RSS

Tag Archives: পুণে

গো গোয়া গোঁয়ার

চারশো ছেষট্টি কিলোমিটার (~ দশ ঘন্টা) গাড়ি চালিয়ে পুণে থেকে গোয়া যাওয়ার কথা শুনে অনেকেই আমাদের গোঁয়ার ভেবেছিল, বিশেষত বাড়ির লোক। অতক্ষণ কী করে চালাবি? (যেভাবে চালায়, স্টিয়ারিং ধরে), গা হাত পা ব্যাথা হবে (ব্রেক নিয়ে চালালে হবে না), শরীর খারাপ হয়ে যাবে (কেন, গাড়ির ভেতর রোদ বৃষ্টি কিছুই নেই, দিব্যি এসি চলে), গিয়ে ঘোরার এনার্জি থাকবে না (একবেলা রেস্ট নেওয়ার প্ল্যান আছে), ইত্যাদি যুক্তিমালা সাজাবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে অগত্যা তাঁরা হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন। গোঁয়ার্তুমির কাছে হেরে গিয়ে বোধহয় ঠাকুরঘরে ইষ্টনাম জপ করছিলেন। গোঁয়াররা এদিকে ষষ্ঠীর দিন ঠাকুরের বোধন, বরণ, অস্ত্রদান সব দর্শন করে ভাল করে চপ-এগরোল খেয়ে এনার্জি সঞ্চয় করে বেরোনোর জন্যে তৈরি হচ্ছিল।

img_3201

ভোর চারটেয় বেরোতে হবে, তবেই ব্রেক-ট্রেক মিলিয়ে দুপুর দুটো নাগার গোয়ার হোটেলে পৌঁছনো যাবে। রোজকার মত অ্যালার্মকে স্নুজে না দিয়ে দুজনেই তড়াক করে উঠে পড়লাম। প্রাত্যঃকৃত্য সেরে খাবার-জল-ওষুধ গুছিয়ে জয় মা বলে চারটে কুড়ি নাগাদ রওনা দিলাম। পুণেতে ভোরের আলো ফোটে সাড়ে ছটা নাগাদ, অতএব প্রায় দু ঘন্টা অন্ধকারে চালাতে হবে। কত্তামশাই চোখ-টোখ কচলে মুখে চিউয়িং গাম দিয়ে চালানো শুরু করলেন। পুণে-সাতারা হাইওয়েতে প্রথম একশো কিলোমিটার রাস্তা বেশ বাজে, এদিক ওদিক খোঁড়াখুঁড়ি আর ডাইভার্শানে ভর্তি। তার ওপর গাঁক গাঁক করে প্রচুর ট্রাক চলছে। দু একবার মনে সন্দেহ এসেছিল, যে পুরো রাস্তাটা এরকম খারাপ থাকলে তো সত্যিই শরীর খারাপ হয়ে যাবে পৌঁছনো অব্দি। অন্ধকারে বুক দুরুদুরু করে বেশ কিছুটা পশ্চিম ঘাটের পাহাড়ি প্যাঁচানো রাস্তা পেরোনো গেল ট্রাকের পেছন পেছন। পাহাড় থেকে সুরুর বলে জায়গাটায় নামতেই মেঘলাচ্ছন্ন এক অপূর্ব সূর্যোদয় দেখলাম।

Read the rest of this entry »

Advertisements
 
4 Comments

Posted by on October 21, 2016 in ঘোরা ফেরা, রচনা

 

Tags: , , , , , , , , , , , , , ,

পুজো মানে…

আসলে পুজোর মানে নিয়ে অনেক লেখাজোখা হয়েছে এবং চলছে। যে যার আপন মনের মাধুরী মিশায়ে লিখে গেছে কীভাবে পুজো মানে কাশফুল, শরতের আকাশ, মহালয়া, ঠাকুর দেখা, প্রেম, এগরোল ফুচকা, ইত্যাদি প্রভৃতি। কারওর কাছে দূর্গা পুজো মানে দেবীর আরাধনা, কারওর কাছে শুধুই মজা আর ‘মস্তি।’ বাঙালীর বারো মাসে তেরো পার্বণ হলেও ‘পুজো’ কথাটা মাথায় আসলেই আপামর বাঙালী দূর্গা পুজো বলে হামলে পড়ে।

বছর দশেক আগে জীবনে প্রথমবার পুজোয় বাড়ির বাইরে ছিলাম, তায় আবার বিদেশে। মন মেজাজ সবই প্রকান্ড রকম খারাপ ছিল। কিন্তু সেবারে শুধু বন্ধুদের জন্য পুজোটা অন্যরকম হয়ে উঠেছিল। জনা তিরিশেক তরুণ-তরুণী মিলে যদি কিছু ঠিক করে তাহলে পঙ্গুও গিরি লঙ্ঘন করতে পারবে, একটা পুজোর আয়োজন করা তো জলভাত। ছ ইঞ্চিখানেকের ঠাকুরকে পুজো করেও যে আনন্দটা দেশপ্রিয় পার্ক লেভেলের হতে পারে সেটা এক দশক আগেই প্রমাণ হয়ে গেছে।

dsc08413

দেশ হোক বা বিদেশ, বাঙালী যেখানেই থাকুক, পুজো মানে অনেকের কাছেই অনেক কিছু। কলকাতার পুজো যে তুলনাহীন, সেটা আমি মানলেও অনেকে মানেন না। এরকম অনেক প্রবাসী বন্ধু আছে যারা জীবনে কলকাতার পুজো দেখেনি কিন্তু তাদের নিজের নিজের শহর/এলাকা/হাউজিং ঘিরে পুজোর উন্মাদনা দেখলে অবাক হতে হয়।

Read the rest of this entry »

 
Leave a comment

Posted by on October 7, 2016 in রচনা

 

Tags: , , , , , , , , , , , ,

খাই খাইঃ ক্যালকাটা প্লাস

শোনা যায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কলকাতায় মেসে থাকতেন, পাইস হোটেলে খেতেন রোজ দুপুরে। পেটচুক্তিতে পেট ভরে ভাত, ডাল, ভাজা, তরকারি, মাছ, চাটনি। সেইসব হোটেলের রান্না হত অতুলনীয়, একেবারে বাড়ির মত বা তার চেয়েও ভাল। বিভিন্ন জেলা থেকে যাঁরা চাকরিসূত্রে কলকাতায় আসতেন, কারুর খাওয়ার অসুবিধে হত না হপ্তায় পাঁচটা দিন, তারপর শনিবারে তাঁরা বাড়ি যেতেন পরিবারের কাছে। ধীরে ধীরে রেস্তোঁরার উদ্ভাবন হওয়াতে পাইস হোটেলের গুরুত্ব কমে আসে শহরে। মধ্যবিত্ত বাবুদের মনে হতে থাকে হোটেলগুলো অপরিষ্কার, বসার জায়গা অপরিসর, সেখানে খেতে যাওয়া তাদের স্টেটাসে ডাউনমার্কেট। স্বাধীনতার পর ডালহৌসির অফিস পাড়ায় আস্তে আস্তে বসতে থাকে পাঁউরুটি-চিকেন স্টু এর স্টল, কাটা ফলের বিস্তৃত ঠেলাগাড়ি, লুচি-ঘুগনির ছোট্ট দোকান। পাইস হোটেলের গুরুত্ব কমতে কমতে এসে ঠেকে শুধু ট্রাক ড্রাইভার, বাসের কন্ডাক্টর, জয়নগর বা পিয়ালী থেকে কলকাতায় কাজের খোঁজে আসা সেইসব তরুণদের জন্যে।

cplus

নিরামিষ থালিঃ ভাত, ডাল, আলু পোস্ত, আলু ফুলকপির তরকারি, আমের চাটনি (ছবিতে নেই)

তা বলে পাইস হোটেল কি একেবারে উঠে গেছে? না। খাস কলকাতায় এখনও পাবেন পাইস হোটেল – রুবি হসপিটালের থেকে নারকেলবাগান বাস স্টপের মাঝের ফুটপাথে ত্রিপল টাঙানো উনুন বসানো দোকান, যাদবপুর থানা থেকে আনওয়ার শাহ রোড কানেক্টরের মোড়ে, বা শিয়ালদার আশেপাশে। যখন আপনি রুবির মোড়ের দিকে ফুটপাথ ধরে হেঁটে যাবেন, গনগনে গ্রীষ্মের বিকেলে বা কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে অফিসের বাস ধরার জন্যে, পাতলা মুসুর ডালে সম্বার দেওয়ার গন্ধ বা রুই মাছ ভাজার সুবাসে ম ম করবে বাস স্টপটা আর আপনার ক্ষিদে পেয়ে যাবেই। যেসব তুচ্ছ দৈনন্দিন ঘ্রাণ আপনি বাড়িতে থাকলে খেয়ালই করেন না, সেগুলো হঠাৎ করে পাইস হোটেল আপনাকে মনে করিয়ে দেবে। স্টিলের থালায় কমদামী মোটা চালের ভাত, পেঁয়াজ পাঁচফোড়ন আর কাঁচালঙ্কা ঘষে দেওয়া মুসুর ডাল, ঝুরিঝুরি আলু ভাজা আর পটল দিয়ে টাটকা মাছের ঝোলের যে কী মহিমা সেটা আপনি নতুন করে জানবেন। আজকালকার হাল ফ্যাশানের ক্যাফে কাম বেকারিতে ঢুকলেই ফ্রেশলি বেকড ব্রেড বা কাপকেকের যে গন্ধ ভেসে আসে, তার থেকে বৌদির দোকানের ডাল ভাত কোনো অংশে কম মনে হবে না।

cal plus1

ছবি নিজস্ব

এত লম্বা গৌরচন্দ্রিকার পর এবার আসল কথায় আসি। প্রবাসে থেকে যে কটা বাঙালি ‘রেস্ট্যুরেন্ট’-এ গেছি, তার মধ্যে দু-একটিকে সত্যিই পাইস হোটেল মনে হয়েছে। অবশ্যই সেগুলো ফুটপাথে ছাউনি ঘেরা কাঠের বেঞ্চ এর উপর স্টিলের বা কলাই করা থালায় খাবার পরিবেশন করে না। তার চেয়ে অনেক ক্ষেত্রেই মানে এবং দামে উন্নত। পাইস হোটেল বলে তাদের কিন্তু কোনো অসম্মান করতে চাইছি না, বরঞ্চ পাইস হোটেলের মতই ভাল ঘরোয়া খাবার এবং পরিবেশনে যে আন্তরিকতা তাদের আছে, তার কথা বলছি। পুণের পিম্পলে সৌদাগরের ক্যালকাটা প্লাস সেই বিভাগে পড়ে। কাউন্টারে বসেন বয়স্ক কাকু, হোম ডেলিভারি করতে যান জামাইদা এবং পুজোর সময় কাকুর স্টল সামলান তাঁর ছেলে।

ক্যালকাটা প্লাস, পিম্পলে সৌদাগর

ঠিকানা – গীতাই মার্কেট, শিভার চৌক, পিম্পলে সৌদাগর, পুণে

ফোন – +৯১-৮৭৯৬২০৭২১৯

বসে খান | আমিষ | সুরারসে বঞ্চিত | ঘরে আনানো যাবে | পাখা আছে এসি নেই

সময় – দুপুর সাড়ে বারোটা থেকে তিনটে, সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত এগারোটা

Read the rest of this entry »

 
3 Comments

Posted by on April 18, 2016 in খাই খাই

 

Tags: , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

পুণে পাঁচালী ৬ – শারদীয় শুভেচ্ছা

পুণে পাঁচালী ৬ – শারদীয় শুভেচ্ছা

পুণে পাঁচালীর কয়েকটি কিস্তির পর ভেবেছিলাম কলকাতা কচকচিটা অনেকদিন চালাতে পারব। কিন্তু বিধি বাম (পুণে তো কলকাতার বামেই), তাই পুণে পাঁচালীর কিস্তিই বাড়বে যা দেখছি। কলকাতা কচকচির আরো কয়েক কিস্তি পড়তে পারত, কিন্তু তাতে আমার খিস্তি খাওয়ারই সম্ভাবনা বেশী। কাজেই, তিষ্ঠ পাঠকবর/বউ।

বছরখানেক আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৯৯ শতাংশতে থাকার পর কলকাতা মোটামুটি আমাদের মনের সব আর্দ্রতাই শুষে নিয়েছে, সেই বিষতর বিষয়ে বিশদে আর নাই বা বললাম। ভোজরাজের রোল, আড্ডা আর জমজমাট একটা রোডট্রিপ ছাড়া কলকাতায় খুব ভাল কিছু হয়নি। কিন্তু থাক, সেগুলো নাহয় কলকাতা কচকচিতেই আসবে। পুণেতে একই ঘরে দ্বিতীয়বার ঘর করতে এসে দিব্যি লাগছে। সেই চেনা পটিবেশী – আমাদের হাঁটার আওয়াজে যার ঘুম হয় না, সামনের ফ্ল্যাটের বড় বউ বিদেশ থেকে একটা গুটগুটে বাচ্চা নিয়ে ফিরেছে, সেই ব্লগবিশ্বে বিখ্যাত কাজের মাসি আমার, এবং সেই চেনা দোকানপাট আর দোকানি।

Read the rest of this entry »

 
1 Comment

Posted by on October 24, 2015 in পুণে পাঁচালী

 

Tags: , , , , , ,

কলকাতা কচকচি ১ – ‘খুঁজি খুঁজি নারি’

কলকাতা কচকচি ১ – ‘খুঁজি খুঁজি নারি’

‘তারপর? পুণে পাঁচালী তো হয়ে গেল, এরপর কী?’

কদিন আগে অব্দি নিজেকে এই প্রশ্ন করছিলাম। তবে ‘কী’ এর চেয়ে ‘কোথায়’টা বেশি জরুরি ছিল। তার উত্তর পাওয়া মাত্রই কলামের নামটাও পেট থেকে মুখে এসে গেল। পুণের পর কলকাতা হলে পুণে পাঁচালীর পর কলকাতা কচকচিই আসুক নাহয়। দেড় বছরের পুণেবাসে যদি গোটাপাঁচেক পাঁচালী পোস্ট লিখতে পারি, আপাতত অনির্দিষ্টকাল কলকাতাবাসে নিশ্চয়ই অনেক কিছু লিখতে পারব।

পুণে টু কলকাতা। আনন্দ, উত্তেজনা, নিশ্চিন্দি, পেট গুড়গুড় – সবই থাকা উচিত ছিল, বাদ সাধল অবাধ্য ভাইরাল জ্বর, ঠিক পুণে ছাড়ার আগে। ফলে কলকাতা এলাম ধুঁকতে ধুঁকতে। এসেই বাড়িতে কদিন বডি ফেলে দেব ভেবেছিলাম, কিন্তু নতুন বাসা খুঁজতে হবে যে। হাওড়ায় দুরন্ত থেকে নামার প্রায় বারো ঘন্টার মধ্যে আবার ধড়াচূড়ো পরে রেডি হয়ে বেরোলাম। গন্তব্য এমন একটা জায়গা যেখানে জীবনে একবারই গেছি এর আগে – রাজারহাট। পুরনো কলকাতাবাসীরা হয়ত এখনো রাজারহাট শুনে নাক কুঁচকে তাকান, কিন্তু আইটি সেক্টরে কাজ করা জনতার কাছে খুব বেশি অপশন নেই। বেরোনোর আগে ইন্টারনেট দেখে (অ-পশ্চিমবঙ্গীয় অভ্যাস) ফ্ল্যাট মালিকদের খোঁজ করা শুরু করলাম।

Read the rest of this entry »

 
2 Comments

Posted by on November 6, 2014 in কলকাতা কচকচি

 

Tags: , , , , , , , , , ,

খাই খাইঃ রকিং আড্ডা

ছবি সৌজন্যেঃ রিমলি দে

ছবি সৌজন্যেঃ রিমলি দে

‘খাই খাই’তে এতদিন আমি প্রবাসে বাঙালি রেস্তোঁরার সন্ধান দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। আজ এখানে অতিথি হিসেবে লিখেছেন পুণের অন্যতম ফুড ব্লগার ও ফুড ফটোগ্রাফার রিমলি দে। যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে। রিমলি কাজের সঙ্গে রাঁধে, ছবি তোলে, সেই ছবি ও রেসিপি ব্লগায়, এবং অর্ডারে দুর্দান্ত সব মিষ্টিমাষ্টা বানিয়েও দেয়। সময় করে রিমলির ব্লগেও একবার হানা দিয়ে আসুন। এহেন গুণসম্পন্না রাঁধুনির রেস্তোঁরা সমালোচনা না পড়লে কিন্তু মিস করবেন। দেখে নিন ‘রকিং আড্ডা’তে গিয়ে রিমলির কেমন লেগেছে।

আপনারাও লিখতে পারেন খাই খাই-তে। পশ্চিমবঙ্গের বাইরে যে কোনো বাঙালী খাবারের দোকানের ব্যাপারে লিখে আমাকে জানাতে পারেন এই মেল আইডিতে – chernozems.prb@gmail.com। যথাযথ হলে সেটা এখানে নিশ্চয়ই ছাপা হবে।

ছবি সৌজন্যেঃ রিমলি দে

ছবি সৌজন্যেঃ রিমলি দে

রকিং আড্ডা, পুণে

ঠিকানা – ১, কবিতা অ্যাপার্টমেন্ট, HDFC ব্যাঙ্কের উল্টোদিকে, দত্ত মন্দির চৌক, বিমান নগর, পুণে – ৪১১০১৫

ফোন – ০২০ ২৬৬৩৩৮৯৮, ৭৭৫৮৯৯৫৩৪৬

বসে খান | ঘরে আনিয়ে খান | আমিষ | সুরারসে বঞ্চিত | শীতাতপনিয়ন্ত্রিত | ধূমপানের আলাদা জায়গা

সময় – দুপুর ১টা থেকে রাত ১১টা

Read the rest of this entry »

 
1 Comment

Posted by on August 14, 2014 in খাই খাই

 

Tags: , , , , , , , , , , , , , , ,

পুণে পাঁচালী ৫ – ঝটিকা সফর

পুণে পাঁচালী ৫ – ঝটিকা সফর

লোকে বলে ‘পুণে দারুউউণ জায়গা, দারুউউণ ওয়েদার।’ বিশেষণটা বিশেষভাবে লক্ষ্য করবেন। সঠিক টোনটা আপনাদের শোনাতে পারলাম না এখানে, যারা বলেছে কথাগুলো, তাদের সাথে আপনাদের আলাপ করিয়ে দেব কখনো। তা সে যাকগে, বর্ষাকালে পুণে সত্যিই মনোরম (যদি আপনি বাড়িতে বসে থাকেন)। যারা রোজ রাস্তাঘাটে খানাখন্দ, কাদাজল আর একটানা ঘ্যানঘ্যানে বৃষ্টি উপেক্ষা করে কাজে বেরোচ্ছে, তারা হয়ত বর্ষাকে অতটা ভালবাসা দেখাবে না। এ বছর বৃষ্টি দেরীতে হওয়াতে অনেকেই অবশ্য পথ চেয়ে বসেছিলেন একটু শীতলতার জন্যে। আমরাও তাই। তাই বর্ষার শুরুতে পুণের আশেপাশে একটু ঝটিকা সফর মেরে এলাম।

DSC08974যারা হালকা ভূগোল ঘেঁটেছেন তারা জানবেন, পুণে জেলায় প্রচুর টিলা/পাহাড় আছে। জায়গাটা পশ্চিমঘাটের কোলে এবং শিবাজীর ঘাঁটি হওয়ার দরুণ গোটা জেলায় মোট এগারোটি দুর্গ আছে। নিজেদের স্বাস্থ্য, সামর্থ্য, শক্তি, এনথু, ইত্যাদির কথা ভেবে প্রথমে শিবনেরি ফোর্টই যাব ভাবলাম – শিবাজী মহারাজের জন্মস্থান বলে কথা! মারাঠাবাসীর কাছে পুণ্যস্থান এই দুর্গ, এর ভেতরে একটি মন্দিরও আছে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল মালশেজ ঘাট যাওয়া, রাস্তায় পড়বে শিবনেরি, অর্থাৎ রথও দেখা কলাও বেচা হবে। প্রসঙ্গত জানাই, যারা পুণেতে একটা গোটা বছর থেকে যান, তারা বর্ষাকালে এই অজস্র ঘাটের মধ্যে কোনো একটাতে অন্তত বেড়াতে যান। অবোধ বাঙালি এদিকে ঘাট শুনেই আগে শ্মশানের তুলনা টানেন, যার যেদিকে নজর আর কী! তা আমরাও বোঁচকা-বুঁচকি গুছিয়ে এক শনিবার সকালে বেরিয়ে পড়লাম। একটি গাড়ি, পাঁচজন মানুষ, দুটি ব্যাগ ভর্তি খাবার-জল-চটি-ছাতা ওই আর কী।

Read the rest of this entry »

 
2 Comments

Posted by on August 8, 2014 in পুণে পাঁচালী

 

Tags: , , , , , , , ,

খাই খাই : কলকাতা ১৭

খাওয়ার জন্যেই তো বাঁচা। অন্তত আমার মত অধিকাংশ বাঙালীরই তাই। শুধু বাঁচার জন্যে কষ্ট করে দই-শশা খেয়ে আর কদিন থাকা যায় বলুন! তাই রোজকার ভাত-ডাল-মাছের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে মাঝে মাঝে রেস্তোঁরায় ঢুঁ মারি। কখনও হতাশ হতে হয়, কখনও বা দিল খুশ হয়ে যায়। নিজেদের চেনা খাবার, কখনো বা ঘরের খাবারই নতুন আঙ্গিকে আর স্বাদে বাইরে খেয়ে আসি। মেক্সিকান-ইতালিয়ান-থাই-চীনে-জাপানি রেস্তোঁরাগুলো বাদ দিলাম, ওসবে আমি-আপনি মুখ বদলেই থাকি। ম্লেচ্ছ ছেড়ে প্রবাসে বাঙালী খাবারের খোঁজ করে, তারই কয়েক ঝলক আপনাদের সামনে তুলে ধরব। তবে আমি একা নই, আপনারাও লিখতে পারেন খাই খাই-তে। পশ্চিমবঙ্গের বাইরে যে কোনো বাঙালী খাবারের দোকানের ব্যাপারে লিখে আমাকে জানাতে পারেন এই মেল আইডিতে – chernozems.prb@gmail.com। যথাযথ হলে সেটা এখানে নিশ্চয়ই ছাপা হবে।
গৌরচন্দ্রিকা অনেক হল, এবার একটু খাই খাই করি।

কলকাতা ১৭, পুণে

ঠিকানা – সিদ্ধার্থ রয়াল হোমস, দত্ত মন্দির চৌক, বিমান নগর, পুণে – ৪১১০১৪
ফোন – +৯১-৮৮৮৮৩১৭১৯৯

বসে খান | ঘরে আনিয়ে খান | আমিষ | সুরারসে বঞ্চিত | শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত

সময় – দুপুর ১২ ৩০ থেকে রাত ১০টা

ছবি সৌজন্যে - Burrp

ছবি সৌজন্যে – Burrp

আলোচনা –

খাদ্যরসিক বাঙালী বিরিয়ানি নামক পরশপাথরের খোঁজে খ্যাপার মত এদিক ওদিক ফেরে। আমরাও তার ব্যতিক্রম নই। কলকাতা শহর ছেড়ে বছর সাতেক হয়ে গেল, প্রবাসী শহরগুলোয় বিরিয়ানি চাখতে চাখতে মনটা উদাস হয়ে যায়।
“এমন একটা বিরিয়ানি খুঁজে পেলাম না
যার স্বাদ আছে,
এমন একটা বিরিয়ানি খুঁজে পেলাম না
যার গন্ধ আছে…”

স্বাদ আর গন্ধ মিলিয়ে ভাল ‘কলকাতা বিরিয়ানি’ জিনিসটা খুব দুর্লভ। কোথাও ভাত আর মাংসের কোনো যুগলবন্দি নেই তো কোথাও মিঠা আতরের আতিশয্যে অন্য কিছু বোঝা যায় না। বহুদিন ধরে বহু রেস্তোঁরা ঘুরে অবশেষে এক বন্ধুর সুপারিশে কলকাতা ১৭তে এসে পৌঁছলাম।

Read the rest of this entry »

 
6 Comments

Posted by on March 7, 2014 in খাই খাই

 

Tags: , , , , , , , , , , , , , , ,

বেঁচে থাকা আর অভিনয়

ঘুমের মধ্যে আধো-অন্ধকার এক অনুভূতিতে মৈত্রেয়ীর মনে হল কোথায় যেন সানাই বেজেই যাচ্ছে একটানা। ঘুমের মধ্যেই তিনি ভাবলেন, তাহলে কি ইমলির বিয়েটা শুরু হয়ে গেল? কিন্তু তাঁকে ছাড়া তো অনুষ্ঠান আরম্ভ হবে না, তিনি তো মেয়ের মা। এই অবেলায় তিনি ঘুমোচ্ছেন আর সবকিছুতে দেরী হয়ে যাচ্ছে ভেবে মৈত্রেয়ী ধড়মড় করে উঠে বসলেন। উঠে দেখলেন এটা তাঁর নিজের ঘর নয়। চারিদিক ভারী পর্দাঘেরা ছায়া ছায়া একটা হোটেলের ঘর। দু’মিনিট লাগল চোখ সইয়ে নিতে। ঘড়ি দেখলেন, এখনো সকাল রয়েছে। সবে এগারোটা বাজে, কিন্তু ঘরের ভেতর আলোছায়া দেখে সময় বোঝা যাচ্ছে না। মাত্র ঘন্টা তিনেক আগেই তাঁরা লোনাভলার এই গেস্ট হাউসে চেক-ইন করেছেন। তাঁরা অর্থে মৈত্রেয়ী ও তাঁর স্বামী অরুণোদয়। বম্বে থেকে ভোর ভোর বেরিয়ে পড়েছিলেন গাড়িতে, ট্র্যাফিক আর ভারী বর্ষা এড়াতে। আটটা নাগাদ পৌঁছে চা খেয়ে মৈত্রেয়ী একটু রেস্ট নেবার জন্যে শুয়ে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছেন বুঝতে পারেননি। অরুণোদয় অবশ্য জেগেই ছিলেন, বাইরের ঢাকা বারান্দায় বসে প্রকৃতির শোভা দেখতে দেখতে খবরের কাগজ পড়ছিলেন। অথবা, খবরের কাগজ হাতে নিয়ে শুধুই বৃষ্টি দেখছিলেন।

ঘুম থেকে উঠে চোখেমুখে জল দিয়ে মৈত্রেয়ীও বারান্দায় গিয়ে একটা চেয়ার টেনে নিয়ে বসলেন।

“অনেকক্ষণ ঘুমোলে, শরীর ঠিক আছে তো?” স্ত্রীকে জিজ্ঞ্যেস করলেন অরুণোদয়।

“হ্যাঁ, এমনি টায়ার্ড লাগছিল।”

দু’পংক্তি কথার পরেই আবার যে যাঁর জগতে ফিরে গেলেন। সারাদিনে শুধুমাত্র এরকম প্রয়োজনীয় দু’একটা কথা বলে যে তাঁরা কতদিন কাটিয়েছেন তার কোনো হিসেব নেই। মৈত্রেয়ীর বয়স এখন ছাপ্পান্ন, আর অরুণোদয়ের ষাট। দাম্পত্যজীবনের পঁয়ত্রিশ বছর পূর্ণ করেছেন এই কদিন আগেই। কর্তা রিটায়ারও করেছেন মাসখানেক হল, মেয়ের বিয়ের দুদিন আগে। তাঁদের একমাত্র মেয়ে ইমলি, থাকে ইতালিতে। স্কলারশিপ পেয়ে রোমান ইতিহাসের ওপর রিসার্চ করতে গিয়েছিল, এখন ওখানেই থিতু হতে চায়। আর বিয়েও করল একজন ইতালিয়ানকে। সেই উপলক্ষেই গত এক মাস ধরে রীতিমত ঝড় বয়ে গেল বাবা-মার ওপর। অরুণোদয়ের কোনো অসুবিধা হয়নি মেয়ের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে। তিনি মেয়ে-অন্তপ্রাণ, যদিও তার বহিঃপ্রকাশ খুবই সীমিত। তবে মৈত্রেয়ী একটু চমকেছিলেন। মেয়ে সাহেব বিয়ে করবে সেটা তার ব্যাপার বটে, কিন্তু সে মানিয়ে নিতে পারবে কিনা তাই নিয়ে তাঁর যথেষ্ট সন্দেহ ছিল। ছাব্বিশ বছর দেশে মানুষ হয়ে বাকী জীবনটা বিদেশে কাটানো খুব একটা সোজা নয়। তাছাড়া বিদেশী বর, সে কতদিন টিঁকবে কে জানে। তিনি আবার শুনেছিলেন ইতালিয়ানরা নাকি আজন্ম-রোম্যান্টিক হয়। নিজের আশঙ্কার কথা তিনি স্বামীকে বলতে গেছিলেন দু’একবার। তাতে উত্তর এসেছিল, ‘মেয়ের ওপর আমার সম্পূর্ণ ভরসা আছে। তাছাড়া সে যদি জীবনটা নিজের মত করে বাঁচতে চায়, ক্ষতি কী? সবার তো সে সৌভাগ্য হয় না।’

Read the rest of this entry »

 
3 Comments

Posted by on December 18, 2013 in গল্প

 

Tags: , , , , , , ,

 
যযাতির ঝুলি | বাংলা ব্লগ | Jojatir Jhuli | Bangla Blog

বাংলা কবিতা, বাংলা গদ্য.. মুচমুচে, খাস্তা, অনবদ্য। ছুটির দুপুরে হোক না যোগ.. যযাতির গল্প, ছড়া, ব্লগ।।

feeble Lines

- By Adarsh

Natasha Ahmed

Author at Indireads

জীবনের আয়না

কিছু এলোমেলো ভাবনাচিন্তা

ব্লগম ব্লগম পায়রা

এটা-সেটা লেখা-দেখা...কখনো আনমনে কখনো সযতনে, টুকিটাকি আঁকিবুঁকি...সাদা-কালো সোজা বাঁকা

translations

translations of contemporary, modern and classic bengali fiction and poetry by arunava sinha

Cutting the Chai

India's original potpourri blog. Since 2005. By Soumyadip Choudhury

সাড়ে বত্রিশ ভাজা

একটি বাংলা ব্লগ

MySay.in | Political Cartoons and Social Views

Funny Cartoon Jokes on Latest News and Current Affairs.

Of Paneer, Pulao and Pune

Observations | Stories | Opinions

A Bookworm's Musing

Reading the world one book at a time!

SpiceArt

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

Scrapbook

A Public Performance of Derivative Thinking ;-)

Abhishek's blog অভিষেকের ব্লগ

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

Calcutta Chromosome

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

Bookish Indulgenges with b00k r3vi3ws

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

monalisadesign

Monalisa's creations

of spices and pisces

food and the history behind it.

A Little Blog of Books

Book reviews and other literary-related musings

Scratching Canvas

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

Sapna's Blog

A civilization is only as great as its dreams

The Greatbong Blog & Podcast

Dispensing unsolicited opinions since 2004

Words. More or Less.

Grey cells in Grayscale.

The Tales Pensieve

World of Indian Reads

%d bloggers like this: