RSS

Author Archives: PRB

About PRB

Aspiring author, frequent blogger, freelance editor, book critic, movie buff, mihidana fanatic. Bangla blog at https://moreechikaa.wordpress.com

একেন বাবু

 

একেন বাবুর সঙ্গে প্রথম পরিচয় একটু দেরিতেই হল। হইচই অ্যাপে বিজ্ঞাপন শুরু হতেই বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছিল। তার আগে ভাসা ভাসা মনে পড়ল যে একটি বিখ্যাত বাংলা ব্লগে গোয়েন্দা একেন্দ্র সেনের কথা পড়েছিলাম। তিনি আর একেন বাবু কি এক? অত কিছু না ভেবেই সিরিজটা দেখতে শুরু করেছিলাম। দুটো পর্বের পরেই এমন কৌতুহল জাগল যে গুগল-টুগল করে একাকার। দেখলাম একেন বাবু আর একেন্দ্র সেন একই চরিত্র। স্রষ্টা হলেন সুজন দাশগুপ্ত। একেন বাবুকে নিয়ে বেশ কয়েকটা গল্প আছে যার প্রথম দুটো নাকি আনন্দমেলায় বেরিয়েছিল ৯০-এর দশকে। আমি ছোটবেলায় যদি পড়েও থাকি, এখন একেবারেই মনে করতে পারছি না। যাইহোক, দশটা পর্ব দেখার পর একেন বাবুর প্রথম উপন্যাসটাও পড়ে ফেললাম। বিস্তারিত আলোচনায় যাওয়ার আগে অনলাইন ক’লাইন পেলাম একেন বাবু কে নিয়ে, সেটা একটু শেয়ার করি।

Read the rest of this entry »

Advertisements
 
7 Comments

Posted by on August 8, 2018 in টেলিভিশন

 

Tags: , , , , , , , ,

তারাভরা আকাশের নীচে

তারাভরা আকাশের নীচে

ইউরোপে আসা ইস্তক মিউজিয়াম গুলোতে যাওয়ার জন্যে মনটা হাঁকুপাঁকু করছিল। ছোটবেলা থেকে কয়েকজন শিল্পীর নাম শুনে আসছি যেমন লিওনার্দো দা ভিঞ্চি, মোনে, ভ্যান গঘ। কেউ বোধহয় ছবির বই উপহার দিয়েছিল কোনো জন্মদিনে, সেখানে টুকরো-টাকরা কিছু ছবি দেখেছিলাম। জল-রং নিয়ে খেলা করতে দিব্যি লাগত, তাই বাবা-মা ছ বছর আঁকা শিখিয়েছিল, কিন্তু বায়োলজি পরীক্ষা ছাড়া সে শেখা কোনোদিন কোনো কাজে আসেনি। আরেকটু বড় হয়ে ছবি আঁকিয়েদের কথা পড়লাম ফেলুদাতে – তিনতোরেত্তো, বত্তিচেল্লি, মান্তেন্না, জান্তেন্না – মনে আছে তো? ছবির সঙ্গে আমার পরিচয় বাংলা সাহিত্যের হাত ধরেই। রামকিঙ্কর বেজকে নিয়ে একটা উপন্যাস পড়েছিলাম, লেখকের নাম মনে নেই, দুর্বল স্মৃতি ক্ষমাপ্রার্থী (সমরেশ বসুর ‘দেখি নাই ফিরে’)। বাণী বসুর কয়েকটা লেখাতেও ইম্প্রেশনিস্ট ছবি, মাতিস, দালি, আরও নানারকম রঙের খেলা ছিল। তবে ছবি আঁকা মানে শুধু ক্যানভাসে রং বোলানো নয়, সেটাও আমাকে বাংলা সাহিত্যই শিখিয়েছে। যারা ছবি আঁকেন, তারা আকাশ-বাতাস, নিজের আশেপাশের ব্রহ্মান্ড আর নিজের জীবন দিয়ে রং তৈরি করেন, অন্য একটা জীবন ফুটিয়ে তোলার জন্যে। তাই বাংলা গল্পে যখন ভ্যান গঘ ফিরে এলেন, তখন সেটা না পড়ে তো কোনো উপায় ছিল না।

Read the rest of this entry »

 
2 Comments

Posted by on July 5, 2018 in বই

 

ব্রাসেলস বৃত্তান্ত ১ – এলেম নতুন দেশে

বৃষ্টি পড়ে এখানে বারো মাস,
এখানে মেঘ গাভীর মত চরে…

এই কবিতার লাইনদুটি আমার বর্তমান বাসস্থানের জন্য একেবারে প্রযোজ্য। বছরে ছমাসের বেশি বৃষ্টি, লন্ডনের মত সবসময় আকাশের মুখ ভার (নাহ, আমি কিন্তু কলকাতায় নেই), রোদের দেখা নাই রে রোদের দেখা নাই – এ হল ব্রাসেলস। তবে এখানে ‘অবনী বাড়ি আছো’-এর মত পরান্মুখ সবুজ নালি ঘাস দুয়ারে কড়া নাড়ে না, শহরে থাকি তো। ব্যাস, তাহলে ধরে ফেলেছেন, পুণে পাঁচালী আর কলকাতা কচকচির পর এবার ব্রাসেলস বৃত্তান্ত। চলবে তো এ নতুন গল্প?

নতুন শহরে দশ মাস কেটে যাওয়ার পর গল্প শুরু করা গর্হিত কাজ বটে কিন্তু আমার অত পাঠক নেই যারা রাগ-অভিমান বা মিস করবেন আমাকে, কাজেই…ল্যাদ খাওয়াই যায়। তাছাড়া একটা নতুন জায়গাকে জানতে-বুঝতে একটু তো সময় লাগবেই। তা যদি বলেন, ব্রাসেলস কেমন? এর এক কথায় উত্তর হল – ভিজে, স্যাঁতস্যাঁতে, মেঘলা, পুরনো আর নতুনের অদ্ভুত সংমিশ্রণ।

Read the rest of this entry »

 

রেডিও মির্চির বাংলা ওয়েব সিরিজ – OMG এবং #typo

29872841_2022750497996069_6230729270300209810_o

ছবি সৌজন্যেঃ ফেসবুক

রেডিও। শব্দটা শুনলেই কয়েকটা দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে ওঠে; তার মধ্যে প্রথমটা অবশ্যই মহালয়ার ভোর। সেই আদ্যিকালের ঢাউস রেডিও একটা, যাকে ঝাড়পোঁছ এবং কানমলা দেওয়া হত আগের রাত্রে, তারপর ভোর চারটেয় চালু করে মাঝপথে দু চারটে থাবড়াও মারতে হত। আমার ছোটবেলায় ক্রিকেট ফুটবল ম্যাচ টিভিতে দেখানো শুরু হয়ে গেছিল, কাজেই রেডিওতে কমেন্টারি শুনিনি প্রায়। বিবিধ ভারতীতে রফি-লতা-কিশোর থেকে মহিষাসুরমর্দিনী পেরিয়ে যখন গেলাম হাইস্কুলে, একটা ছোট ট্রাঞ্জিস্টর উপহার পেয়েছিলাম আর সেটা দিবারাত্র আমার পড়ার টেবিলে চালু থাকত। বেশি মন খারাপ হলে একেবারে লো ভল্যুম করে বালিশের এক কোণায় জায়গা পেত সারারাত। বোঝাই যাচ্ছে সেটা বেশিদিন টেঁকেনি, আমার অত্যাচারে দেহ রেখেছিল শীঘ্রই। এরপর এল নিজের জমানো টাকা দিয়ে কেনা মহার্ঘ্য মিউজিক সিস্টেম। আজ থেকে বছর ১৮ আগে। সেই যে যাত্রা শুরু হল রেডিওর সঙ্গে, সেটা আরো গাঢ় হল ২০০৩ থেকে, যখন কলকাতার এফ এম চ্যানেলগুলি চালু হল। ব্যাস। তিন বছর টানা রেডিও শুনেছি প্রায় যতক্ষণ বাড়িতে থাকতাম। শুনতে অস্বাভাবিক লাগলেও কতকটা এরকমই ছিল কেসটা। রেডিও মির্চিতে মীরের হাই কলকাতা থেকে শুরু করে আমার ১০৬.২ এফ এম-এ লাগাতার বাংলা গান থেকে রেড এফ এম-এ রাত্রের শোতে জিমি টাংরিকে শোনা – সে এক হ্যালু ব্যাপার ছিল। ফেসবুক ইত্যাদি ঢপের চপ তখনও ঢোকেনি এদেশে, RJরাও সেলেব্রিটি ছিলেন, সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে। মীরের গলা শুনে বড় আপন মনে হত, যেন পাড়ার ছোড়দা; জিমি টাংরির গলা শুনে শিহরণ জাগত, নীল ছিল ভারী ফচকে, ১০৬.২তে আরেকজন ছিলেন যার নামটা মনে নেই কিন্তু গলাটা ব্যাপক রোম্যান্টিক ছিল। হ্যাঁ, তখন আমরা এরকমভাবে কথা বলতাম – ব্যাপক, একঘর, হ্যালু, চাপ নেওয়া, কেত মারা, আরবিট বাওয়াল দেওয়া, হুব্বা হওয়া, ইত্যাদি প্রভৃতি। যারা ২০০৩-এ জন্মেছিল, তারা পর্যন্ত কৈশোরে পৌঁছে গেল এতদিনে। আমার রেডিও শোনারও ইতি হল।

Read the rest of this entry »

 
 

বিসর্জন

এই সমালোচনা লেখার জন্য কেউ আমাকে একটাও টাকা/ডলার/পাউন্ড/বিটকয়েন দেয়নি। সিনেমা বোদ্ধা/আঁতেল নই, শুধুমাত্র দর্শক হিসেবে বক্তব্য রাখছি।

ডিটেলঃ

ভাষা – বাংলা, রিলিজ তারিখ – ১৪ই এপ্রিল ২০১৭, দৈর্ঘ্য – দু ঘন্টা ৯ মিনিট, ছবি – রঙীন, সঙ্গীত – কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য্য, গল্প/চিত্রনাট্য/পরিচালনা – কৌশিক গাঙ্গুলী, অভিনয়ে – জয়া আহসান, কৌশিক গাঙ্গুলী, আবীর চট্টোপাধ্যায়, লামা, কমলিকা।

আলোচনাঃ

অন্য একটি ছবির সমালোচনাতে লিখছিলাম যে আজকাল বাংলায় মৌলিক ছবি খুবই কম হচ্ছে। এই ধারণাটাকে যে কৌশিক গাঙ্গুলী বার বার ভুল প্রমাণ করেন তার জন্যে অনেক অভিনন্দন ওঁর প্রাপ্য। কেয়ার অফ স্যার, খাদ, অপুর পাঁচালী, শব্দ – ওঁর পরিচালিত এই কটি ছবি মৌলিক এবং আমার বেশ প্রিয়। অল্প একটু দ্বিধা নিয়েই বলতে পারি যে এই লিস্টে এবার বিসর্জনও জায়গা করে নেবে। ব্যক্তিগত দ্বিধার কারণটুকু বাদ দিলে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত বিসর্জন বেশ ভাল একটি ছবি।

দুই বাংলার সীমা ধরে চলতে শুরু করলে যে জায়গায় দুইয়ে মিলে এখনও এক হয়ে যায় বছরের একটা দিন – বিজয়া দশমীতে – সেটা টাকি-হাসনাবাদ-বসিরহাট সংলগ্ন ইছামতী নদী। যেহেতু আমার বাড়ি বসিরহাটে, ছোটবেলা থেকে অপেক্ষায় থাকতাম ওই একটা দিনের জন্যে, যখন নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে বাড়ির সবার সঙ্গে বিসর্জন দেখতে পাব। দু-একবার নৌকোতেও চড়েছি বায়না করে, যদি পাশের নৌকো পাস করার সময়ে বাংলাদেশের পতাকাটা পরিষ্কার দেখতে পাই, মানুষগুলোকে একবার ছুঁতে পারি হাত বাড়িয়ে। তা সে ভীড়ে সেসব খুব একটা হয়নি। বাড়ির লোকেও ভীড়ের ভয়ে নৌকোয় চড়তে দেয়নি তারপর। কিন্তু প্রতিবার পাড়ে দাঁড়িয়ে গুণতাম বাংলাদেশের কটা ঠাকুর দেখতে পেলাম। মাঝনদীতে পতাকারা এক সময়ে মিশেও যেত, আর জলে পড়ার পরে সব ঠাকুরই এক। এই ভাবনাটাকেই কৌশিক গাঙ্গুলী সুন্দরভাবে তুলে এনেছেন বিসর্জনে।

Read the rest of this entry »

 
Leave a comment

Posted by on December 1, 2017 in সিনেমালোচনা

 

Tags: , , , , , , , , , , , , , , , ,

গো গোয়া গোঁয়ার

চারশো ছেষট্টি কিলোমিটার (~ দশ ঘন্টা) গাড়ি চালিয়ে পুণে থেকে গোয়া যাওয়ার কথা শুনে অনেকেই আমাদের গোঁয়ার ভেবেছিল, বিশেষত বাড়ির লোক। অতক্ষণ কী করে চালাবি? (যেভাবে চালায়, স্টিয়ারিং ধরে), গা হাত পা ব্যাথা হবে (ব্রেক নিয়ে চালালে হবে না), শরীর খারাপ হয়ে যাবে (কেন, গাড়ির ভেতর রোদ বৃষ্টি কিছুই নেই, দিব্যি এসি চলে), গিয়ে ঘোরার এনার্জি থাকবে না (একবেলা রেস্ট নেওয়ার প্ল্যান আছে), ইত্যাদি যুক্তিমালা সাজাবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে অগত্যা তাঁরা হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন। গোঁয়ার্তুমির কাছে হেরে গিয়ে বোধহয় ঠাকুরঘরে ইষ্টনাম জপ করছিলেন। গোঁয়াররা এদিকে ষষ্ঠীর দিন ঠাকুরের বোধন, বরণ, অস্ত্রদান সব দর্শন করে ভাল করে চপ-এগরোল খেয়ে এনার্জি সঞ্চয় করে বেরোনোর জন্যে তৈরি হচ্ছিল।

img_3201

ভোর চারটেয় বেরোতে হবে, তবেই ব্রেক-ট্রেক মিলিয়ে দুপুর দুটো নাগার গোয়ার হোটেলে পৌঁছনো যাবে। রোজকার মত অ্যালার্মকে স্নুজে না দিয়ে দুজনেই তড়াক করে উঠে পড়লাম। প্রাত্যঃকৃত্য সেরে খাবার-জল-ওষুধ গুছিয়ে জয় মা বলে চারটে কুড়ি নাগাদ রওনা দিলাম। পুণেতে ভোরের আলো ফোটে সাড়ে ছটা নাগাদ, অতএব প্রায় দু ঘন্টা অন্ধকারে চালাতে হবে। কত্তামশাই চোখ-টোখ কচলে মুখে চিউয়িং গাম দিয়ে চালানো শুরু করলেন। পুণে-সাতারা হাইওয়েতে প্রথম একশো কিলোমিটার রাস্তা বেশ বাজে, এদিক ওদিক খোঁড়াখুঁড়ি আর ডাইভার্শানে ভর্তি। তার ওপর গাঁক গাঁক করে প্রচুর ট্রাক চলছে। দু একবার মনে সন্দেহ এসেছিল, যে পুরো রাস্তাটা এরকম খারাপ থাকলে তো সত্যিই শরীর খারাপ হয়ে যাবে পৌঁছনো অব্দি। অন্ধকারে বুক দুরুদুরু করে বেশ কিছুটা পশ্চিম ঘাটের পাহাড়ি প্যাঁচানো রাস্তা পেরোনো গেল ট্রাকের পেছন পেছন। পাহাড় থেকে সুরুর বলে জায়গাটায় নামতেই মেঘলাচ্ছন্ন এক অপূর্ব সূর্যোদয় দেখলাম।

Read the rest of this entry »

 
4 Comments

Posted by on October 21, 2016 in ঘোরা ফেরা, রচনা

 

Tags: , , , , , , , , , , , , , ,

পুজো মানে…

আসলে পুজোর মানে নিয়ে অনেক লেখাজোখা হয়েছে এবং চলছে। যে যার আপন মনের মাধুরী মিশায়ে লিখে গেছে কীভাবে পুজো মানে কাশফুল, শরতের আকাশ, মহালয়া, ঠাকুর দেখা, প্রেম, এগরোল ফুচকা, ইত্যাদি প্রভৃতি। কারওর কাছে দূর্গা পুজো মানে দেবীর আরাধনা, কারওর কাছে শুধুই মজা আর ‘মস্তি।’ বাঙালীর বারো মাসে তেরো পার্বণ হলেও ‘পুজো’ কথাটা মাথায় আসলেই আপামর বাঙালী দূর্গা পুজো বলে হামলে পড়ে।

বছর দশেক আগে জীবনে প্রথমবার পুজোয় বাড়ির বাইরে ছিলাম, তায় আবার বিদেশে। মন মেজাজ সবই প্রকান্ড রকম খারাপ ছিল। কিন্তু সেবারে শুধু বন্ধুদের জন্য পুজোটা অন্যরকম হয়ে উঠেছিল। জনা তিরিশেক তরুণ-তরুণী মিলে যদি কিছু ঠিক করে তাহলে পঙ্গুও গিরি লঙ্ঘন করতে পারবে, একটা পুজোর আয়োজন করা তো জলভাত। ছ ইঞ্চিখানেকের ঠাকুরকে পুজো করেও যে আনন্দটা দেশপ্রিয় পার্ক লেভেলের হতে পারে সেটা এক দশক আগেই প্রমাণ হয়ে গেছে।

dsc08413

দেশ হোক বা বিদেশ, বাঙালী যেখানেই থাকুক, পুজো মানে অনেকের কাছেই অনেক কিছু। কলকাতার পুজো যে তুলনাহীন, সেটা আমি মানলেও অনেকে মানেন না। এরকম অনেক প্রবাসী বন্ধু আছে যারা জীবনে কলকাতার পুজো দেখেনি কিন্তু তাদের নিজের নিজের শহর/এলাকা/হাউজিং ঘিরে পুজোর উন্মাদনা দেখলে অবাক হতে হয়।

Read the rest of this entry »

 
Leave a comment

Posted by on October 7, 2016 in রচনা

 

Tags: , , , , , , , , , , , ,

চার, ছিপ ও জালের গল্প

ঘুম থেকে উঠে আড়মোড়া ভেঙে ঐশী দেখল বিকেল পাঁচটা বাজে। এক্ষুণি গৌরবের আসার সময় হয়ে যাবে। আজ বুধবার। গত কয়েক মাস ধরেই এই সময়ে আসছে গৌরব। ঘন্টাখানেকের মধ্যেই কাজ সেরে চলে যায় সে। ঐশী খুব বেশি সেজে থাকে না অবশ্য, শিফনের শাড়িই তার পছন্দ, ফস করে একটানে খুলে ফেলা যায়। সঙ্গে সরু একচিলতে ফিতের মত ব্রা-কাট ব্লাউজ, যা একটা হুকের ওপর বিপজ্জনকভাবে টিঁকে থাকে কোনোমতে।

ঐশীর স্বামী বিনায়ক এলাকার সাংসদ, সর্বদাই কাজে ব্যস্ত। গুণে হয়ত কয়েক ঘন্টা বাড়িতে থাকে। কাজেই গৌরবের আসা নিয়ে ঐশীর কোনো চাপ হয়না। ব্যায়াম শিক্ষক হিসেবে সে প্রতি বুধবার বিকেলে আসে, সেই এক ঘন্টা বাড়ির চাকরদের দোতলায় ওঠা বারণ। গৌরবের খোঁজ ঐশী পেয়েছিল মিসেস বক্সীর কাছে, তাঁর বাড়িতে একটা পার্টিতে। মিস্টার বক্সী বিনায়কের পার্টির রাজ্য সম্পাদক, মানীগুণী মানুষ। তাঁর স্ত্রী পার্টি থ্রো করলে ঐশীকে যেতেই হয়। মধ্যবয়স্কা মিসেস বক্সীকে চারটে ককটেলের পর একা পেয়ে সে জিজ্ঞ্যেস করেছিল, ‘এত বড় বাড়িতে আপনি একা থাকেন, মানে আপনাদের তো কোনো ইস্যুও নেই, কী করে সময় কাটান?’

মিসেস বক্সী কিঞ্চিৎ চটুল মহিলা। হালকা চোখ টিপে তাকে বলেছিলেন, ‘সময় কাটানোর উপায় তোমাকেও দিতে পারি।’ বলে তাকে গৌরবের ফোন নম্বর দিয়েছিলেন। ঐশী প্রথমে বুঝতে পারেনি ব্যায়াম শিক্ষক দিয়ে সে কী করবে। তার ছিপছিপে তিরিশোর্ধ্ব শরীরে ব্যায়ামের খুব একটা প্রয়োজন নেই। একাকীত্ব কাটাতে গৌরবকে একদিন ডেকেই নিয়েছিল। যে ব্যায়াম সে শিখিয়েছিল, বর্তমানে সেটার বেশ অভাব ঐশীর জীবনে। তাদের সন্তান হওয়ার পর থেকে বিনায়কের কাজের চাপ আরো বেড়ে গেছে, আরো নিরাসক্ত হয়ে গেছে সে। ছেলে হওয়াতে ঐশীর প্রয়োজন বোধহয় ফুরিয়ে এসেছে তার কাছে। যদিও ছেলে ছ’বছরের হতেই তাকে বোর্ডিং স্কুলে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিনায়ক নাকি চায় না তার রাজনৈতিক কীর্তিকলাপের প্রভাব ছেলের ওপর পড়ুক।

আজ বুধবার, গৌরবের আসার দিন। লম্বা দোহারা চেহারার কমবয়েসী ছেলেটিকে ঐশী একদিন জিজ্ঞ্যেস করেছিল, ‘আচ্ছা, আপনার আসল নাম কি গৌরব? এই পেশায় কেন এলেন?’ স্বভাবে শান্ত এবং প্রচন্ড মিতভাষী গৌরব বলেছিল, ‘আমার নাম নরেন নস্কর হলে কি আপনার ভাল লাগত, ম্যাডাম? তাছাড়া আমাদের লাইনে আসল নাম বলা বারণ। কাজে কোনো ভুল হলে আপনি বলতে পারেন।’ কাজটা, বলাই বাহুল্য, গৌরব বেশ ভালই শিখে এসেছে। প্রেমের চৌষট্টি কলা জানা পুরুষ যে কত লোভনীয় হতে পারে সেটা ঐশী এই প্রথম জানল। তার প্রতিটি রন্ধ্র জাগিয়ে দিয়ে যায় গৌরব, যাতে সে প্রতি বুধবারের অপেক্ষায় থাকে।

আজ গৌরব যেন আরো বেশি ধৈর্য্যশীল, আরো বেশি চায় সে – দিতে এবং নিতে। ঐশীকে একটু একটু করে জাগিয়ে তুলে, খেলিয়ে খেলিয়ে সে কামনার চূড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। যে মুহুর্তে ঐশী আর নিজেকে ধরে রাখতে পারছে না, আবেশে তার চোখ বন্ধ, তার ভেতরে গৌরব – ঠিক সেই মুহুর্তে একটা ছোট্ট ধারালো ছুরি নির্ভুলভাবে তার হৃদপিন্ড ভেদ করে গেল। নিপুণ দক্ষতায় নিজেকে হারিয়ে ফেলার আগেই গৌরব বেরিয়ে এল ঐশীর ভেতর থেকে। ছুরির বাঁট থেকে আঙুলের ছাপ মুছে ফেলল, তার কাজ শেষ।

ম্যাডামের সঙ্গে অভিনয় করতে শেষের দিকে গৌরবের একটু খারাপই লাগছিল। মহিলা জেনেও গেলেন না যে বিনায়ক বসু, সাংসদ, তাঁর স্বামীই গৌরবকে এই অ্যাসাইনমেন্টটা দিয়েছিলেন। কেন, সেটা সে জানে না অবশ্য।

knife

 
1 Comment

Posted by on September 15, 2016 in অণু গল্প, গল্প

 

Tags: , , , , , , , ,

ঈগলের চোখ

এই আলোচনা লেখার জন্যে কেউ আমাকে একটাও টাকা/ডলার/পাউন্ড/বিটকয়েন দেয়নি। সিনেমা বোদ্ধা/আঁতেল নই, শুধুমাত্র দর্শক হিসেবে বক্তব্য পেশ করছি।

eagle

ডিটেলঃ

ভাষা – বাংলা, রিলিজ তারিখ – ১২ই অগাস্ট ২০১৬, দৈর্ঘ্য – ১ ঘন্টা ৫৭ মিনিট, ছবি – রঙীন, সঙ্গীত – বিক্রম ঘোষ, চিত্রনাট্য/পরিচালনা – অরিন্দম শীল, সম্পাদনা – সুজয় দত্ত রায়, মূল গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, অভিনয়ে – শাশ্বত, অনির্বাণ ভট্টাচার্য্য, শুভ্রজিত, গৌরব, পায়েল সরকার, রিয়া বণিক, জয়া আহসান, উষসী সেনগুপ্ত, অরুণিমা ঘোষ।

আলোচনাঃ

download-1এবার শবর বানানোর জন্যে অরিন্দম শীলের কাছে আমি কৃতজ্ঞ ছিলাম কারণ উনি শবরকে বড় পর্দায় আনলেন। বাংলা সাহিত্যে প্রচুর গোয়েন্দা থাকলেও, সিনেমাতে ফেলুদা-ব্যোমকেশ ছাড়া কেউই কল্কে পাননি। তিনরকমের ফেলুদা আর চার-পাঁচরকমের ব্যোমকেশকে দেখে গত বছর থেকেই মনে হচ্ছিল আর কি কোনো ক্যারিশম্যাটিক গোয়েন্দার কথা বাংলা সাহিত্যিকরা লিখে যাননি যাদের বড় পর্দায় দেখেও ভাল লাগবে? শবর সে খামতি খুব ভালভাবে পূরণ করেছেন। এবার শবর আর ঈগলের চোখ – দুটি ছবিরই মূল গল্প পড়েছি – ঋণঈগলের চোখ। সমস্য হচ্ছে, ঋণ একটি চমৎকার উপন্যাস হওয়াতে পরিচালকের কাজটা বোধহয় একটু সহজ হয়ে দিয়েছিল। সে তুলনায় ঈগলের চোখ উপন্যাস নয়, বড়গল্প। এবং তার গুণগত মান একটু কমা। মূল গল্পটা কিছুটা পড়লে পাঠক চট করে ধরে ফেলবেন অপরাধী কে। ছবিটা দেখেও সেটা আন্দাজ করতে কারুর খুব একটা অসুবিধে হবে না। এখানেই কিস্তিমাত করেছেন অরিন্দম শীল। একটা সাধারণ গল্পের মান বেশ খানিকটা বাড়িয়ে তাকে একটা ভাল ছবিতে পরিণত করেছেন। মূল গল্পটা পুরোটাই প্রায় সংলাপে এগোয়। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের অসামান্য লেখনীতে তরতরিয়ে এগোলেও বাঁধুনিতে একটু আলগা। যখন শুনলাম এই গল্পটা নিয়ে ছবি হচ্ছে, বেশ অবাকই হয়েছিলাম। শবরের যে গুটিকয় গল্প আছে, তার মধ্যে ঈগলের চোখের চেয়ে ভাল গল্পও আছে।

Read the rest of this entry »

 
3 Comments

Posted by on September 9, 2016 in সিনেমালোচনা

 

Tags: , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

গোয়েন দা

এই আলোচনা লেখার জন্যে কেউ আমাকে একটাও টাকা/ডলার/পাউন্ড/বিটকয়েন দেয়নি। সিনেমা বোদ্ধা/আঁতেল নই, শুধুমাত্র দর্শক হিসেবে বক্তব্য পেশ করছি।

goenda

ডিটেলঃ
ভাষা – বাংলা, রিলিজ তারিখ – ৭ই অগাস্ট ২০১৬, দৈর্ঘ্য – ২ ঘন্টা ৩০ মিনিট, ছবি – রঙীন, সঙ্গীত –রাজা নারায়ণ দেব, চিত্রনাট্য/পরিচালনা ও সম্পাদনা – প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য্য, অভিনয়ে – রাহুল, সোহিনী সরকার, ঋত্বিক চক্রবর্তী, সায়ন, ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, শাওন।

আলোচনাঃ
প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য্যের একটি টেলি ও একটি ফিচার ফিল্ম দেখে আমি যথেষ্ট ফ্যান হয়ে গেছি ওঁর পরিচালনার। প্রথমে ‘বাকিটা ব্যক্তিগত’ ও তারপর ‘পিঙ্কি আই লাভ ইউ’ বেশ গভীর ছাপ ফেলেছিল আমার মনে। ম্যাজিক রিয়ালিটি বা সুররিয়ালিজম নিয়ে একটা সুন্দর খেলা করার অভ্যেস ওঁর আছে যেটা বাংলা সিনেমায় আপাতত বিরল। ‘বাকিটা ব্যক্তিগত’-এর মোহিনী গ্রামের কথা নিশ্চয়ই সবার মনে আছে, যেখানে গেলে প্রত্যেকের প্রেম হয়। যেখানে প্রেম কাউকে ফেরায় না। অত সুন্দর একটা কনসেপ্টের পর প্রদীপ্ত ফিরলেন ‘গোয়েন দা’ নিয়ে। হ্যাঁ, ফিরলেনই বটে কারণ বহুদিন ওঁর পরিচালনায় কোনো ছবি বেরোয়নি। জি বাংলা ওরিজিনালসে ‘গোয়েন দা’র প্রোমো দেখে অবশ্য জানতাম না যে এটি প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য্যের ছবি। রাহুল একাই কারণ হয়ে উঠেছেন কোনো ছবিকে দেখা বা না দেখার লিস্টে রাখার জন্যে।

Read the rest of this entry »

 
Leave a comment

Posted by on August 8, 2016 in সিনেমালোচনা

 

Tags: , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

 
যযাতির ঝুলি | বাংলা ব্লগ | Jojatir Jhuli | Bangla Blog

বাংলা কবিতা, বাংলা গদ্য.. মুচমুচে, খাস্তা, অনবদ্য। ছুটির দুপুরে হোক না যোগ.. যযাতির গল্প, ছড়া, ব্লগ।।

feeble Lines

- By Adarsh

Natasha Ahmed

Author at Indireads

জীবনের আয়না

কিছু এলোমেলো ভাবনাচিন্তা

ব্লগম ব্লগম পায়রা

এটা-সেটা লেখা-দেখা...কখনো আনমনে কখনো সযতনে, টুকিটাকি আঁকিবুঁকি...সাদা-কালো সোজা বাঁকা

translations

translations of contemporary, modern and classic bengali fiction and poetry by arunava sinha

Cutting the Chai

India's original potpourri blog. Since 2005. By Soumyadip Choudhury

সাড়ে বত্রিশ ভাজা

একটি বাংলা ব্লগ

MySay.in | Political Cartoons and Social Views

Funny Cartoon Jokes on Latest News and Current Affairs.

Of Paneer, Pulao and Pune

Observations | Stories | Opinions

A Bookworm's Musing

Reading the world one book at a time!

SpiceArt

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

Scrapbook

A Public Performance of Derivative Thinking ;-)

Abhishek's blog অভিষেকের ব্লগ

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

Calcutta Chromosome

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

Bookish Indulgenges with b00k r3vi3ws

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

monalisadesign

Monalisa's creations

of spices and pisces

food and the history behind it.

A Little Blog of Books

Book reviews and other literary-related musings

Scratching Canvas

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

Sapna's Blog

A civilization is only as great as its dreams

The Greatbong Blog & Podcast

Dispensing unsolicited opinions since 2004

Words. More or Less.

Grey cells in Grayscale.

The Tales Pensieve

World of Indian Reads

%d bloggers like this: