RSS

বর্ষা ও ইলিশ

বর্ষার সঙ্গে ইলিশের সম্পর্কটা ঠিক স্বামী-স্ত্রীর মত না প্রেমিক-প্রেমিকার মত সেটা অনেক বছর ধরেই ভাবাচ্ছে। বহুকাল আগে আমার শৈশবে গঙ্গার ইলিশ বলে লুপ্তপ্রায় জিনিসটা তাও পাওয়া যেত। ভোর চারটের সময় ঝাঁকায় করে ইলিশ তুলে যখন ঝপ করে গঙ্গার পাড়ে ফেলা হত, মনে হয়না সেই রুপোলি শস্য বেশিক্ষণ পড়ে থাকত। আমার বাবাও ঘোর বর্ষায় ভোরে উঠে ইলিশ আনতে গেছে কয়েকবার। অন্যান্য সময় বাজারের চেনা, একটু সখ্যতা হয়ে যাওয়া মাছওয়ালাকে আগে থেকে বলে রাখা, ‘শোন গৌরাঙ্গ, অমুক রোববার বাড়িতে অতিথি আসছে, আমার কিন্তু দু কিলো গঙ্গার ইলিশ লাগবে।‘ – এটা আট-নয় বছরে প্রায় নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে গেছিল। সেই ট্র্যাডিশন এখনও চলিতেছে, তবে গঙ্গাটা বদলে কোলাঘাট/ডায়মন্ড হারবার হয়ে গেছে। বাবার মত এখন শ্বশুরমশাইও বাজারে বলে রাখেন, ‘শোন হরি, আমি ছেলের কাছে পুণেতে যাচ্ছি, ভাল দেখে ইলিশ একটু রেডি রাখিস, নিয়ে যাব।’

গড়িয়াহাটে রাজুর দোকানে ইলিশের সম্ভার

গড়িয়াহাটে রাজুর দোকানে ইলিশের সম্ভার

গত বর্ষায় কলকাতায় থাকার সুবাদে গড়িয়াহাট বাজারে ইলিশের বাহার দেখার সুযোগ হয়েছিল। সেখানে রাজুর দোকানে আইস বক্সে রাখা থাকে বাংলাদেশের চাঁদপুরের ইলিশ। তার চেহারা আর দাম দুটোই দারুণ ভাল, তাই স্বাদ চাখার সাহস হয়নি। রাজুর ভাঁড়ারে কোলাঘাট বা ডায়মন্ড হারবার-এর অ্যাসর্টেড কালেকশন থেকে ৫০০/৭০০/১০০০ দিয়ে ইলিশ কিনে প্রাণভরিয়ে তৃষাহরিয়ে খেয়েছি। রাজুর অ্যাসিস্ট্যান্ট বিজু একবার বলেছিল, ‘দাদা, ভাল মাছটা দিচ্ছি নিয়ে যান। আজকেই একটু কাঁচা খাবেন, দু পিস আপনি, দু পিস বৌদি।’ ব্যাপারটা ইলিশ হলেও কাঁচা খাবার প্রস্তাবে বেশ ঘাবড়ে গেছিলাম।

Read the rest of this entry »

Advertisements
 
Leave a comment

Posted by on July 15, 2016 in খাই খাই, রচনা

 

খাই খাইঃ ক্যালকাটা প্লাস

শোনা যায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কলকাতায় মেসে থাকতেন, পাইস হোটেলে খেতেন রোজ দুপুরে। পেটচুক্তিতে পেট ভরে ভাত, ডাল, ভাজা, তরকারি, মাছ, চাটনি। সেইসব হোটেলের রান্না হত অতুলনীয়, একেবারে বাড়ির মত বা তার চেয়েও ভাল। বিভিন্ন জেলা থেকে যাঁরা চাকরিসূত্রে কলকাতায় আসতেন, কারুর খাওয়ার অসুবিধে হত না হপ্তায় পাঁচটা দিন, তারপর শনিবারে তাঁরা বাড়ি যেতেন পরিবারের কাছে। ধীরে ধীরে রেস্তোঁরার উদ্ভাবন হওয়াতে পাইস হোটেলের গুরুত্ব কমে আসে শহরে। মধ্যবিত্ত বাবুদের মনে হতে থাকে হোটেলগুলো অপরিষ্কার, বসার জায়গা অপরিসর, সেখানে খেতে যাওয়া তাদের স্টেটাসে ডাউনমার্কেট। স্বাধীনতার পর ডালহৌসির অফিস পাড়ায় আস্তে আস্তে বসতে থাকে পাঁউরুটি-চিকেন স্টু এর স্টল, কাটা ফলের বিস্তৃত ঠেলাগাড়ি, লুচি-ঘুগনির ছোট্ট দোকান। পাইস হোটেলের গুরুত্ব কমতে কমতে এসে ঠেকে শুধু ট্রাক ড্রাইভার, বাসের কন্ডাক্টর, জয়নগর বা পিয়ালী থেকে কলকাতায় কাজের খোঁজে আসা সেইসব তরুণদের জন্যে।

cplus

নিরামিষ থালিঃ ভাত, ডাল, আলু পোস্ত, আলু ফুলকপির তরকারি, আমের চাটনি (ছবিতে নেই)

তা বলে পাইস হোটেল কি একেবারে উঠে গেছে? না। খাস কলকাতায় এখনও পাবেন পাইস হোটেল – রুবি হসপিটালের থেকে নারকেলবাগান বাস স্টপের মাঝের ফুটপাথে ত্রিপল টাঙানো উনুন বসানো দোকান, যাদবপুর থানা থেকে আনওয়ার শাহ রোড কানেক্টরের মোড়ে, বা শিয়ালদার আশেপাশে। যখন আপনি রুবির মোড়ের দিকে ফুটপাথ ধরে হেঁটে যাবেন, গনগনে গ্রীষ্মের বিকেলে বা কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে অফিসের বাস ধরার জন্যে, পাতলা মুসুর ডালে সম্বার দেওয়ার গন্ধ বা রুই মাছ ভাজার সুবাসে ম ম করবে বাস স্টপটা আর আপনার ক্ষিদে পেয়ে যাবেই। যেসব তুচ্ছ দৈনন্দিন ঘ্রাণ আপনি বাড়িতে থাকলে খেয়ালই করেন না, সেগুলো হঠাৎ করে পাইস হোটেল আপনাকে মনে করিয়ে দেবে। স্টিলের থালায় কমদামী মোটা চালের ভাত, পেঁয়াজ পাঁচফোড়ন আর কাঁচালঙ্কা ঘষে দেওয়া মুসুর ডাল, ঝুরিঝুরি আলু ভাজা আর পটল দিয়ে টাটকা মাছের ঝোলের যে কী মহিমা সেটা আপনি নতুন করে জানবেন। আজকালকার হাল ফ্যাশানের ক্যাফে কাম বেকারিতে ঢুকলেই ফ্রেশলি বেকড ব্রেড বা কাপকেকের যে গন্ধ ভেসে আসে, তার থেকে বৌদির দোকানের ডাল ভাত কোনো অংশে কম মনে হবে না।

cal plus1

ছবি নিজস্ব

এত লম্বা গৌরচন্দ্রিকার পর এবার আসল কথায় আসি। প্রবাসে থেকে যে কটা বাঙালি ‘রেস্ট্যুরেন্ট’-এ গেছি, তার মধ্যে দু-একটিকে সত্যিই পাইস হোটেল মনে হয়েছে। অবশ্যই সেগুলো ফুটপাথে ছাউনি ঘেরা কাঠের বেঞ্চ এর উপর স্টিলের বা কলাই করা থালায় খাবার পরিবেশন করে না। তার চেয়ে অনেক ক্ষেত্রেই মানে এবং দামে উন্নত। পাইস হোটেল বলে তাদের কিন্তু কোনো অসম্মান করতে চাইছি না, বরঞ্চ পাইস হোটেলের মতই ভাল ঘরোয়া খাবার এবং পরিবেশনে যে আন্তরিকতা তাদের আছে, তার কথা বলছি। পুণের পিম্পলে সৌদাগরের ক্যালকাটা প্লাস সেই বিভাগে পড়ে। কাউন্টারে বসেন বয়স্ক কাকু, হোম ডেলিভারি করতে যান জামাইদা এবং পুজোর সময় কাকুর স্টল সামলান তাঁর ছেলে।

ক্যালকাটা প্লাস, পিম্পলে সৌদাগর

ঠিকানা – গীতাই মার্কেট, শিভার চৌক, পিম্পলে সৌদাগর, পুণে

ফোন – +৯১-৮৭৯৬২০৭২১৯

বসে খান | আমিষ | সুরারসে বঞ্চিত | ঘরে আনানো যাবে | পাখা আছে এসি নেই

সময় – দুপুর সাড়ে বারোটা থেকে তিনটে, সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত এগারোটা

Read the rest of this entry »

 
3 Comments

Posted by on April 18, 2016 in খাই খাই

 

Tags: , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

প্রেম, তবু

প্রেম, তবু

দৃশ্য একঃ

রাত নটা। ক্লোজ আপে একটি মেয়ে, লম্বা দোহারা শ্যামলা চেহারা। পরণে হালকা টপ আর জিনস, গলায় একটা পাতলা স্কার্ফ জড়ানো, কাঁধে মোটামুটি ঢাউস একটা ব্যাগ। কর্পোরেট অফিসের হিমঘর থেকে বেরিয়ে করিডরের লকার রুমের দিকে হাঁটা দিল। ব্যাগ খুলে চাবি খোঁজার মত সময় নেই তার, নিজের কিউবিক্ল থেকে চাবিটা বের করে হাতে নিয়ে রেডি হয়ে বেরিয়েছে সে। জেলের কয়েদির মত সংখ্যাযুক্ত নিজের লকার খুলে সে অমূল্য জিনিসটি বের করল – স্মার্টফোন। তার কাজের ধরণটাই এমন যে সারাদিন ফোনের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়। এদিকে…গত দশ ঘন্টায় কে কে পিং করেছে কে জানে।

ফোনের স্ক্রিনের ক্লোজ আপ। Whatsapp নোটিফিকেশন ১০৯ , মিসড কল ৩, Twitter আইকনে ২১টা নোটিফিকেশন।

মেয়েটিঃ উফফ, এই স্কুলের গ্রুপের জনতা আবার পাগল হয়ে গেছে মনে হয় আজকে। কী করে যে এত সময় পায় কে জানে! আমি শালা এদিকে অফিস মারাচ্ছি সারাদিন।

একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফোনটা মুঠোয় নিয়ে সে অফিসের বাইরে এল। রিস্টওয়াচে সময়টা দেখল নটা পনেরো। নির্দিষ্ট ক্যাবটি এলে আরো কয়েকজনের সঙ্গে সে খাঁচায় ঢুকে পড়ল। মিনিট পঁচিশের যাত্রার পুরোটাই লাগল তার সব মেসেজ পড়ে ফেলতে। সবগুলোর উত্তর দেওয়া হল না অবশ্য অত কম সময়ে। বাড়ি ঢুকেই সে কাঁধের ঢাউস ব্যাগটা ছুঁড়ে সোফার ওপর ফেলল। ক্যামেরা একটু ঘুরবে সুদৃশ্য ফার্নিশড ফ্ল্যাটের ভেতর। লং এবং ক্লোজ শটে দেখা যাবে মেয়েটির সঙ্গে আরো দুটি মেয়ে থাকে। একজন তার নিজের ঘরে বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে, সামনে ল্যাপটপ। আরেকজন লিভিং রুমে সোফায় বসে হাঁ করে টিভি দেখছে, হিন্দি সিরিয়াল।

মেয়েটি নিজের কোটরে ঢুকে পড়ল। এরপরে কয়েকটি ফ্রেম আলাদা আলাদা দেখা যাবে – তিনটি মেয়ে যে যার ঘরে খাবার বেড়ে নিয়ে খাচ্ছে, রান্নাঘরটা মোটামুটি গোছানো, তৃতীয় মেয়েটি খেয়ে উঠে আবার সিরিয়াল দেখছে, দ্বিতীয় মেয়েটি খাবার পর বাকিদের গুডনাইট বলে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিল, সে এখন তার বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে ভিডিও চ্যাট করবে। বয়ফ্রেন্ডের চেহারাটা আমরা এক ঝলক দেখব মেয়েটির ল্যাপটপের স্ক্রিনে, হালকা মোটকা মাঝারি দেখতে একটি দক্ষিণী ছেলে। সে স্ক্রিন থেকে হাতমুখ নেড়ে এদের হাই হেলো করবে।

Read the rest of this entry »

 
 

Tags: , , , , , , , , ,

ব্যোমকেশ বক্সী

এই আলোচনা লেখার জন্যে কেউ আমাকে একটাও টাকা/ডলার/পাউন্ড/বিটকয়েন দেয়নি। সিনেমা বোদ্ধা/আঁতেল নই, শুধুমাত্র দর্শক হিসেবে বক্তব্য পেশ করছি।

ছবি সৌজন্যেঃ গুগল

ছবি সৌজন্যেঃ গুগল

ডিটেলঃ
ভাষা – বাংলা, রিলিজ তারিখ – ১৬ই অক্টোবর ২০১৫, দৈর্ঘ্য – ১ ঘন্টা ৫০ মিনিট, ছবি – রঙীন, মূল গল্প – শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায়, চিত্রনাট্য – অঞ্জন দত্ত, সঙ্গীত – নীল দত্ত, পরিচালনা – অঞ্জন দত্ত, অভিনয়ে – যীশু সেনগুপ্ত, শাশ্বত চ্যাটার্জী, কৌশিক সেন, শান্তিলাল মুখার্জী, দেবদূত ঘোষ, অঙ্কিতা চক্রবর্তী, চন্দন সেন, সাগ্নিক, প্রান্তিক ব্যানার্জী, জয়জিত ব্যানার্জী, উষসী চক্রবর্তী, প্রিয়াঙ্কা সরকার।

আলোচনাঃ বহুদিন হল সিনেমা নিয়ে কিছু লিখিনি এখানে। কারণ জিজ্ঞ্যেস করিয়া লজ্জা দিবেন না। ল্যাদ এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিকের জন্য গুচ্ছ সিনেমা দেখলেও সব লিখে ফেলা হয় না। তবে ব্যোমকেশ দিয়েই এই ইনিংস শুরু করি। টেলিভিশনে দেখে ফেললাম অঞ্জন দত্ত ও যীশুর ‘ব্যোমকেশ বক্সী।‘ এর আগে অঞ্জন দত্তর তিনটি ছবি আবীরকে ব্যোমকেশ হিসেবে নিয়ে এবং অরিন্দম শীলের ‘হর হর ব্যোমকেশ’ (আবার আবীর) দেখেছি। এত এত বক্সী দেখে নিজেকে পরমহংস মনে হচ্ছে, জলটুকু ছেঁকে ছবি থেকে দুধটুকু তুলে নিতে হবে। কী চাপ!

যেহেতু এর আগে সব মিলিয়ে গোটা পাঁচ-ছয় ব্যোমকেশ হয়েছে গত কয়েক বছরে, এবারে কোনোরকম আশা-প্রত্যাশা-হতাশা-নিরাশা ছাড়াই জাস্ট ছবিটা দেখতে বসেছিলাম। যীশুকে মানাবে কিনা, আদৌ অভিনয় করবেন কিনা, অঞ্জন দত্ত আবার ছড়াবেন কিনা, সব ভাবনা সরিয়ে রেখে সরস্বতী পুজোর পরের দিন দুপুরে গোটাসেদ্ধ খেতে খেতে টিভির সামনে বসলাম। ট্রেলারে সবচেয়ে ভাল লেগেছিল সূত্রধার হিসেবে অজিতকে। ছবির একেবারে শুরুতে আরও ভাল লাগল। অজিতের ভূমিকায় শাশ্বত থাকলে সেই ছবি এমনিই বসে পুরোটা দেখা যায় (‘ব্যোমকেশ ফিরে এল’ বাদে, সেখানে আবীর একা হাতে একেবারে টানতে পারেননি)। এই ছবির মূল গল্পটি ‘কহেন কবি কালিদাস’ সেটা এতদিনে সবাই জেনে গেছেন। ব্যোমকেশের অন্যান্য গল্প তূলনায় এটা হয়ত একটু ম্যাড়ম্যাড়ে – গ্ল্যামারাস লোকেশন নেই, বরঞ্চ কয়লাখনি, সময়টা টালমাটাল, চরিত্রগুলি সবাই প্রায় ধূসর, কয়লার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই। তবে মোহিনীর চরিত্রটি থাকায় এটা সে অর্থে ‘অ্যাডাল্ট’ গল্প ছিল এক সময়ে।

Read the rest of this entry »

 
1 Comment

Posted by on February 26, 2016 in সিনেমালোচনা

 

Tags: , , , , , , , , , , , , , , ,

পুণে পাঁচালী ৬ – শারদীয় শুভেচ্ছা

পুণে পাঁচালী ৬ – শারদীয় শুভেচ্ছা

পুণে পাঁচালীর কয়েকটি কিস্তির পর ভেবেছিলাম কলকাতা কচকচিটা অনেকদিন চালাতে পারব। কিন্তু বিধি বাম (পুণে তো কলকাতার বামেই), তাই পুণে পাঁচালীর কিস্তিই বাড়বে যা দেখছি। কলকাতা কচকচির আরো কয়েক কিস্তি পড়তে পারত, কিন্তু তাতে আমার খিস্তি খাওয়ারই সম্ভাবনা বেশী। কাজেই, তিষ্ঠ পাঠকবর/বউ।

বছরখানেক আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৯৯ শতাংশতে থাকার পর কলকাতা মোটামুটি আমাদের মনের সব আর্দ্রতাই শুষে নিয়েছে, সেই বিষতর বিষয়ে বিশদে আর নাই বা বললাম। ভোজরাজের রোল, আড্ডা আর জমজমাট একটা রোডট্রিপ ছাড়া কলকাতায় খুব ভাল কিছু হয়নি। কিন্তু থাক, সেগুলো নাহয় কলকাতা কচকচিতেই আসবে। পুণেতে একই ঘরে দ্বিতীয়বার ঘর করতে এসে দিব্যি লাগছে। সেই চেনা পটিবেশী – আমাদের হাঁটার আওয়াজে যার ঘুম হয় না, সামনের ফ্ল্যাটের বড় বউ বিদেশ থেকে একটা গুটগুটে বাচ্চা নিয়ে ফিরেছে, সেই ব্লগবিশ্বে বিখ্যাত কাজের মাসি আমার, এবং সেই চেনা দোকানপাট আর দোকানি।

Read the rest of this entry »

 
1 Comment

Posted by on October 24, 2015 in পুণে পাঁচালী

 

Tags: , , , , , ,

কলকাতা কচকচি ৩ – চেনা-আধচেনা-অচেনা

কলকাতা কচকচি ৩ – চেনা-আধচেনা-অচেনা

(আগের পর্বগুলি এখানে)

কলকাতায় বহুকাল না থাকার দরুণ যেটা ভুলে গেছিলাম সেটা আমাদের ভাষায় ‘চেনা সিন্ড্রোম’। কলকাতা ও শহরতলির লোকেরা যে কোনো কাজে, যে কোনো জায়গায় গিয়ে আগে কোনো ‘চেনা’ লোক খোঁজে। আমি-আপনি হয়ত ‘চেনা’ বলতে বুঝি এরকম কেউ যার নাম-ধাম-ঠিকুজি-কুলুজি জানি, যার সঙ্গে প্রায়ই দেখা হয়, অথবা নিতান্ত আত্মীয়-বন্ধুদের মধ্যে কেউ। বেশ কিছু লোক অপর কিছু লোককে চেনা বলে পাকড়াও করেন, যার সঙ্গে হয়ত তার ছয় ডিগ্রীর চেয়েও বেশি সেপারেশন। সেই থিওরি নিশ্চয়ই আপনারা অনেকে জানেন যে পৃথিবীর যে কোনো দুজনের মধ্যে ‘বন্ধুর বন্ধু’ বা ‘চেনার চেনা’ বেরোতে মাত্র ছয় জন লাগে। অথবা শিবরামের সেই জ্যামিতিক অঙ্ক যেখানে বন্ধুর বন্ধুর বন্ধু নিয়ে বেশ একটা জম্পেশ গল্প ছিল।

Read the rest of this entry »

 
2 Comments

Posted by on May 9, 2015 in কলকাতা কচকচি

 

Tags: , , , , , , , , , , ,

কলকাতা কচকচি ২ – আলালের ঘরের (দা)লাল

কলকাতা কচকচি ২ – আলালের ঘরের (দা)লাল

(প্রথম পর্ব এখানে)

ইন্টারনেটে বাড়ির বিজ্ঞাপন ধোঁকা দেওয়ার পর আমরা তাদের দ্বারস্থ হলাম যাদের হাতেই এখন এ শহরের চাবিকাঠি। তাদের পোষাকী নাম এজেন্ট অথবা ব্রোকার, ভালবেসে লালদাও বলতে পারেন। পাড়ার চায়ের দোকান থেকে ইন্টারনেট পোর্টাল – সবাই তাদের খবর রাখে এবং দেয়। আমরাও ‘জয় মা’ বলে একেকটা এলাকা ধরে তাদের শরণাপন্ন হলাম। প্রতিটা জায়গায় ভিন্ন অভিজ্ঞতা হল, সেগুলো এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম।

রাজারহাট

মাড়োয়ারি বৌদির ফ্ল্যাট থেকে পালানোর পর তুমুল বৃষ্টিতে ভিজে জাব হয়ে, আমিনিয়ার জঘন্য বিরিয়ানি খেয়ে এক চায়ের দোকানে লালদার খোঁজ করলাম। ভাতঘুম দিয়ে উঠে এক ভদ্রলোক কোনোমতে ফ্ল্যাট দেখাতে রাজি হলেন। যেগুলো আমাদের টার্গেট, সেগুলো আবার ওনার টার্গেটের বাইরে। সবারই এলাকা এবং বাজেট ভাগ করা থাকে, সেটা আমরা জানতাম কিন্তু বুঝতে পারিনি ভালো করে। এনার বাজেটটা আমাদের থেকে কম হওয়াতে বেশ ঘাবড়ে গিয়ে কিছু ভুলভাল ফ্ল্যাট দেখালেন। রাজারহাটের চিনার পার্ক মোড় থেকে বাঁদিকে গেলে জ্যাংড়া এবং হাতিয়াড়া পড়ে। সেখানে আছে লোকনাথ বাবার বিখ্যাত মন্দির। তার পাশের গলিগুলোর নাম লোকনাথ পার্ক। সেই অতীব সরু গলিতে আমাদের গাড়ি ঢুকবে না বলাতেও ভদ্রলোক জোর করে বাড়ি দেখাতে নিয়ে গেলেন। “পাশেই গ্যাসের দোকান, ওদের গাড়ি রোজ ঢুকছে আর আপনাদের গাড়ি ঢুকবে না?” অগত্যা। Read the rest of this entry »

 
1 Comment

Posted by on February 12, 2015 in কলকাতা কচকচি

 

Tags: , , , , , , , , , , , , ,

চতুষ্কোণ

এই আলোচনা লেখার জন্যে কেউ আমাকে একটাও টাকা/ডলার/পাউন্ড দেয়নি। সিনেমা বোদ্ধা/আঁতেল নই, শুধুমাত্র দর্শক হিসেবে বক্তব্য পেশ করছি।

ডিটেল

ভাষা – বাংলা, রিলিজ তারিখ – ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪, দৈর্ঘ্য – ২ ঘন্টা ২৮ মিনিট, ছবি – রঙীন, গল্প ও চিত্রনাট্য – সৃজিত মুখার্জী, সঙ্গীত – অনুপম রায়, পরিচালনা – সৃজিত মুখার্জী, অভিনয়ে – অপর্ণা সেন, চিরঞ্জিত, গৌতম ঘোষ, পরমব্রত, কৌশিক গাঙ্গুলী, ইন্দ্রাশিস রায়, পায়েল সরকার, রাহুল, নীল মুখার্জী, বরুণ চন্দ, অর্পিতা, কনীনিকা, অনিন্দ্য চ্যাটার্জী।

ছবি সৌজন্যেঃ ফেসবুক

ছবি সৌজন্যেঃ ফেসবুক

আলোচনা

জাতিস্মর নিয়ে এখানে একটা শব্দও খরচ করিনি। পরিচালক আমাকে বলেছিলেন জাতিস্মর ভাল না লাগলে টিকিটের পয়সা ফেরত দেবেন। কিন্তু চতুষ্কোণের আলোচনায় জাতিস্মরের কথা কেন উঠছে?
কারণ জাতিস্মর ভাল না লাগলেও চতুষ্কোণ সেটা সুদে-আসলে পুষিয়ে দিয়েছে। তাই টিকিটের পয়সা ফেরত চাইছি না। বরং প্রবাসী বন্ধুদের সুপারিশ করে চতুষ্কোণ দেখতে পাঠিয়েছি।

Read the rest of this entry »

 
4 Comments

Posted by on November 12, 2014 in সিনেমালোচনা

 

Tags: , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

কলকাতা কচকচি ১ – ‘খুঁজি খুঁজি নারি’

কলকাতা কচকচি ১ – ‘খুঁজি খুঁজি নারি’

‘তারপর? পুণে পাঁচালী তো হয়ে গেল, এরপর কী?’

কদিন আগে অব্দি নিজেকে এই প্রশ্ন করছিলাম। তবে ‘কী’ এর চেয়ে ‘কোথায়’টা বেশি জরুরি ছিল। তার উত্তর পাওয়া মাত্রই কলামের নামটাও পেট থেকে মুখে এসে গেল। পুণের পর কলকাতা হলে পুণে পাঁচালীর পর কলকাতা কচকচিই আসুক নাহয়। দেড় বছরের পুণেবাসে যদি গোটাপাঁচেক পাঁচালী পোস্ট লিখতে পারি, আপাতত অনির্দিষ্টকাল কলকাতাবাসে নিশ্চয়ই অনেক কিছু লিখতে পারব।

পুণে টু কলকাতা। আনন্দ, উত্তেজনা, নিশ্চিন্দি, পেট গুড়গুড় – সবই থাকা উচিত ছিল, বাদ সাধল অবাধ্য ভাইরাল জ্বর, ঠিক পুণে ছাড়ার আগে। ফলে কলকাতা এলাম ধুঁকতে ধুঁকতে। এসেই বাড়িতে কদিন বডি ফেলে দেব ভেবেছিলাম, কিন্তু নতুন বাসা খুঁজতে হবে যে। হাওড়ায় দুরন্ত থেকে নামার প্রায় বারো ঘন্টার মধ্যে আবার ধড়াচূড়ো পরে রেডি হয়ে বেরোলাম। গন্তব্য এমন একটা জায়গা যেখানে জীবনে একবারই গেছি এর আগে – রাজারহাট। পুরনো কলকাতাবাসীরা হয়ত এখনো রাজারহাট শুনে নাক কুঁচকে তাকান, কিন্তু আইটি সেক্টরে কাজ করা জনতার কাছে খুব বেশি অপশন নেই। বেরোনোর আগে ইন্টারনেট দেখে (অ-পশ্চিমবঙ্গীয় অভ্যাস) ফ্ল্যাট মালিকদের খোঁজ করা শুরু করলাম।

Read the rest of this entry »

 
2 Comments

Posted by on November 6, 2014 in কলকাতা কচকচি

 

Tags: , , , , , , , , , ,

খাই খাইঃ রকিং আড্ডা

ছবি সৌজন্যেঃ রিমলি দে

ছবি সৌজন্যেঃ রিমলি দে

‘খাই খাই’তে এতদিন আমি প্রবাসে বাঙালি রেস্তোঁরার সন্ধান দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। আজ এখানে অতিথি হিসেবে লিখেছেন পুণের অন্যতম ফুড ব্লগার ও ফুড ফটোগ্রাফার রিমলি দে। যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে। রিমলি কাজের সঙ্গে রাঁধে, ছবি তোলে, সেই ছবি ও রেসিপি ব্লগায়, এবং অর্ডারে দুর্দান্ত সব মিষ্টিমাষ্টা বানিয়েও দেয়। সময় করে রিমলির ব্লগেও একবার হানা দিয়ে আসুন। এহেন গুণসম্পন্না রাঁধুনির রেস্তোঁরা সমালোচনা না পড়লে কিন্তু মিস করবেন। দেখে নিন ‘রকিং আড্ডা’তে গিয়ে রিমলির কেমন লেগেছে।

আপনারাও লিখতে পারেন খাই খাই-তে। পশ্চিমবঙ্গের বাইরে যে কোনো বাঙালী খাবারের দোকানের ব্যাপারে লিখে আমাকে জানাতে পারেন এই মেল আইডিতে – chernozems.prb@gmail.com। যথাযথ হলে সেটা এখানে নিশ্চয়ই ছাপা হবে।

ছবি সৌজন্যেঃ রিমলি দে

ছবি সৌজন্যেঃ রিমলি দে

রকিং আড্ডা, পুণে

ঠিকানা – ১, কবিতা অ্যাপার্টমেন্ট, HDFC ব্যাঙ্কের উল্টোদিকে, দত্ত মন্দির চৌক, বিমান নগর, পুণে – ৪১১০১৫

ফোন – ০২০ ২৬৬৩৩৮৯৮, ৭৭৫৮৯৯৫৩৪৬

বসে খান | ঘরে আনিয়ে খান | আমিষ | সুরারসে বঞ্চিত | শীতাতপনিয়ন্ত্রিত | ধূমপানের আলাদা জায়গা

সময় – দুপুর ১টা থেকে রাত ১১টা

Read the rest of this entry »

 
1 Comment

Posted by on August 14, 2014 in খাই খাই

 

Tags: , , , , , , , , , , , , , , ,

 
যযাতির ঝুলি | বাংলা ব্লগ | Jojatir Jhuli | Bangla Blog

বাংলা কবিতা, বাংলা গদ্য.. মুচমুচে, খাস্তা, অনবদ্য। ছুটির দুপুরে হোক না যোগ.. যযাতির গল্প, ছড়া, ব্লগ।।

feeble Lines

- By Adarsh

Natasha Ahmed

Author at Indireads

জীবনের আয়না

কিছু এলোমেলো ভাবনাচিন্তা

ব্লগম ব্লগম পায়রা

এটা-সেটা লেখা-দেখা...কখনো আনমনে কখনো সযতনে, টুকিটাকি আঁকিবুঁকি...সাদা-কালো সোজা বাঁকা

translations

translations of contemporary, modern and classic bengali fiction and poetry by arunava sinha

Cutting the Chai

India's original potpourri blog. Since 2005. By Soumyadip Choudhury

সাড়ে বত্রিশ ভাজা

একটি বাংলা ব্লগ

MySay.in | Political Cartoons and Social Views

Funny Cartoon Jokes on Latest News and Current Affairs.

Of Paneer, Pulao and Pune

Observations | Stories | Opinions

A Bookworm's Musing

Reading the world one book at a time!

SpiceArt

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

Scrapbook

A Public Performance of Derivative Thinking ;-)

Abhishek's blog অভিষেকের ব্লগ

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

Calcutta Chromosome

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

Bookish Indulgenges with b00k r3vi3ws

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

monalisadesign

Monalisa's creations

of spices and pisces

food and the history behind it.

A Little Blog of Books

Book reviews and other literary-related musings

Scratching Canvas

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

Sapna's Blog

A civilization is only as great as its dreams

The Greatbong Blog & Podcast

Dispensing unsolicited opinions since 2004

Words. More or Less.

Grey cells in Grayscale.

%d bloggers like this: