RSS

Tag Archives: বাংলা

মান্না দেঃ ইন্দ্রপতন

mana_dey_sketch

ছবি সৌজন্যেঃ chandrakantha.com

মান্না দের গানের সঙ্গে আমার পরিচয় তাঁর নাম জানারও আগে। এর জন্যে দায়ী আমার বাবা। ছোটবেলা থেকেই বাড়ির সাদা কালো আপট্রন টিভিতে দূরদর্শনে সঞ্চালিত সব পুরনো হিন্দি ছবি আমার দেখা। কিছু কিছু ছবি শুধুমাত্র তার গানগুলোর জন্যে বসে পুরোটা দেখত বাবা। বেশ ছোটবেলায় একবার মনে আছে গল্পের বইয়ের জগতে ডুবে থাকতে থাকতে এক দরাজ গলায় চটকা ভেঙে গেছিল (হ্যাঁ, আমি খুব কম বয়স থেকেই গল্পের বইয়ের পোকা) – গানটা ছিল চলত মুসাফির মোহ লিয়া রে, পিঞ্জরেওয়ালি মুনিয়া…’। স্কুলে হিন্দি পাঠ্য ছিল বলে গানের কথাগুলো ধরতে পারছিলাম, কিন্তু ওই বয়সে গানে মুনিয়া পাখির তাৎপর্য্য বুঝিনি। এখনও যে সবটা বুঝি, সে দাবী করব না। সেই থেকে ভদ্রলোকের গলাটা চিনতে শুরু করলাম। তাঁর গানের ব্যপ্তি যে কতদূর সেটা বোঝাতে একটা ছোট্ট ঘটনা বলি। আজ থেকে মোটামুটি বছর পঁচিশেক আগে হিন্দি ছবি কাবুলিওয়ালার একটা গান চলাকালীন দেখছি আমার আপাত কঠিন বাবার চোখে প্রায় মিনিট দশেক জল টলটল করছে। গানটা নিশ্চয় ধরতে পারছেন, অ্যায় মেরে পেয়ারে ওয়াতন, অ্যায় মেরে বিছড়ে চমন…’ । এমনি সময় বাবা প্রায়ই এই গানটা গুনগুন করত, গলার আওয়াজ বেশ মখমলী হওয়ার দরুণ লো স্কেলে ব্যাপক গাইত। ছোটবেলায় আকাটের মত জিজ্ঞ্যেসও করেছিলাম বাবা কাঁদছে কেন। অপ্রস্তুতে পড়ে গানের সিকোয়েন্সটা বুঝিয়েছিল যে কাবুলিওয়ালা সুদূর বিদেশে তার দেশকে, তার ছোট্ট মেয়েকে মনে করে গাইছে। সেদিন থেকে আমি ড্যাডিস গার্ল। অতিথিরা প্রশ্ন করলে বেমালুম বলে দিতাম যে বাবাকে বেশি ভালবাসি, মাকে কম।

Read the rest of this entry »

Advertisements
 
5 Comments

Posted by on October 25, 2013 in প্রবন্ধ

 

Tags: , , , , , ,

বিজ্ঞাপনীয়তা

আজকাল টেলিভিশনে বাংলা বিজ্ঞাপন দেখতে দেখতে মনে হয়, ‘এরা কারা? কোথা থেকে আসে?’ যে বিজ্ঞাপনগুলো হিন্দি বা ইংরেজি থেকে অনুবাদ করে ডাব করা, সেগুলোর ভাষা দেখে হাসব না কাঁদব সেটা ঠিক করা দুষ্কর হয়ে পড়ে। কদিন ধরেই কয়েকটা এরকম বিজ্ঞাপন দেখে খালি মনে হচ্ছে যে এই কপিগুলো কারা লেখে? আমি তাদের এই আরামের চাকরিটা চাই, যেখানে ভুলভাল কিছু বসিয়ে দিলেই দায় সারা হয়ে যায়। কাজ কম, খাটনি কম, অধ্যাবসায় আদৌ নেই, ভাষা এবং উচ্চারণের কোনো মাদার ফাদার নেই। বিখ্যাত ব্র্যান্ডগুলো আঞ্চলিক ভাষায় বিজ্ঞাপনকে বোধহয় ততটা গুরুত্ব দেয় না। অথবা তাদের ধারণা ক্রেতারা সবাই বোধহয় হিন্দি বোঝে বা পড়তে পারে। কয়েকটা উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা আরো স্পষ্ট হবেঃ

 

ছবি সৌজন্যেঃ গুগল

ছবি সৌজন্যেঃ গুগল

হরলিক্স (বাংলা)এমন একটি ব্র্যান্ড যা লক্ষ লক্ষ লোক রোজ কেনেন/ব্যবহার করেন। হিন্দি বিজ্ঞাপনটি এঁরা খুব যত্ন নিয়ে করিয়েছেন, কিন্তু বাংলার বেলায় দুয়োরানী কেন? বাচ্চাদের জন্যে হরলিক্সের উপকারিতা, যেটা কিনা এই বিজ্ঞাপনের আসল USP, সেটা বোঝানোর সময়ই এঁরা ধেড়িয়েছেন।

এতে আছে আধ কাপ দুধ যতটা ক্যালশিয়াম আর একশো গ্রাম বাদাম যতটা আয়রন।

এই পুরো বাক্যটি হিন্দি থেকে সরাসরি অনুবাদ হওয়াতে খুবই অদ্ভুত শোনায়।

ইসমে হ্যায় আধা কাপ দুধ যিতনা ক্যালশিয়াম ঔর সৌ গ্রাম বাদাম যিতনা আয়রন।

এই যিতনাথেকে যতটাঅনুবাদের কি কোনো দরকার ছিল? হিন্দিতে যা মানে দাঁড়ায়, বাংলায় তো আদৌ কোনো মানেই হয় না। হিন্দিবাংলা অনুবাদ সঠিক করবেন এরকম কপিরাইটার মনে হয় পাওয়া যায় না, কে জানে!

 

ছবি সৌজন্যেঃ গুগল

ছবি সৌজন্যেঃ গুগল

ওয়াইল্ডস্টোন ডিও স্প্রে (বাংলা)এই বিজ্ঞাপনের জিঙ্গলটি হিন্দিতে এত সুন্দর যে শুনতে দারুণ লেগেছিল কয়েকদিন। তারপর যখন বাংলায় এল একই জিনিস, প্রথমবার শুনেই ভেবেছিলাম, ‘ভগবান, তুলে নাও! (আমাকে নয়, ওদের)’ … কী অত্যাচার রে ভাই! এরকম অনুবাদ আমি বাবার কেন ঠাকুর্দার জন্মেও শুনিনি। হিন্দি জিঙ্গলটি হলঃ

রংরেজা,… ইত্যাদি, প্রভৃতি (দূর মশাই, অত মন দিয়ে কে শোনে!)

আর এর বাংলা অনুবাদটি শুনবেন? প্লিজ শুনুন, আমি একাই কেন ভুগব।

রঙের রাজা,… ইত্যাদি, প্রভৃতি (এটাও পুরো শোনার প্রয়োজন বোধ করিনি)

উর্দুতে রংরেজা মানে যিনি কাপড় রঙে ছোপান, আর বাংলায় রঙের রাজা মানেবোধহয় ভালো রঙের মিস্ত্রীকে বোঝায়। সেদিক দিয়ে ভাবতে গেলে মনে হয় কপিরাইটার দারুণ সোশালিস্ট, সবরকম ক্লাসের ক্রেতাদের একই ডিও স্প্রে দিয়ে আয়ত্তে আনতে চেয়েছেন। তবে যারা শুধু দিয়া মির্জার লাল শাড়ি আর বিপজ্জনক ব্লাউজ দেখে এই ডিওটা কিনবেন/অলরেডি কিনে ফেলেছেন, তাদের এইসব দেখেশুনেপড়েভেবে কোনো লাভ নেই, ‘জয় মাবলে কিনে ফেলুন আর তারপর কী হল সেটাথাক, আমাদের জানাবার দরকার নেই।

 

ছবি সৌজন্যেঃ গুগল

ছবি সৌজন্যেঃ গুগল

বেনাড্রিল (বাংলা)এটা নিয়ে আমার বিশেষ আপত্তি নেই, পুরো বিজ্ঞাপনটি আপনি মন দিয়ে শুনবেন, ভালই লাগবে। শুকনো কাশি আর কফওয়ালা কাশির আলাদা আলাদা ওষুধ হয় সে বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করবেন। আর সবশেষে গিয়ে এই ট্যাগলাইনটা দেখবেনঃ

কাশি আলাদা তো সমাধানও

এটা দু সেকেন্ডের জন্যে শুনে কানে লাগে না, কিন্তু লেখাটায় চট করে চোখ পড়লেই কীরকম যেন খট করে বাজে। হিন্দিতে ওরিজিনালি এই ট্যাগলাইনটা ছিলঃ

খাঁসি অলগ তো হল ভি

এ যেন মনে হয় কেউ গুগল ট্রান্সলেট খুলে শব্দটুশব্দ বসিয়ে দিয়েছে। আর কে না জানে গুগল ট্রান্সলেট একটা অলপ্পেয়ে জিনিস, বাবা কে অবলীলায় মামা করে দিতে পারে। একটু কষ্ট করে সময় ব্যয় করে একটু সঠিক অনুবাদ কী একেবারে করা যায় না? মানছি অ্যাড এজেন্সিগুলি একসঙ্গে অনেকগুলো অ্যাকাউন্টের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে, কিন্তু তা বলে এই?

পুনশ্চঃ আরেকটি অর্বাচীন বিজ্ঞাপন আছে বাংলায় যার শেষে ট্যাগলাইনটা হিন্দিতে লেখা থাকে, যেন সব বাঙালী দর্শক হিন্দি পড়তে পারেন! কীসের বিজ্ঞাপন এক্ষুণি মনে পড়ছে না জানেন, এক ঝলক দেখেছিলাম তো। মনে পড়লেই এখানে আপডেট করে দেব। নজর রাখবেন।

 
4 Comments

Posted by on June 27, 2013 in রচনা

 

Tags: , , , , , , ,

ভাসা ভাষা

আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। প্রতি বছর আজকের দিনে প্রতিটি বাংলা ব্লগ/ওয়েবসাইটে অন্ততঃ একটি পোস্ট পাওয়া যায়। সেটা ভাল না খারাপ, বাংলা লেখা সংখ্যায় বেশি দরকার না গুণমানে, মুড়ি মিছরির এক দর হওয়া উচিত কিনা, এইসব তুল্যমূল্য বিচারে যাচ্ছি না। আমার কাছে যেটা শাশ্বত সেটা হল আমি বাংলায় লিখি [বাংলায় হাসি/ভাসি/কাঁদি ইত্যাদি লিখলাম না কিছু বন্ধুকে ফক্কুড়ির সুযোগ দেব না বলে]

আজকাল বেশ কিছু সংখ্যক লোক ভাবেন যারা বাংলা(য়) লেখে তারা সবাই খোঁচা দাড়িওয়ালা অথবা জামদানী আর চশমা পরিহিতা আঁতেল কবিলেখক। বাংলায় লেখা কি এখন শুধু সাহিত্যে এসে ঠেকেছে, তাও দুর্বোধ্য উত্তরআধুনিক পদ্য এবং সস্তা গদ্যে? এছাড়া কি বাংলায় লেখা যায় না চিঠিতে, পোস্টকার্ডের কুশলসংবাদে, বাজারের হিসেবে, হালখাতার নিমন্ত্রণে? বিয়েশ্রাদ্ধের কার্ড বাদ দিলাম, ওগুলোর জন্য এখনো বাড়িতে দাদু অথবা সেজদিদা অথবা পাড়ার ভুটানকাকুদের পাওয়া যায়। ইন্টারনেটের জবরদস্তি বঙ্গীয়করণের অফুরন্ত নমুনার কিছু হল আন্তর্জাল, যন্রগণক, বৈদ্যুতিন বার্তা, ইত্যাদি যেগুলো আমরা মোটেও দৈনন্দিন ব্যবহার করি না। চেয়ারকে কি আপনি রোজ কেদারা বলেন? আর টেবিল, তাকে কী বলে ডাকেন বাংলায়?

ইন্টারনেট বিশেষজ্ঞদের মত জোর করে ‘send’কে যদি প্রেরণলিখতে হয়, তাহলে আর এসএমএসভাষীদের কী দোষ?

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ গুগল

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ গুগল

তারচেয়ে বরং আমরা বাংলায় গান গাই, বাংলায় হাসি, বাংলায় কথা বলি কিন্তু লেখার সময় হয় প্রেরণনয় ‘snd’ লিখি।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আপনার জন্যে শুভ হোক, আর বাকিদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক।

 
1 Comment

Posted by on February 21, 2013 in রচনা

 

Tags: , , , , ,

 
যযাতির ঝুলি | বাংলা ব্লগ | Jojatir Jhuli | Bangla Blog

বাংলা কবিতা, বাংলা গদ্য.. মুচমুচে, খাস্তা, অনবদ্য। ছুটির দুপুরে হোক না যোগ.. যযাতির গল্প, ছড়া, ব্লগ।।

feeble Lines

- By Adarsh

Natasha Ahmed

Author at Indireads

জীবনের আয়না

কিছু এলোমেলো ভাবনাচিন্তা

ব্লগম ব্লগম পায়রা

এটা-সেটা লেখা-দেখা...কখনো আনমনে কখনো সযতনে, টুকিটাকি আঁকিবুঁকি...সাদা-কালো সোজা বাঁকা

translations

translations of contemporary, modern and classic bengali fiction and poetry by arunava sinha

Cutting the Chai

India's original potpourri blog. Since 2005. By Soumyadip Choudhury

সাড়ে বত্রিশ ভাজা

একটি বাংলা ব্লগ

MySay.in | Political Cartoons and Social Views

Funny Cartoon Jokes on Latest News and Current Affairs.

Of Paneer, Pulao and Pune

Observations | Stories | Opinions

A Bookworm's Musing

Reading the world one book at a time!

SpiceArt

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

Scrapbook

A Public Performance of Derivative Thinking ;-)

Abhishek's blog অভিষেকের ব্লগ

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

Calcutta Chromosome

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

Bookish Indulgenges with b00k r3vi3ws

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

monalisadesign

Monalisa's creations

of spices and pisces

food and the history behind it.

A Little Blog of Books

Book reviews and other literary-related musings

Scratching Canvas

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

Sapna's Blog

A civilization is only as great as its dreams

The Greatbong Blog & Podcast

Dispensing unsolicited opinions since 2004

Words. More or Less.

Grey cells in Grayscale.

The Tales Pensieve

World of Indian Reads

%d bloggers like this: