, জানালায়। যে কটা বাড়িতে রাস্তার দিকের ঘরগুলিতে কোনোদিনও আলো জ্বলতে দেখিনি, তার বারান্দাতেও দেখি মিষ্টিমত এক বুড়ো দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছেন। আমার দুটো বাড়ি পাশের বারান্দায় হঠাত দেখি একজন বয়স্কা ভদ্রমহিলা হাততালি দিলেন দু দিন ধরে, মৃদু হাসলেন আমাকে দেখে। তারপর দিন তিনেক ওঁর দেখা না পেয়ে চিন্তায় পড়ে গেছিলাম, অসুস্থ হলেন না তো। চারদিনের দিন দেখা পেয়ে নিশ্চিন্ত হলাম। রাস্তার উল্টো দিকে ঠিক সামনের ফ্ল্যাটটায় আরেকজন ষাট ছুঁইছুঁই ভদ্রমহিলা থাকেন। গত তিন বছরে গুণে হয়ত সাত বার বারান্দায় এসেছেন, আমার সাথে আলাপ হয়নি কোনোদিন। আজ দু সপ্তাহ ধরে হাততালির সময় একদিনও বাদ পড়েননি। গত সপ্তাহে আমরা একটু হাঁটতে বেরিয়েছিলাম, হাততালির সময়ের মধ্যে বাড়ি ফিরতে পারিনি। খানিক পরে ফিরে আলো জ্বালিয়ে রান্নাঘরে হাত ধুচ্ছি, দেখি উল্টোদিকের ভদ্রমহিলা বারান্দায় এলেন। আমাকে দেখে হাত পা নেড়ে ইশারায় জিজ্ঞ্যেস করলেন হাততালির সময় ছিলাম না কেন, সব ঠিক আছে তো। আমিও ইশারায় উত্তর দিলাম যে হাঁটতে গেছিলাম। তিন বছরের দুরত্ব এক লহমায় ঘুচে যায় যখন রোজ ওঁর সঙ্গে বারান্দায় দেখা হয়, হাততালি শেষে একে অপরকে বিদায় জানিয়ে আবার যে যার কোটরে ঢুকি।

*লেখাটির একটি অংশ ছাপা হয়েছে আবাপ ডিজিটালে

 

Tags: , , , , , ,

একেন বাবু

 

একেন বাবুর সঙ্গে প্রথম পরিচয় একটু দেরিতেই হল। হইচই অ্যাপে বিজ্ঞাপন শুরু হতেই বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছিল। তার আগে ভাসা ভাসা মনে পড়ল যে একটি বিখ্যাত বাংলা ব্লগে গোয়েন্দা একেন্দ্র সেনের কথা পড়েছিলাম। তিনি আর একেন বাবু কি এক? অত কিছু না ভেবেই সিরিজটা দেখতে শুরু করেছিলাম। দুটো পর্বের পরেই এমন কৌতুহল জাগল যে গুগল-টুগল করে একাকার। দেখলাম একেন বাবু আর একেন্দ্র সেন একই চরিত্র। স্রষ্টা হলেন সুজন দাশগুপ্ত। একেন বাবুকে নিয়ে বেশ কয়েকটা গল্প আছে যার প্রথম দুটো নাকি আনন্দমেলায় বেরিয়েছিল ৯০-এর দশকে। আমি ছোটবেলায় যদি পড়েও থাকি, এখন একেবারেই মনে করতে পারছি না। যাইহোক, দশটা পর্ব দেখার পর একেন বাবুর প্রথম উপন্যাসটাও পড়ে ফেললাম। বিস্তারিত আলোচনায় যাওয়ার আগে অনলাইন ক’লাইন পেলাম একেন বাবু কে নিয়ে, সেটা একটু শেয়ার করি।

Read the rest of this entry »

 
8 Comments

Posted by on August 8, 2018 in টেলিভিশন

 

Tags: , , , , , , , ,

তারাভরা আকাশের নীচে

তারাভরা আকাশের নীচে

ইউরোপে আসা ইস্তক মিউজিয়াম গুলোতে যাওয়ার জন্যে মনটা হাঁকুপাঁকু করছিল। ছোটবেলা থেকে কয়েকজন শিল্পীর নাম শুনে আসছি যেমন লিওনার্দো দা ভিঞ্চি, মোনে, ভ্যান গঘ। কেউ বোধহয় ছবির বই উপহার দিয়েছিল কোনো জন্মদিনে, সেখানে টুকরো-টাকরা কিছু ছবি দেখেছিলাম। জল-রং নিয়ে খেলা করতে দিব্যি লাগত, তাই বাবা-মা ছ বছর আঁকা শিখিয়েছিল, কিন্তু বায়োলজি পরীক্ষা ছাড়া সে শেখা কোনোদিন কোনো কাজে আসেনি। আরেকটু বড় হয়ে ছবি আঁকিয়েদের কথা পড়লাম ফেলুদাতে – তিনতোরেত্তো, বত্তিচেল্লি, মান্তেন্না, জান্তেন্না – মনে আছে তো? ছবির সঙ্গে আমার পরিচয় বাংলা সাহিত্যের হাত ধরেই। রামকিঙ্কর বেজকে নিয়ে একটা উপন্যাস পড়েছিলাম, লেখকের নাম মনে নেই, দুর্বল স্মৃতি ক্ষমাপ্রার্থী (সমরেশ বসুর ‘দেখি নাই ফিরে’)। বাণী বসুর কয়েকটা লেখাতেও ইম্প্রেশনিস্ট ছবি, মাতিস, দালি, আরও নানারকম রঙের খেলা ছিল। তবে ছবি আঁকা মানে শুধু ক্যানভাসে রং বোলানো নয়, সেটাও আমাকে বাংলা সাহিত্যই শিখিয়েছে। যারা ছবি আঁকেন, তারা আকাশ-বাতাস, নিজের আশেপাশের ব্রহ্মান্ড আর নিজের জীবন দিয়ে রং তৈরি করেন, অন্য একটা জীবন ফুটিয়ে তোলার জন্যে। তাই বাংলা গল্পে যখন ভ্যান গঘ ফিরে এলেন, তখন সেটা না পড়ে তো কোনো উপায় ছিল না।

Read the rest of this entry »

 
3 Comments

Posted by on July 5, 2018 in বই

 

ব্রাসেলস বৃত্তান্ত ১ – এলেম নতুন দেশে

বৃষ্টি পড়ে এখানে বারো মাস,
এখানে মেঘ গাভীর মত চরে…

এই কবিতার লাইনদুটি আমার বর্তমান বাসস্থানের জন্য একেবারে প্রযোজ্য। বছরে ছমাসের বেশি বৃষ্টি, লন্ডনের মত সবসময় আকাশের মুখ ভার (নাহ, আমি কিন্তু কলকাতায় নেই), রোদের দেখা নাই রে রোদের দেখা নাই – এ হল ব্রাসেলস। তবে এখানে ‘অবনী বাড়ি আছো’-এর মত পরান্মুখ সবুজ নালি ঘাস দুয়ারে কড়া নাড়ে না, শহরে থাকি তো। ব্যাস, তাহলে ধরে ফেলেছেন, পুণে পাঁচালী আর কলকাতা কচকচির পর এবার ব্রাসেলস বৃত্তান্ত। চলবে তো এ নতুন গল্প?

নতুন শহরে দশ মাস কেটে যাওয়ার পর গল্প শুরু করা গর্হিত কাজ বটে কিন্তু আমার অত পাঠক নেই যারা রাগ-অভিমান বা মিস করবেন আমাকে, কাজেই…ল্যাদ খাওয়াই যায়। তাছাড়া একটা নতুন জায়গাকে জানতে-বুঝতে একটু তো সময় লাগবেই। তা যদি বলেন, ব্রাসেলস কেমন? এর এক কথায় উত্তর হল – ভিজে, স্যাঁতস্যাঁতে, মেঘলা, পুরনো আর নতুনের অদ্ভুত সংমিশ্রণ।

Read the rest of this entry »

 

রেডিও মির্চির বাংলা ওয়েব সিরিজ – OMG এবং #typo

29872841_2022750497996069_6230729270300209810_o

ছবি সৌজন্যেঃ ফেসবুক

রেডিও। শব্দটা শুনলেই কয়েকটা দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে ওঠে; তার মধ্যে প্রথমটা অবশ্যই মহালয়ার ভোর। সেই আদ্যিকালের ঢাউস রেডিও একটা, যাকে ঝাড়পোঁছ এবং কানমলা দেওয়া হত আগের রাত্রে, তারপর ভোর চারটেয় চালু করে মাঝপথে দু চারটে থাবড়াও মারতে হত। আমার ছোটবেলায় ক্রিকেট ফুটবল ম্যাচ টিভিতে দেখানো শুরু হয়ে গেছিল, কাজেই রেডিওতে কমেন্টারি শুনিনি প্রায়। বিবিধ ভারতীতে রফি-লতা-কিশোর থেকে মহিষাসুরমর্দিনী পেরিয়ে যখন গেলাম হাইস্কুলে, একটা ছোট ট্রাঞ্জিস্টর উপহার পেয়েছিলাম আর সেটা দিবারাত্র আমার পড়ার টেবিলে চালু থাকত। বেশি মন খারাপ হলে একেবারে লো ভল্যুম করে বালিশের এক কোণায় জায়গা পেত সারারাত। বোঝাই যাচ্ছে সেটা বেশিদিন টেঁকেনি, আমার অত্যাচারে দেহ রেখেছিল শীঘ্রই। এরপর এল নিজের জমানো টাকা দিয়ে কেনা মহার্ঘ্য মিউজিক সিস্টেম। আজ থেকে বছর ১৮ আগে। সেই যে যাত্রা শুরু হল রেডিওর সঙ্গে, সেটা আরো গাঢ় হল ২০০৩ থেকে, যখন কলকাতার এফ এম চ্যানেলগুলি চালু হল। ব্যাস। তিন বছর টানা রেডিও শুনেছি প্রায় যতক্ষণ বাড়িতে থাকতাম। শুনতে অস্বাভাবিক লাগলেও কতকটা এরকমই ছিল কেসটা। রেডিও মির্চিতে মীরের হাই কলকাতা থেকে শুরু করে আমার ১০৬.২ এফ এম-এ লাগাতার বাংলা গান থেকে রেড এফ এম-এ রাত্রের শোতে জিমি টাংরিকে শোনা – সে এক হ্যালু ব্যাপার ছিল। ফেসবুক ইত্যাদি ঢপের চপ তখনও ঢোকেনি এদেশে, RJরাও সেলেব্রিটি ছিলেন, সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে। মীরের গলা শুনে বড় আপন মনে হত, যেন পাড়ার ছোড়দা; জিমি টাংরির গলা শুনে শিহরণ জাগত, নীল ছিল ভারী ফচকে, ১০৬.২তে আরেকজন ছিলেন যার নামটা মনে নেই কিন্তু গলাটা ব্যাপক রোম্যান্টিক ছিল। হ্যাঁ, তখন আমরা এরকমভাবে কথা বলতাম – ব্যাপক, একঘর, হ্যালু, চাপ নেওয়া, কেত মারা, আরবিট বাওয়াল দেওয়া, হুব্বা হওয়া, ইত্যাদি প্রভৃতি। যারা ২০০৩-এ জন্মেছিল, তারা পর্যন্ত কৈশোরে পৌঁছে গেল এতদিনে। আমার রেডিও শোনারও ইতি হল।

Read the rest of this entry »

 
 
 
The Ramblings of Don

Just my ramblings..... and sometimes my nostalgic memories!

photographias

photography and life

VR & G

Vigorous Radiant & Glowing

TINA SEQUEIRA

INDIAN AUTHOR, WRITER & MENTOR

যযাতির ঝুলি | বাংলা ব্লগ | Jojatir Jhuli | Bangla Blog

বাংলা কবিতা, বাংলা গদ্য.. মুচমুচে, খাস্তা, অনবদ্য। ছুটির দুপুরে হোক না যোগ.. যযাতির গল্প, ছড়া, ব্লগ।।

feeble Lines

- By Adarsh

Natasha Ahmed

Author at Indireads

জীবনের আয়না

কিছু এলোমেলো ভাবনাচিন্তা

ব্লগম ব্লগম পায়রা

এটা-সেটা লেখা-দেখা...কখনো আনমনে কখনো সযতনে, টুকিটাকি আঁকিবুঁকি...সাদা-কালো সোজা বাঁকা

translations

translations of contemporary, modern and classic bengali fiction and poetry by arunava sinha

Cutting the Chai

India's original potpourri blog. Since 2005. By Soumyadip Choudhury

সাড়ে বত্রিশ ভাজা

একটি বাংলা ব্লগ

MySay.in | Political Cartoons and Social Views

Funny Cartoon Jokes on Latest News and Current Affairs.

Of Paneer, Pulao and Pune

Observations | Stories | Opinions

A Bookworm's Musing

Reading the world one book at a time!

SpiceArt

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

Scrapbook

A Public Performance of Derivative Thinking ;-)

Abhishek's blog অভিষেকের ব্লগ

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

Calcutta Chromosome

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

Bookish Indulgences

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

monalisadesign

Monalisa's creations

%d bloggers like this: