RSS

Category Archives: রচনা

গো গোয়া গোঁয়ার

চারশো ছেষট্টি কিলোমিটার (~ দশ ঘন্টা) গাড়ি চালিয়ে পুণে থেকে গোয়া যাওয়ার কথা শুনে অনেকেই আমাদের গোঁয়ার ভেবেছিল, বিশেষত বাড়ির লোক। অতক্ষণ কী করে চালাবি? (যেভাবে চালায়, স্টিয়ারিং ধরে), গা হাত পা ব্যাথা হবে (ব্রেক নিয়ে চালালে হবে না), শরীর খারাপ হয়ে যাবে (কেন, গাড়ির ভেতর রোদ বৃষ্টি কিছুই নেই, দিব্যি এসি চলে), গিয়ে ঘোরার এনার্জি থাকবে না (একবেলা রেস্ট নেওয়ার প্ল্যান আছে), ইত্যাদি যুক্তিমালা সাজাবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে অগত্যা তাঁরা হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন। গোঁয়ার্তুমির কাছে হেরে গিয়ে বোধহয় ঠাকুরঘরে ইষ্টনাম জপ করছিলেন। গোঁয়াররা এদিকে ষষ্ঠীর দিন ঠাকুরের বোধন, বরণ, অস্ত্রদান সব দর্শন করে ভাল করে চপ-এগরোল খেয়ে এনার্জি সঞ্চয় করে বেরোনোর জন্যে তৈরি হচ্ছিল।

img_3201

ভোর চারটেয় বেরোতে হবে, তবেই ব্রেক-ট্রেক মিলিয়ে দুপুর দুটো নাগার গোয়ার হোটেলে পৌঁছনো যাবে। রোজকার মত অ্যালার্মকে স্নুজে না দিয়ে দুজনেই তড়াক করে উঠে পড়লাম। প্রাত্যঃকৃত্য সেরে খাবার-জল-ওষুধ গুছিয়ে জয় মা বলে চারটে কুড়ি নাগাদ রওনা দিলাম। পুণেতে ভোরের আলো ফোটে সাড়ে ছটা নাগাদ, অতএব প্রায় দু ঘন্টা অন্ধকারে চালাতে হবে। কত্তামশাই চোখ-টোখ কচলে মুখে চিউয়িং গাম দিয়ে চালানো শুরু করলেন। পুণে-সাতারা হাইওয়েতে প্রথম একশো কিলোমিটার রাস্তা বেশ বাজে, এদিক ওদিক খোঁড়াখুঁড়ি আর ডাইভার্শানে ভর্তি। তার ওপর গাঁক গাঁক করে প্রচুর ট্রাক চলছে। দু একবার মনে সন্দেহ এসেছিল, যে পুরো রাস্তাটা এরকম খারাপ থাকলে তো সত্যিই শরীর খারাপ হয়ে যাবে পৌঁছনো অব্দি। অন্ধকারে বুক দুরুদুরু করে বেশ কিছুটা পশ্চিম ঘাটের পাহাড়ি প্যাঁচানো রাস্তা পেরোনো গেল ট্রাকের পেছন পেছন। পাহাড় থেকে সুরুর বলে জায়গাটায় নামতেই মেঘলাচ্ছন্ন এক অপূর্ব সূর্যোদয় দেখলাম।

Read the rest of this entry »

Advertisements
 
4 Comments

Posted by on October 21, 2016 in ঘোরা ফেরা, রচনা

 

Tags: , , , , , , , , , , , , , ,

পুজো মানে…

আসলে পুজোর মানে নিয়ে অনেক লেখাজোখা হয়েছে এবং চলছে। যে যার আপন মনের মাধুরী মিশায়ে লিখে গেছে কীভাবে পুজো মানে কাশফুল, শরতের আকাশ, মহালয়া, ঠাকুর দেখা, প্রেম, এগরোল ফুচকা, ইত্যাদি প্রভৃতি। কারওর কাছে দূর্গা পুজো মানে দেবীর আরাধনা, কারওর কাছে শুধুই মজা আর ‘মস্তি।’ বাঙালীর বারো মাসে তেরো পার্বণ হলেও ‘পুজো’ কথাটা মাথায় আসলেই আপামর বাঙালী দূর্গা পুজো বলে হামলে পড়ে।

বছর দশেক আগে জীবনে প্রথমবার পুজোয় বাড়ির বাইরে ছিলাম, তায় আবার বিদেশে। মন মেজাজ সবই প্রকান্ড রকম খারাপ ছিল। কিন্তু সেবারে শুধু বন্ধুদের জন্য পুজোটা অন্যরকম হয়ে উঠেছিল। জনা তিরিশেক তরুণ-তরুণী মিলে যদি কিছু ঠিক করে তাহলে পঙ্গুও গিরি লঙ্ঘন করতে পারবে, একটা পুজোর আয়োজন করা তো জলভাত। ছ ইঞ্চিখানেকের ঠাকুরকে পুজো করেও যে আনন্দটা দেশপ্রিয় পার্ক লেভেলের হতে পারে সেটা এক দশক আগেই প্রমাণ হয়ে গেছে।

dsc08413

দেশ হোক বা বিদেশ, বাঙালী যেখানেই থাকুক, পুজো মানে অনেকের কাছেই অনেক কিছু। কলকাতার পুজো যে তুলনাহীন, সেটা আমি মানলেও অনেকে মানেন না। এরকম অনেক প্রবাসী বন্ধু আছে যারা জীবনে কলকাতার পুজো দেখেনি কিন্তু তাদের নিজের নিজের শহর/এলাকা/হাউজিং ঘিরে পুজোর উন্মাদনা দেখলে অবাক হতে হয়।

Read the rest of this entry »

 
Leave a comment

Posted by on October 7, 2016 in রচনা

 

Tags: , , , , , , , , , , , ,

বর্ষা ও ইলিশ

বর্ষার সঙ্গে ইলিশের সম্পর্কটা ঠিক স্বামী-স্ত্রীর মত না প্রেমিক-প্রেমিকার মত সেটা অনেক বছর ধরেই ভাবাচ্ছে। বহুকাল আগে আমার শৈশবে গঙ্গার ইলিশ বলে লুপ্তপ্রায় জিনিসটা তাও পাওয়া যেত। ভোর চারটের সময় ঝাঁকায় করে ইলিশ তুলে যখন ঝপ করে গঙ্গার পাড়ে ফেলা হত, মনে হয়না সেই রুপোলি শস্য বেশিক্ষণ পড়ে থাকত। আমার বাবাও ঘোর বর্ষায় ভোরে উঠে ইলিশ আনতে গেছে কয়েকবার। অন্যান্য সময় বাজারের চেনা, একটু সখ্যতা হয়ে যাওয়া মাছওয়ালাকে আগে থেকে বলে রাখা, ‘শোন গৌরাঙ্গ, অমুক রোববার বাড়িতে অতিথি আসছে, আমার কিন্তু দু কিলো গঙ্গার ইলিশ লাগবে।‘ – এটা আট-নয় বছরে প্রায় নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে গেছিল। সেই ট্র্যাডিশন এখনও চলিতেছে, তবে গঙ্গাটা বদলে কোলাঘাট/ডায়মন্ড হারবার হয়ে গেছে। বাবার মত এখন শ্বশুরমশাইও বাজারে বলে রাখেন, ‘শোন হরি, আমি ছেলের কাছে পুণেতে যাচ্ছি, ভাল দেখে ইলিশ একটু রেডি রাখিস, নিয়ে যাব।’

গড়িয়াহাটে রাজুর দোকানে ইলিশের সম্ভার

গড়িয়াহাটে রাজুর দোকানে ইলিশের সম্ভার

গত বর্ষায় কলকাতায় থাকার সুবাদে গড়িয়াহাট বাজারে ইলিশের বাহার দেখার সুযোগ হয়েছিল। সেখানে রাজুর দোকানে আইস বক্সে রাখা থাকে বাংলাদেশের চাঁদপুরের ইলিশ। তার চেহারা আর দাম দুটোই দারুণ ভাল, তাই স্বাদ চাখার সাহস হয়নি। রাজুর ভাঁড়ারে কোলাঘাট বা ডায়মন্ড হারবার-এর অ্যাসর্টেড কালেকশন থেকে ৫০০/৭০০/১০০০ দিয়ে ইলিশ কিনে প্রাণভরিয়ে তৃষাহরিয়ে খেয়েছি। রাজুর অ্যাসিস্ট্যান্ট বিজু একবার বলেছিল, ‘দাদা, ভাল মাছটা দিচ্ছি নিয়ে যান। আজকেই একটু কাঁচা খাবেন, দু পিস আপনি, দু পিস বৌদি।’ ব্যাপারটা ইলিশ হলেও কাঁচা খাবার প্রস্তাবে বেশ ঘাবড়ে গেছিলাম।

Read the rest of this entry »

 
Leave a comment

Posted by on July 15, 2016 in খাই খাই, রচনা

 

সিরিয়াল কিলার – ২

বাংলা সিরিয়াল আমার প্রিয় বিষয়। তাই পাঠকরা বিরক্ত হলেও এগুলি নিয়ে লেখা আমি থামাতে পারব না। যাঁরা বাংলা সিরিয়ালকে বিষ নজরে দেখেন, তাঁরাও নাহয় ক্ষমাঘেন্না করে এই পোস্টটা পড়েই ফেলুন। আর কিছু নাহোক, বেশ কিছু খোরাক রসদে জুটবে। যদি আপনি পশ্চিমবঙ্গে চাকুরিরত হন, অফিসে লাঞ্চ-ব্রেকে এগুলি নিয়ে পিএনপিসি করতে পারবেন। মায়ের দয়ায় যদি আপনার চায়ের দোকানের দুর্লভ আড্ডা এখনো বজায় থাকে, সেখানেও বিষয়ের অভাব হলে সিরিয়াল গুঁজে দেবেন। আর যদি আপনি প্রবাসী হন, অন্যান্য বাঙালীদের সঙ্গে গেট টুগেদারে আপনাকে তো ‘আপ-টু-ডেট’ থাকতে হবে, নাকি? বিদেশ বিভুঁইয়ে মানসম্মান খোয়াবেন না। বাহা-আলো-কাজল-মেখলা-ভ্রমর-নোলক-তিতলিদের না চিনলে আপনার নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় না দেওয়াই ভাল।

এখন প্রশ্ন হল আপনি বাংলা সিরিয়াল কেন দেখবেন? ওপরে যে তিনটি কারণ বললাম সেই জন্যে? আরে, ওগুলি তো তুচ্ছ। মধ্যবিত্ত বাঙালি হয়ে সমাজে বাঁচতে গেলে আরো হাজারটা কারণে আপনাকে সিরিয়াল দেখতেই হবে। ওয়ার্ডপ্রেস অ্যালাও করলে আমি হাজারখানা পয়েন্ট লিখে দিতাম, তবে ওই আর কী! কয়েকখানা স্যাম্পেল দিই নাহয় আগে।

ছবি সৌজন্যেঃ গুগল

ছবি সৌজন্যেঃ গুগল

১। আপনি কি বিবাহিতা মহিলা? তাহলে আপনার অবশ্যই সিরিয়াল দেখা উচিত। মা-শাশুড়ি-কাকিমা-পিসশাশুড়িরা নতুন কী প্যাঁচ কষবেন সংসারে সেটা আপনি সিরিয়াল থেকেই জানবেন। ইন ফ্যাক্ট, আপনি লক্ষ্য করার আগেই দেখবেন শাশুড়ি পুজোর আগে বলছেন, “বৌমা, এবার পুজোয় বাহা শাড়ি নেবে? আমার জন্যেও হালকা রঙের একখানা কিনো নাহয়।” কিছু বোঝার আগেই বাহা শাড়ি নামক গোলকধাঁধায় আপনি দোকানে দোকানে ঘুরপাক খাবেন। নববর্ষের আগে দেখবেন আপনার মা ফোন করে বলছেন, “আহা, আমাকে আবার শাড়ি দিবি কেন, অনেক তো আছে। নিতান্ত দিলে নাহয় তোর শাশুড়ির মত হালকা ছাই রঙের বাহা শাড়িখানা দিস।” কী বুঝলেন? যদি আপনি চাকুরিরতা হন, তবে তো আপনার জন্যে সংসার শাঁখের করাত। সারাদিন কাজ সেরে ফিরে শাশুড়ি আপনার সাথে ঝামেলা করার আগে সন্ধ্যে সন্ধ্যে চা নিয়ে ওঁর সঙ্গেই সিরিয়াল দেখতে বসে পড়ুন। একে অপরের পিন্ডি চটকানোর চেয়ে সিরিয়ালের চরিত্রদের মনের সুখে গালাগাল দিন। পরের দিন কর্মক্ষেত্রে দেখবেন আপনার কোনো না কোনো কোলীগ সিরিয়াল প্রসঙ্গে তুলবেনই।

পুনশ্চঃ বাহা, তার জীবন এবং শাড়ি নিয়ে আমি একটি থিসিস লিখব নিজেকে প্রমিস করেছি। আশা করি কোনোদিন সেটা আপনাদের পড়াতে পারব।

Read the rest of this entry »

 
6 Comments

Posted by on February 10, 2014 in টেলিভিশন, রচনা

 

Tags: , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

সরস্বতী পুজো, বইমেলা ও বসন্ত

DSC08935একেবারে ত্রহ্যস্পর্শ যাকে বলে। প্রতি বছর অবশ্য এরকম সৌভাগ্য হয় না। আর হবেই বা কী করে? বসন্ত তো বিলুপ্তপ্রায়। বিদেশে বরং উইন্টার শেষে স্প্রিং-এর আসাটা এখনো খুব সুন্দরভাবে বোঝা যায়। আমাদের দেশে এখন এই অনামুখো গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের জন্যে বসন্ত পঞ্চমীতে কলকাতায় ১৩ ডিগ্রী আর পুণেতে ২১; শীত না বসন্ত বোঝার উপায় নেই। ছোটবেলা থেকে এই একটাই পুজোয় বাড়িতে হুলুস্থুল হতে দেখেছি। আগেরদিন প্রতিমা, দশকর্মা ভান্ডার থেকে চাঁদমালা ইত্যাদি, প্রসাদের ফল-মিষ্টি, নৈবেদ্যর চাল-ডাল, শিকলি বানানোর জন্যে রঙীন কাগজ, অঞ্জলির ফুল – সব কেনাকাটা সেরে বাড়ি এসে ঠাকুরের বেদি সাজিয়ে প্রতিমা বসিয়ে গামছা দিয়ে মুখ ঢেকে রেডি করে রাখতাম। আর এখন প্রবাসে বসে প্রতিমার অভাবে ল্যাপটপে ছবি খুলে পুজো করি!

পুজোর দিন ভোরবেলা উঠে শীত শীত ভাব নিয়ে উষ্ণ গরম জলে স্নান সারার একটা ব্যাপার থাকত (স্নান না করলে মা-ঠাকুমা আলপনা আঁকতে দিত না)। একদম ছোটবেলায় মনে আছে, দেশের বাড়িতে যেতাম সরস্বতী পুজোতে। পিসিরা শিক্ষিকা হওয়ার দরুণ বাড়িতে বেশ বড় করে পুজো হত, পাড়া প্রতিবেশী ছাত্র-ছাত্রীরা আসত ভোগ-প্রসাদ খেতে। মিনিয়েচার সাইজের আমি তখনই কোনো এক বছরে প্রথম শাড়ি পরেছিলাম – বোধহয় ক্লাস টু বা থ্রিতে। জুনিয়র স্কুল থেকে সিনিয়ারে উত্তীর্ণ হওয়ার পর বাবা ঠিক করে নিজেরাই বাড়িতে পুজো করব।

Read the rest of this entry »

 
4 Comments

Posted by on February 4, 2014 in রচনা

 

Tags: , , , , , , ,

পুণে পাঁচালী ৩ – কাজের মাসি

পুণে পাঁচালী ৩ – কাজের মাসি

পুণেতে এসে নতুন বাসা খুঁজে সেখানে বসবাস শুরু করার আগেই মনে মনে খুব জরুরী একটা জিনিস চাইছিলাম। জিনিস বললে অবশ্য ভুল বলা হয়। এই দৈনন্দিন চাহিদাটি বাড়িতে ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি। শহুরে পশ্চিমবঙ্গের নব্বই শতাংশ বাড়িতেই কাকভোরে বা একটু বেলায় আপিস টাইমে যাঁদের ব্যস্ততা সবচেয়ে বেশী থাকে, তাঁরা স্কুল-কলেজ-অফিসযাত্রী নন – কাজের মাসি। তাঁদের কেউ কেউ ট্রেনে আসেন (দক্ষিণ কলকাতায়), কেউ পাশের বস্তিতে থাকেন (উত্তর কলকাতায়), কেউ বা বাসে-অটোতেও যাতায়াত করেন। আমাদের হায়দ্রাবাদের বাসায় কাজের মাসি ইন-হাউজ ছিলেন, অর্থাৎ সেখানকার কেয়ারটেকারের স্ত্রী। পুণেতে এসে কপালে কে জুটবে সেই নিয়ে যারপরনাই চিন্তায় ছিলাম।

আনকোরা নতুন ঘরে প্রথম দিন ঝাড়ু-ফিনাইল-বালতির দোকান খুলে বিশাল ধোয়াধুয়ি করছি, হঠাৎ বেল বাজল। দরজার ওপারে এক প্রৌঢ়াগত তরুণী, নিঁখুত কুঁচি দিয়ে পাট করে শাড়ি পরা, গলায় সোনার মঙ্গলসূত্র, হালকা সিঁদুর, হাতে পার্স ও মোবাইল। সেলসগার্ল ভেবে কাটিয়ে দেব মনে করছি, তার আগেই তিনি বললেন যে আমরা নতুন এসেছি, কাজের লোকের দরকার থাকলে তিনি করতে চান। দেখেশুনে যত না চমকালাম, তার চেয়েও বেশি চমক অপেক্ষা করছিল যখন তিনি কাজের রেটগুলো বললেন – প্রতি কাজ (অর্থাৎ বাসন মাজা, ঘর মোছা, কাপড় কাচা) ৫০০/- । ভাবা যায়! পশ্চিমবঙ্গের কাজের মাসি-মেসোরা শুনলে মুচ্ছো যাবেন। আমারই আত্মারাম খাঁচাছাড়া হওয়ার যোগাড় হওয়াতে তাঁকে বললাম পরে কখনো আসতে। উদ্দেশ্য পাতি ছিল, একটু মার্কেট সার্ভে করে নেওয়া, যদি পকেট কিঞ্চিৎ বাঁচানো যায়। তবে সেটা হল না, কারণ বাকিদের রেট একই থাকলেও প্যাখনা দেখলাম অনেক বেশি এঁর থেকে। সেদিন থেকে ইনি বহাল হলেন এবং আমারও জীবনের একটা নতুন অভিজ্ঞতার সূচনা হল।

Read the rest of this entry »

 
10 Comments

Posted by on December 10, 2013 in পুণে পাঁচালী, রচনা

 

Tags: , , , ,

বাঙালীর বিবর্তন-বাদ

 

না না, আমি ডারউইন সাহেবের মানসপুত্রী নই, বিবর্তন নিয়ে হেজিয়ে আপনাদের সময় নষ্ট করব না। পাতি বক্তব্য হচ্ছে এই – বাঙালী দিন দিন পালটে যাচ্ছে বলে অনেক মানুষ মুষড়ে পড়ছেন। তাদের জন্যে ভেবে বের করলাম কয়েকটা জিনিস যা আজও বাঙালীর জীবনে বিবর্তন থেকে বাদ পড়ে আছে। অর্থাৎ এমন কিছু ব্যাপার যা আজও বাঙালীর আছে আর আশা রাখি চিরকাল থাকবে।

গামছা

কটা বাঙালীকে দেখেছেন যারা গামছা ব্যবহার করে না? চিরন্তন আরামের লাল সবুজ চেককাটা কাপড় ছেড়ে গাবদা রোঁয়া ওঠা ভারী তোয়ালেতে কজনই বা স্বস্তিতে থাকেন? উত্তর কলকাতার রাস্তার ধারের কলে স্নানরত থেকে বহুতল ফ্ল্যাটের বারান্দায় শুকোতে দেওয়া গামছার খুব বেশি তফাত নেই। একজন হয়ত বসিরহাটের কুলীন আর অপরজন হাতিবাগান বাজারের সদস্য।

ছবি সৌজন্যেঃ Flickr

ছবি সৌজন্যেঃ Flickr

একদিকে হয়ত কলের অবিরত গঙ্গাজলে স্নানের পর কাপড় পরে গামছাকে নিংড়ে ফুটপাথের রেলিঙে মেলে দেওয়া হয়, অন্যদিকে অত্যাধুনিক শাওয়ারে ইষদুষ্ণ জল আর সুগন্ধী সাবানের ফেনা আলতো করে মুছে এগারোতলার বারান্দায় মেলা হয়। গামছা আগেও ছিল, এখনো আছে, অদূর ভবিষ্যতেও থাকবে বলে আমার বিশ্বাস। যতই তাকে স্কার্টশাড়িতে বিশ্বায়িত করার চেষ্টা হোক (গামছারানী বিবি রাসেলকে চেনেন তো?), তার অ্যাপীল মোটেও ওসবে নেই। গ্রীষ্মের দুপুরে হালকা সাবান আর ফুলেল/সর্ষের তেলের গন্ধমাখা ভিজে গামছা বারান্দায় না মেলা থাকলে আর কী বাঙালী মশাই আপনি?

নলেন গুড় (ইন ইটস ভেরিয়াস ফর্মস)

ছবি সৌজন্যেঃ Telegraph India

ছবি সৌজন্যেঃ Telegraph India

কোনো বাঙালী আছেন যিনি কোনোদিন নলেন গুড়ের কোনো জিনিস খাননি? তাহলে এসে বিলুপ্ত প্রজাতিতে নিজের নাম লিখিয়ে যান। পিঠে, পায়েস, নরমপাক, কড়াপাক, রসগোল্লা, কাঁচাগোল্লা থেকে হালের আইসক্রীমেও ব্যাটা ভাগ বসিয়েছে। কে জানে কত বছর আগে থেকে আপামর বাঙালী হেমন্তকাল এলেই নলেন গুড়ের জন্যে ছোঁকছোঁক করে। পারমিতার একদিনছবিটি দেখার পর থেকে আমিও Flavour-এর বাংলা প্রতিশব্দ খুঁজছি, কিন্তু পাইনি। ফ্লেভার তো শুধু গন্ধ নয়, সেটা একাধিক ইন্দ্রিয়কে আহ্বান করে।

Read the rest of this entry »

 
7 Comments

Posted by on November 23, 2013 in রচনা

 

Tags: , , , , , , , ,

“আশ্বিনের শারদপ্রাতে…”

ছবিঃ নিজের

ছবিঃ নিজের

ও মশাই, বলি ও মশাই!”

আহ, কী হইল? ভোরবেলা হুজ্জোত করস ক্যান?”

না, মানে আমার কি আর হুজ্জোত করার বয়স আছে?”

তা ঠিকই কইস। তুমিও তো আমার মতই চিঁচিঁ করতাসো দেহি।”

আমি তো আপনার থেকে এই একটু ছোট বয়সে। মনে আছে?”

মনে থাকুম না? আমি যখন পাঁচছয় বছরের পোলা আসিলাম, সেবার আশ্বিন মাসে বাবা তোমারে লইয়া আইল কইলকাতা থেকে।”

সেই থেকে আপনাদের বাড়িতেই রয়েছি আমি।”

হ। সেইসব সোনার দিন আসিল রে ভাই। মহালয়ার আগের দিন বাবা চইলা আইসত বাড়ি, তরাতরি খাইয়া শুইয়া পড়ত ভোর ভোর রেডি হওনের লগে।”

তারপরেই আমার কানটা মুচড়ে ঘুম থেকে তুলতেন বাবামশাই। বসার ঘরের বড় গোল টেবিলটার ওপর আমাকে ঝেড়েমুছে বসিয়ে দিতেন। আপনাদের বাড়ির অন্য কেউ বাকি বছরটায় আমাকে অত যত্ন করত না।”

আহা, তোমাগো তো আনাই হইসিল মহালয়ার জন্য, বুঝো না?”

তাও, আরেকটু যত্ন তো করতে পারতেন। আপনি তো ছোটবেলায় সুযোগ পেলেই আমার পিঠে লাথি ঝাড়তেন।”

তোমাগো লম্বা প্রশস্ত পিঠখান দেখলেই যে আমাগো লোভ হইত। কিসু মনে করো না ভাইটি।”

শুধু আপনার বোন মাঝে মাঝে আমার তত্ত্বতালাশ করতেন। এককালে নিয়ম করে অনুরোধের আসরআর বিবিধ ভারতী শুনতেন।”

হ। পলু চিরকালই গানটান বড় ভালবাসে। ভাল গাইত মাইয়াটা।”

সে আমি আপনার আগেই জানি। আমার সামনে বসেই তো উনি রেওয়াজ করতেন, প্রতিমা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে গলা মেলাতেন।”

তুমি তো আমাদেরই একজন হয়ে গেসিলা বাপ।”

আপনার ছোটভাইয়ের সাথেও আমার আলাপ ছিল। উনি ফুটবলের কমেন্টারি শোনার জন্য আসতেন। নিজের মনেই আলোচনা করতেন খেলার টুকিটাকি নিয়ে।”

দীর্ঘশ্বাস

আমার কানে এসেছিল ওনার খবরটা। এত কম বয়সে চলে যাওয়াটা উচিত হয়নি।”

ছাড়ো সেসব পুরাতন কথা। তুমি কেমন আসো কও। আইজকাল তো আর কেউ মহালয়ার সময় তোমারে পোঁছে না, সব টিভিতে দেখে গিয়া।”

আর বলবেন না, এই এক টিভি না কী যন্তর হয়েছে। বছর কুড়ি ধরে দেখছি খুব জ্বালাচ্ছে। আগে তো শুধু আমিই মহালয়া নিয়ে আসতাম এই বাংলায়, বলুন কিনা?”

হ। আর এহন আমার এই নাতিপুতিরা সব সাতটায় উইঠ্যা টিভিতে নাকি মহালয়া দেখে। আমরা তো সারাটা জীবন চাইরটায় উইঠ্যা এলাম।”

আজকাল আর বেশি কথা বলতে পারিনা জানেন, দমকা কাশি আসে। কেউ তো আমার গলার জংগুলো একটু সারায়ও না। মহালয়ার দিনও ভাল করে গলা ছেড়ে শোনাতে পারি না। তাই সবাই ওই অলপ্পেয়ে টিভির দিকে ধেয়ে যায়।”

তুমি এত দুঃখ কইরো না বাপ। আমি বুঝি তোমারে। আইজকাল আমারেও কেউ পোঁছে না। কোনদিন টুপ কইরা মইরা যাব। তোমারও তাই হইব মনে হয়।”

তাতে আমার দুঃখ নেই দাদা। শুধু মরার আগে আরেকটা মহালয়াতে যদি ওই বীরেনবাবুর গলাটা শোনাতে পারতাম আপনার নাতিপুতিদের…”

 
1 Comment

Posted by on October 6, 2013 in রচনা

 

Tags: , , , , ,

বিগ বস বাংলা সিজন ১

বিগ বস বাংলা অনুষ্ঠানটি শেষ হয়ে গেছে গত সপ্তাহে। পাঠকদের মধ্যে কতজন দেখেছিলেন, কতজন শুধু খবরের কাগজে চাটনিটুকু চেটেপুটে খেয়েছিলেন আর কতজন আদৌ এই বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন না, তা আমি জানিনা। পুরো অনুষ্ঠানটির সারসংক্ষেপ এখানে আমি দিতে আসিনি, যাঁদের দরকার তাঁরা গুগলবাবার শরণ নেবেন। আমি শুধু এতদিনের কারবার দেখে নিজের অনুভূতিগুলো এখানে ব্যক্ত করতে এলাম। বিগ বস শুরু হয়েছিল জুন মাসে, মূল প্রতিযোগী ছিলেন তেরোজন। পাঠকদের সুবিধার্থে একবার তাঁদের নাম পরিচয় দিয়ে দি রুদ্রনীল ঘোষ(অভিনেতা), অনীক ধর(গায়ক), পটা(গায়ক), সুদীপ্তা চক্রবর্তী(অভিনেত্রী), মল্লিকা মজুমদার(অভিনেত্রী), কনীনিকা ব্যানার্জী(অভিনেত্রী), ক্যায়স কলিম(মডেল/অভিনেতা!), মহেশ জালান(জ্যোতিষী), মানবী বন্দোপাধ্যায়(প্রফেসর, কবি), নন্দিনী পাল(টিভিতে রান্না শেখান), বিক্রম চ্যাটার্জী(অভিনেতা), আইরিস মাইতি(মডেল), সম্পূর্ণা লাহিড়ী(অভিনেত্রী); ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রিঃ কার্লিতা মোহিনী(ইন্দো ল্যাটিন গায়িকা!), কার্তিক দাস(বাউল)

ছবি সৌজন্যেঃ গুগল

ছবি সৌজন্যেঃ গুগল

সত্যি বলতে কী, হিন্দি বিগ বসের গত ছটি সিজনে একটিও গোটা পর্ব দেখে উঠতে পারিনি। ঠিক পোষায়নি। উত্তর ভারতীয় গালাগালি/মারামারি এবং টিভি সিরিয়ালের অচেনা অভিনেতাদের কার্যকলাপ দেখার কোনো উৎসাহ বোধ করিনি। বাংলায় বিগ বস হবে শুনেও নাক সিঁটকেছিলাম, কী আর হাতি ঘোড়া হবে। উৎসাহের অভাবে প্রথম মাসখানেক দেখিনি। বাড়ির লোকেরা মাঝে মাঝে ফোনে আপডেট দিতেন। এক রবিবার দুপুরে টিভিতে ভাল সিনেমার আয়েসের অভাবে চ্যানেল সার্ফ করতে করতে বিগ বসে গিয়ে ঠেকলাম। পর্দায় তখন রুদ্রনীলকে দেখাচ্ছিল। আমার বেটার হাফ আবার রুদ্রর অভিনয়ের বেশ ভক্ত, ইন ফ্যাক্ট আমিও। তার কদিন আগেই সাক্ষ্য করেছি যে একটি বেশ বাজে সিনেমাকে রুদ্র একা কী করে টেনে গেছেন (সে বিষয়ে আবার কখনো লিখবখন)। কী ভেবে পর্বটি দেখতে বসে গেলাম।

Read the rest of this entry »

 
4 Comments

Posted by on September 19, 2013 in টেলিভিশন, রচনা

 

Tags: , , , , , , , , , , , , , , ,

সিরিয়াল কিলার

শিরোনাম দেখে ঘাবড়ে যাবেন না, এটা খুনীদের নিয়ে লেখা নয়। রক্তমাংসে খুনী না হলেও কিছু কিছু বাংলা ধারাবাহিক এবং তাদের সংলাপ দর্শকদের খুন করার জন্যে যথেষ্ট আজকাল। বাংলার এবং প্রবাসী আপামর মামাসিমানুষ যে সিরিয়াল দেখার জন্যে প্রতিদিন ঘামে ভেজা আঁচল বা হলুদ লাগা ওড়না গুছিয়ে ঠিক সময়ে টিভির সামনে ঝাঁপ দেন, সেগুলির কিছু অংশ আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম। পড়ে দেখবেন এর মধ্যেই বেশ কিছু সংলাপ চেনা চেনা লাগছে। হয়ত কদিন আগে মা বা ছোটপিসি বা ফুলমাসি এই একই কথা আপনাকে বলেছেন। মামাসিশাশুড়িরা এসব কোথা থেকে শিখছেন জানতে হবে তো!

তোমায় আমায় মিলে(স্টার জলসা, রাত ১০।০০)

ছবি সৌজন্যেঃ গুগল

ছবি সৌজন্যেঃ গুগল

১। বৌকে শাশুড়িঃযেখানে খুশি যাও,আমাকে বলতে হবে না,পারলে আর ফিরো না।

এটা একটু রূঢ় হয়ে গেল না কি? শাশুড়ি বৌমাকে পছন্দ না করতেই পারেন, তা বলে একেবারে আর না ফিরতে বলাটা একটু, ওই মানে ইয়ে, আর কি। নববধুরা এইসব সিরিয়াল দেখে শাশুড়িদের ভয় পেয়ে যেতেই পারেন।

২। শাশুড়িঃএসব কী?বাচ্চা না হওয়ার ওষুধ?কবে থেকে চলছে এসব?এত সাহস কী করে হয় তোমার?”

বড়বৌঃওটা আমার না, ছোট বৌয়ের।

এই সিনটি দেখে, সত্যি বলছি আপনাদের, আমি চমকিত হয়ে গেছিলাম। মানছি এখানে শাশুড়ি চরিত্রটি একটু গ্রাম্য, কম শিক্ষিত, পুরনো ধ্যানধারণার মহিলা, কিন্তু এতদূর? ভারত সরকারের গর্ভনিরোধের বিজ্ঞাপনগুলি যে কজন দেখেন, তার চেয়ে অনেক বেশি লোক এইসব সিরিয়াল দেখেন। এবং সেখানে এরকম চিন্তাধারা দেখালে, ভারত থেকে চীনে রূপান্তরিত হতে বেশিদিন লাগবে না।

  Read the rest of this entry »

 
8 Comments

Posted by on September 12, 2013 in টেলিভিশন, রচনা

 

Tags: , , , , , , ,

 
যযাতির ঝুলি | বাংলা ব্লগ | Jojatir Jhuli | Bangla Blog

বাংলা কবিতা, বাংলা গদ্য.. মুচমুচে, খাস্তা, অনবদ্য। ছুটির দুপুরে হোক না যোগ.. যযাতির গল্প, ছড়া, ব্লগ।।

feeble Lines

- By Adarsh

Natasha Ahmed

Author at Indireads

জীবনের আয়না

কিছু এলোমেলো ভাবনাচিন্তা

ব্লগম ব্লগম পায়রা

এটা-সেটা লেখা-দেখা...কখনো আনমনে কখনো সযতনে, টুকিটাকি আঁকিবুঁকি...সাদা-কালো সোজা বাঁকা

translations

translations of contemporary, modern and classic bengali fiction and poetry by arunava sinha

Cutting the Chai

India's original potpourri blog. Since 2005. By Soumyadip Choudhury

104.193.143.58/~manjul7/

MANJULIKA PRAMOD - I TRAVEL NEAR AND FAR FOR INTERESTING PERSPECTIVES!

সাড়ে বত্রিশ ভাজা

একটি বাংলা ব্লগ

MySay.in | Political Cartoons and Social Views

Funny Cartoon Jokes on Latest News and Current Affairs.

Of Paneer, Pulao and Pune

Observations | Stories | Opinions

A Bookworm's Musing

Reading the world one book at a time!

SpiceArt

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

Scrapbook

A Public Performance of Derivative Thinking ;-)

Abhishek's blog অভিষেকের ব্লগ

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

Calcutta Chromosome

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

Bookish Indulgenges with b00k r3vi3ws

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

monalisadesign

Monalisa's creations

of spices and pisces

food and the history behind it.

A Little Blog of Books

Book reviews and other literary-related musings

Scratching Canvas

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

Sapna's Blog

A civilization is only as great as its dreams

Words. More or Less.

Grey cells in Grayscale.

The Tales Pensieve

World of Indian Reads

%d bloggers like this: