RSS

Category Archives: ধারাবাহিক

কোরোনার দিনগুলিতে – ৩

লকডাউন এখনও অব্যাহত, আপাতত দুমাসের ওপর হয়ে গেল। আশেপাশের সবকটা গাছ ঝাঁকড়া উজ্জ্বল সবুজ হয়ে গেছে। প্রায় রোজই রোদ উঠছে, নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া, চেরী গাছের ফুলগুলো ঝরে গেছে, তার জায়গায় অসম্ভব রঙীন টিউলিপে ছেয়ে গেছে পার্কগুলো। অথচ এখন বারান্দায় বেরোতেও ভয় লাগছে মাঝে মাঝে, ভাবছি ভাইরাস কি হাওয়ায় উড়ছে? আমাদের দেখেই কি তার ইচ্ছে হবে ঘাড়ে চাপতে? কয়েকদিন ধরে হাঁটতে যাচ্ছি দুজনে, মুখে মাস্ক পরে, চোরের মত জুলজুল করে এদিক ওদিক তাকিয়ে, পার্কের লম্বা জগিং ট্রেলে দৌড়বীরদের ছোঁয়া বাঁচিয়ে।

দিন কেটে যাচ্ছে নিয়মমাফিক। করোনার ভয়কে সঙ্গী করে ঘর করার অভ্যেস হয়ে যাচ্ছে। প্রায় প্রত্যেকদিন সকালে উঠে করোনাতে মৃত্যু এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের দূরবস্থার খবর শুনে বড্ড অসহায় লাগে। কারোর কী কিছু করার নেই অবস্থা শুধরোনোর জন্যে? সরকারের কথা আর না বলাই ভাল। প্রধানমন্ত্রীকে এমনিতেও রোমের সম্রাট নিরোর সমতুল্য মনে হচ্ছে আজকাল।

বেলজিয়ামের অবস্থাও তথৈবচ। মাসদুয়েক এত দোকান-ব্যবসা বন্ধ থাকার ফলে পরিস্থিতি বেশ শোচনীয়। সরকারী ভাতা আছে বটে তবে তার নিয়মকানুনও কঠিন মনে হয়। কাল সুপারস্টোরে দেখা হল বাড়ির কাছের এক ক্যাফের বয়স্কা কর্মীর সঙ্গে। এঁরা সবাই অস্থায়ী কর্মী, তাই নিয়মিত মাইনের কোনো ব্যাপার নেই। দুঃখ করে বললেন যে লকডাউনের আগে পর্যন্ত কাজ করেছেন, কিন্তু এরপর কী হবে জানা নেই। ক্যাফে আদৌ চলবে কিনা কে জানে, ফলে ওঁকে বেরিয়ে নতুন করে কাজ করতে হবে। ভদ্রমহিলা পোল্যান্ডের, অতএব এখানে তিনি পরিযায়ী শ্রমিক। প্রৌঢ়ত্বে এসে নতুন করে কোনো কাজ শিখে বা পড়াশোনা করা ওঁর পক্ষে সম্ভব নয়। পরিবেশিকার কাজেই তিনি অভ্যস্ত, কিন্তু কোনোদিন এরকম লকডাউন পরিস্থিতি আসবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি।

এভাবেই দিনগত পাপক্ষয় হয়ে চলেছে। তবু তারমধ্যেও কিছু মানুষ হাসছে, অপরকে হাসাচ্ছে, শিশুরা খেলছে। আমাদের ছোট্ট পাড়াতে এখনো সন্ধ্যা আটটায় রোজ হাততালি দেন অল্প কিছু মানুষ। যেসব ডাক্তার-নার্স-সাফাইকর্মী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তাঁদের জন্যে; যাঁরা খাবার ডেলিভারী দিচ্ছেন রোজ, তাঁদের জন্যে; যাঁরা সুপারস্টোর/খাবারের দোকানগুলি চালাচ্ছেন, তাঁদের জন্যে, বাস-ট্রাম-মেট্রোর চালকদের জন্যে এবং সর্বোপরি তাঁদের জন্যে – যাঁরা হার মানতে রাজি নন। বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে যাঁরা খাবার পৌঁছে দেন সাইকেল/স্কুটারে করে, হাততালিতে তাঁদের চোখমুখ উদ্ভাসিত হয়ে থাকে আমাদের পাড়া দিয়ে পেরোনোর সময়ে। কেউ আমাদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন, কেউ সাইকেলের বেল বাজান তালে তালে, কেউবা হেলমেটের মধ্যে দিয়ে মাথাটুকু নাড়েন শুধু। বেশ কিছুদিন আগে হাততালি চলাকালীন ফাঁকা রাস্তায় একটি গাড়ি দাঁড় করিয়ে একজন প্রৌঢ়া নেমে এলেন। গলায় ঝোলানো পরিচয়পত্র সবাইকে দেখিয়ে বললেন যে তিনি স্বাস্থ্যকর্মী এবং আমাদের হাততালিতে আপ্লুত। বলতে গিয়ে হয়ত ওঁর চোখ চিকচিক করছিল, যেমন আমার করছিল ওঁকে দেখে। মাঝেমধ্যেই দেখি পুলিশের গাড়ি যায় আটটা নাগাদ, সুরে সুরে হর্ন বাজিয়ে যেন হাততালির সঙ্গত করতে করতে। আর আছেন কিছু বাসচালক, যাঁরা প্রায়ই বাসের জানলাটুকু দিয়ে ঘাড় বেঁকিয়ে এদিক ওদিক তাকান আর চোখাচোখি হলে মিষ্টি হাসেন।

দিনের শেষে এইটুকুই তো প্রাপ্তি। যাঁরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন, মানুষকে খাবার-ওষুধ পৌঁছে দিচ্ছেন, তাঁদের কুর্ণিশ। আমি অতি সাধারণ, রান্নাবাটি খেলা আর দুশ্চিন্তার ওপারে এই কয়েকটি অমূল্য হাসি-ধন্যবাদ কুড়োচ্ছি ভবিষ্যতের জন্যে। মানুষের জীবন পদ্মপাতায় জল, “জীন্দগী বড়ী হোনি চাহিয়ে বাবুমশাই, লম্বী নহী।”

 

Tags: , , , , ,

কোরোনার দিনগুলিতে – ২

আজ একমাস হতে চলল লকডাউনের। বাড়ির সামনের ফুটপাথ দিয়ে টুকটুক করে একেকজন দৌড়তে যাচ্ছে। কখনও সকালে, কখনও বিকালে। বসন্তের সকাল দশটার মিঠে রোদে যে বাচ্চাটি হাতে স্কেটবোর্ড নিয়ে পার্কে যাচ্ছে মা/বাবার সঙ্গে, সন্ধ্যা আটটায় পড়ন্ত রোদে হয়ত সে ফিরছে চারিদিকের বারান্দা থেকে সমবেত হাততালির মধ্যে দিয়ে। মানুষের মনে সন্দেহ, ভয়, আশঙ্কা – অসুখের, মৃত্যুর, প্রিয়জনকে হারানোর, পৃথিবীটা হঠাৎ করে ভারশুন্য হয়ে যাওয়ার। আমার মত ক্ষুদ্র মানুষেরা কীই বা করতে পারে বিদেশ থেকে, কিঞ্চিৎ অর্থসাহায্য আর এই দু চার কলম প্রলাপের প্রলেপ মাখানো বাদে। গম্ভীর তথ্য, গরম গরম ফেসবুক পোস্ট, হোয়াটসঅ্যাপে লেখা বিভিন্ন টোটকা যা কোরোনা থেকে মুক্তি দেবে – এসব আমি লিখতে পারিনা। ছোট্ট পাড়াটায় যেটুকু দেখতে পাই – কেউ ঘরের পর্দা সরিয়ে গায়ে রোদ মেখে কম্পিউটারে কাজ করছেন, কেউ অলস দুপুরে কাজ শেষে বারান্দায় বসে রোদ পোহাচ্ছেন, কারুর বাগান নতুন ফুলগাছে উপচে পড়ছে, কেউ মাসখানেকের জামাকাপড় একসঙ্গে কেচে স্ট্যান্ডে শুকোতে দিয়েছেন, কিছু শিশু বাগানে হুটোপাটি করছে পড়াশোনার পরে, কেউ বা কয়েক গেলাস ওয়াইন নিয়ে আরামকেদারায় সারা বিকেল কাটিয়ে দিচ্ছেন।

এ কদিন কাজ করতে করতে খেয়াল করিনি, রোদ উঠেছে বলে মন খারাপের মধ্যেও একটু ভাল লাগছিল। সেদিন টাইপ করতে করতে হঠাৎ তাকিয়ে দেখি সামনের রাস্তায় পাঁচতলা উঁচু গাছগুলোতে পাতা এসে গেছে। নরম রোদে তারা উজ্জ্বল সবুজ হয়ে আছে। ঋতু পরিবর্তনের সময়ানুবর্তীতায় কোনো বদল হয়নি। এদিকে গৃহবন্দী অবস্থায় মাঝে মাঝে দিন/বার গুলিয়ে যাচ্ছে মানুষের। চেরী গাছে খয়েরি পাতার পাশাপাশি সাদা/গোলাপী ফুলের গুচ্ছ দেখা দিয়েছে এর মধ্যে। অন্যান্য বছর পর্যটকরা ঝাঁপিয়ে পড়েন ব্রাসেলসের বিভিন্ন রাস্তায়, হ্যাসেল্টের জাপানিজ গার্ডেনে – মুঠোফোন হাতে, ক্যামেরা কাঁধে, জল-কেক-বিয়ার ব্যাগে ভরে পিকনিকের আশায়। এবারে বাজার করতে গিয়ে কোনোমতে চেরী ব্লসমের ছবি তোলা হয়েছে, সংক্রমণের ভয়ে, আশঙ্কায়। অত্যুৎসাহী জনতা অবশ্য এখানেও চায়ের দোকানের মত ভীড় জমাচ্ছে পার্কে। পুলিশ তাড়া দিলে তাদেরও মনোভাব যেন, ‘পার্কে আসব না আমরা, আসব না আমরা পার্কে?’ সন্ধ্যা নামলে পূর্ণিমার চাঁদ যেন ব্যঙ্গ করে কিছুটা উপরি জ্যোৎস্না ছড়াচ্ছে, এই বিবমিষাময় সময়ের সান্ত্বনা পুরষ্কার হিসাবে।

লকডাউনের আগে ভাগ্যিস দুটো রঙীন প্যানজি ফুলের গাছ কিনেছিলাম। এইটুকু বিলাসিতা করতে পেরেছি বলে এই ধূসর দিনগুলোতেও জানলা আলো করে রয়েছে এক গুচ্ছ ফুল। বারান্দার ছোট্ট বাগানে কল বের করা ছোলা পুঁতেছিলাম, তাতে একটা পুঁচকে গাছ বেরোচ্ছে। কী জানি, সে আরো বেড়ে উঠতে পারবে কিনা। একেবারে ছোলা পেড়ে খাব, সে আশা রাখিনা। শুধু বারান্দাটা আরেকটু সবুজ হয়ে উঠবে, গরমকালের ভোরের মৃদু ফুরফুরে হাওয়ায় কচি গাছগুলো মাথা নেড়ে নেড়ে নাচবে, এটুকু আশা করতে ক্ষতি কী?

 

Tags: , , , , ,

কোরোনার দিনগুলিতে – ১

পয়লা মার্চ। এক সপ্তাহের বসন্তের ছুটির শেষে বেলজিয়ামে ফিরলেন প্রচুর মানুষ। আর পরের দিন থেকে শুরু হয়ে গেল করোনার প্রকোপ। আজ এক মাস পরে এ দেশে করোনা আক্রান্ত ১৫ হাজারেরও বেশি, মৃত এক হাজারেরও বেশি। তেরোই মার্চ থেকে দেশে লকডাউন শুরু হয়েছে। আর কী আশ্চর্য্য, সেদিন থেকে এক একটা দিন শুরু হচ্ছে ঝলমলে রোদ নিয়ে, ম্যাগনোলিয়া গাছগুলো ফুলের ভারে ঝুঁকে পড়ছে, কিছু আগোছালো টিউলিপ ফুটেছে রাস্তার প্রান্তের ছোট্ট বাগান গুলোতে। প্রকৃতির এত আয়োজন, কিন্তু এ বছর তার কদর করার লোকেরা সবাই গৃহবন্দী।

বেলজিয়ামের লোকজন এমনিতে বেশ হাসিখুশি, সকাল বিকেল রাস্তায় পার্কে বাসে ট্রেনে দোকানে অচেনা লোককেও ডেকে প্রীতি সম্ভাষণ করেন। কিন্তু এই করোনাপক্ষে সেসব ফিকে হয়ে আসছে। সুপারমার্কেটে বাইরে লাইনে সবাই দু মিটার দুরত্বে দাঁড়াচ্ছে নিয়ম মেনে, কিন্তু সবাই একটু ম্রিয়মান। একে অপরের দিকে সন্দেহের চোখে তাকাচ্ছে, কে কাশছে, কে হাঁচল তার হিসেব রাখছে। সেসব বাঁচিয়ে কুড়ি মিনিট যখন লাইনে দাঁড়িয়েছি সপ্তাহান্তের বাজার করতে, চকচকে রোদে চোখ তুলে হঠাত লক্ষ্য করলাম পাশের লম্বা ঝাউ গাছটায় গুঁড়ি গুঁড়ি পাতা এসেছে। সিকিউরিটি গার্ডের ডাকে সেসব ফেলে এগিয়ে গেলাম দোকানের ভেতর। ফেরার পথে উল্টোদিক থেকে কেউ আসছে দেখে নিজের অজান্তেই সরে গেলাম দু মিটার দুরত্ব তৈরি করতে। যে ভদ্রলোক আসছিলেন, পাড়ারই কেউ হবেন, আহত চোখে তাকালেন আমার দিকে। আকস্মিক লাফটা একটু বেশিই জোরে হয়ে গেছিল বোধহয়। ক্ষমাপ্রার্থীর দৃষ্টিতে তাকালাম ওঁর দিকে। সামারে এখানে অনেক পাড়াতেই স্ট্রীট পার্টি হয় কোনো একটা রবিবার বিকেলে, যখন রাত দশটা অব্দি রোদ থাকে। ভদ্রলোক কি আমার এই সরে যাওয়াটা মনে রাখবেন ততদিন?

লকডাউন একটু গাঢ় হয়ে কনফাইনমেন্ট শুরু হওয়ার দিন থেকে কিছু উতসাহী ব্যক্তির উদ্যোগে রোজ সন্ধ্যে আটটায় বারান্দায়/জানালায় দাঁড়িয়ে সবাই হাততালি দিচ্ছি। ডাক্তার/নার্স/হাসপাতাল কর্মী/বাস ড্রাইভার/পুলিশ/ডেলিভারি পার্সন/ওষুধের দোকান জাতীয় এমার্জেন্সি কর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন কোভিড-১৯ এর সঙ্গে লড়তে। আর আমরা সাধারণ মানুষেরা বাড়ি বসে, খেয়ে পরে, সিনেমা দেখে দৈনিক পাঁচ মিনিট ওঁদের উতসাহ, সম্মান, ধন্যবাদ দেওয়ার চেষ্টা করছি।

ব্রাসেলসে আমাদের পাড়াটা এমনিতে শান্ত। সবচেয়ে পুরনো বাড়িটা আমাদের উল্টোদিকে, ১৮৯৫ সালে তৈরি। পাড়ার বাসিন্দারাও মোটামুটি বয়স্ক ও বেশিরভাগই নিঃসঙ্গ। এই কদিনে অগুণতি অচেনা মুখ দেখলাম বিভিন্ন বারান্দা, জানালায়। যে কটা বাড়িতে রাস্তার দিকের ঘরগুলিতে কোনোদিনও আলো জ্বলতে দেখিনি, তার বারান্দাতেও দেখি মিষ্টিমত এক বুড়ো দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছেন। আমার দুটো বাড়ি পাশের বারান্দায় হঠাত দেখি একজন বয়স্কা ভদ্রমহিলা হাততালি দিলেন দু দিন ধরে, মৃদু হাসলেন আমাকে দেখে। তারপর দিন তিনেক ওঁর দেখা না পেয়ে চিন্তায় পড়ে গেছিলাম, অসুস্থ হলেন না তো। চারদিনের দিন দেখা পেয়ে নিশ্চিন্ত হলাম। রাস্তার উল্টো দিকে ঠিক সামনের ফ্ল্যাটটায় আরেকজন ষাট ছুঁইছুঁই ভদ্রমহিলা থাকেন। গত তিন বছরে গুণে হয়ত সাত বার বারান্দায় এসেছেন, আমার সাথে আলাপ হয়নি কোনোদিন। আজ দু সপ্তাহ ধরে হাততালির সময় একদিনও বাদ পড়েননি। গত সপ্তাহে আমরা একটু হাঁটতে বেরিয়েছিলাম, হাততালির সময়ের মধ্যে বাড়ি ফিরতে পারিনি। খানিক পরে ফিরে আলো জ্বালিয়ে রান্নাঘরে হাত ধুচ্ছি, দেখি উল্টোদিকের ভদ্রমহিলা বারান্দায় এলেন। আমাকে দেখে হাত পা নেড়ে ইশারায় জিজ্ঞ্যেস করলেন হাততালির সময় ছিলাম না কেন, সব ঠিক আছে তো। আমিও ইশারায় উত্তর দিলাম যে হাঁটতে গেছিলাম। তিন বছরের দুরত্ব এক লহমায় ঘুচে যায় যখন রোজ ওঁর সঙ্গে বারান্দায় দেখা হয়, হাততালি শেষে একে অপরকে বিদায় জানিয়ে আবার যে যার কোটরে ঢুকি।

*লেখাটির একটি অংশ ছাপা হয়েছে আবাপ ডিজিটালে

 

Tags: , , , , , ,

প্রেম, তবু

প্রেম, তবু

দৃশ্য একঃ

রাত নটা। ক্লোজ আপে একটি মেয়ে, লম্বা দোহারা শ্যামলা চেহারা। পরণে হালকা টপ আর জিনস, গলায় একটা পাতলা স্কার্ফ জড়ানো, কাঁধে মোটামুটি ঢাউস একটা ব্যাগ। কর্পোরেট অফিসের হিমঘর থেকে বেরিয়ে করিডরের লকার রুমের দিকে হাঁটা দিল। ব্যাগ খুলে চাবি খোঁজার মত সময় নেই তার, নিজের কিউবিক্ল থেকে চাবিটা বের করে হাতে নিয়ে রেডি হয়ে বেরিয়েছে সে। জেলের কয়েদির মত সংখ্যাযুক্ত নিজের লকার খুলে সে অমূল্য জিনিসটি বের করল – স্মার্টফোন। তার কাজের ধরণটাই এমন যে সারাদিন ফোনের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়। এদিকে…গত দশ ঘন্টায় কে কে পিং করেছে কে জানে।

ফোনের স্ক্রিনের ক্লোজ আপ। Whatsapp নোটিফিকেশন ১০৯ , মিসড কল ৩, Twitter আইকনে ২১টা নোটিফিকেশন।

মেয়েটিঃ উফফ, এই স্কুলের গ্রুপের জনতা আবার পাগল হয়ে গেছে মনে হয় আজকে। কী করে যে এত সময় পায় কে জানে! আমি শালা এদিকে অফিস মারাচ্ছি সারাদিন।

একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফোনটা মুঠোয় নিয়ে সে অফিসের বাইরে এল। রিস্টওয়াচে সময়টা দেখল নটা পনেরো। নির্দিষ্ট ক্যাবটি এলে আরো কয়েকজনের সঙ্গে সে খাঁচায় ঢুকে পড়ল। মিনিট পঁচিশের যাত্রার পুরোটাই লাগল তার সব মেসেজ পড়ে ফেলতে। সবগুলোর উত্তর দেওয়া হল না অবশ্য অত কম সময়ে। বাড়ি ঢুকেই সে কাঁধের ঢাউস ব্যাগটা ছুঁড়ে সোফার ওপর ফেলল। ক্যামেরা একটু ঘুরবে সুদৃশ্য ফার্নিশড ফ্ল্যাটের ভেতর। লং এবং ক্লোজ শটে দেখা যাবে মেয়েটির সঙ্গে আরো দুটি মেয়ে থাকে। একজন তার নিজের ঘরে বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে, সামনে ল্যাপটপ। আরেকজন লিভিং রুমে সোফায় বসে হাঁ করে টিভি দেখছে, হিন্দি সিরিয়াল।

মেয়েটি নিজের কোটরে ঢুকে পড়ল। এরপরে কয়েকটি ফ্রেম আলাদা আলাদা দেখা যাবে – তিনটি মেয়ে যে যার ঘরে খাবার বেড়ে নিয়ে খাচ্ছে, রান্নাঘরটা মোটামুটি গোছানো, তৃতীয় মেয়েটি খেয়ে উঠে আবার সিরিয়াল দেখছে, দ্বিতীয় মেয়েটি খাবার পর বাকিদের গুডনাইট বলে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিল, সে এখন তার বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে ভিডিও চ্যাট করবে। বয়ফ্রেন্ডের চেহারাটা আমরা এক ঝলক দেখব মেয়েটির ল্যাপটপের স্ক্রিনে, হালকা মোটকা মাঝারি দেখতে একটি দক্ষিণী ছেলে। সে স্ক্রিন থেকে হাতমুখ নেড়ে এদের হাই হেলো করবে।

Read the rest of this entry »

 
 

Tags: , , , , , , , , ,

 
VR & G

Vigorous Radiant & Glowing

TINA SEQUEIRA

AUTHOR | MENTOR | MARKETER

যযাতির ঝুলি | বাংলা ব্লগ | Jojatir Jhuli | Bangla Blog

বাংলা কবিতা, বাংলা গদ্য.. মুচমুচে, খাস্তা, অনবদ্য। ছুটির দুপুরে হোক না যোগ.. যযাতির গল্প, ছড়া, ব্লগ।।

feeble Lines

- By Adarsh

Natasha Ahmed

Author at Indireads

জীবনের আয়না

কিছু এলোমেলো ভাবনাচিন্তা

ব্লগম ব্লগম পায়রা

এটা-সেটা লেখা-দেখা...কখনো আনমনে কখনো সযতনে, টুকিটাকি আঁকিবুঁকি...সাদা-কালো সোজা বাঁকা

translations

translations of contemporary, modern and classic bengali fiction and poetry by arunava sinha

Cutting the Chai

India's original potpourri blog. Since 2005. By Soumyadip Choudhury

সাড়ে বত্রিশ ভাজা

একটি বাংলা ব্লগ

MySay.in | Political Cartoons and Social Views

Funny Cartoon Jokes on Latest News and Current Affairs.

Of Paneer, Pulao and Pune

Observations | Stories | Opinions

A Bookworm's Musing

Reading the world one book at a time!

SpiceArt

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

Scrapbook

A Public Performance of Derivative Thinking ;-)

Abhishek's blog অভিষেকের ব্লগ

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

Calcutta Chromosome

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

Bookish Indulgences

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

monalisadesign

Monalisa's creations

of spices and pisces

food and the history behind it.

A Little Blog of Books

Book reviews and other literary-related musings

Scratching Canvas

"আমার চতুর্পাশে সব কিছু যায় আসে, আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা..."

Sapna's Blog

A civilization is only as great as its dreams

The Greatbong Blog & Podcast

Dispensing unsolicited opinions since 2004

%d bloggers like this: